ট্রাম্পের নীতির শিকার শিশুটি ফিরতে পারেনি স্বাভাবিক জীবনে

আপডেটঃ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৯, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ‘শিকার’ এই শিশুটি। মাত্র চার মাস বয়সে মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা হতে হয় তাকে। মার্কিন সীমান্তে পরিবারের কাছ থেকে দুধের শিশুকে কেড়ে নিয়েছিলেন অভিবাসন কর্মীরা। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই নীতি থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। এরপর আট মাস বয়সে মায়ের কোলে ফিরে মাকে আর চিনতেই পারেনি শিশু কনস্তানতিন। এখন দেড় বছর বয়সেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি শিশুটি।

সম্প্রতি একটি মার্কিন সংবাদপত্রের রিপোর্টে উঠে এসেছে শিশুটির কথা। কনস্তানতিন অবশ্য একা নয়। তথ্য বলছে, ট্রাম্পের নীতির জেরে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে ১,৯৫৫ শিশুকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল তাদের মা-বাবার থেকে। পরে তারা পরিবারে ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি।

২০১৮ সালে রোমানিয়া থেকে মার্কিন সীমান্তে এসেছিল কনস্তানতিনের পরিবার। শিশুটির বাবা ভাসিলে ও মা ফ্লোরেনটিনা সংখ্যালঘু রোমা সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘদিনের দাসত্ব, হিংসা, অভাব, বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে আমেরিকায় আশ্রয় নেয়ার কথা ভাবে পরিবারটি। বাড়িঘর বিক্রি করে মেক্সিকোর উদ্দেশে পাড়ি দেন তারা। পাচারকারীরা তাদের মার্কিন সীমান্ত পার করে দেয়ার লোভ দেখায়। নতুন জীবন ও ভালো থাকার ইচ্ছা উপেক্ষা করতে না পেরে পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট দুটিকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন ভাসিলে ও ফ্লোরেনটিনা। কোলে-পিঠে যাচ্ছিল কনস্তানতিনও।

কিন্তু সীমান্তে যাওয়ার জন্য বাস ধরার পরেই আলাদা হয়ে যান ভাসিলে ও ফ্লোরেনটিনা। কনস্তানতিনকে নিয়ে সীমান্তে পৌঁছে যান ভাসিলে। সেখানে পৌঁছতেই কোনও ব্যাখ্যা ছাড়া শিশুটিকে কেড়ে নেন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। পরে ভাসিলে বলেন, ‘ওরা আমায় দু’মাস আটকে রেখেছিল। পুলিশ আমায় দিয়ে ঘর মোছাত। আমি কান্নাকাটি করতাম ছেলের জন্য। ওদের বলেছিলাম, আমি ইংরেজি বুঝতেও পারি না, বলতে পারি না।’

অন্যদিকে, সন্তানসহ ফ্লোরেনটিনাকে রোমানিয়ায় ফেরত পাঠানো হয় সীমান্ত থেকেই। ছেলেকে ফেরত পাওয়ার আশায় দিন গুণতে থাকেন ভাসিলে। তত দিনে মিশিগানে পালক পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় শিশুটি। নিরিবিলি এক গ্রামে আদরযত্নেই বড় হতে থাকে সে। তার সেই বড় হয়ে ওঠার মুহূর্তগুলোর ভিডিও করতে থাকেন পালক মা। কনস্তানতিনের আট মাস বয়সে অভিবাসন-সংক্রান্ত আদালত তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়ার অনুমতি দেন। কিন্তু তত দিনে নিজের মাকে ভুলে যায় দুধের শিশুটি। মায়ের কোলে ফিরেও পালক মায়ের জন্য কান্না থামে না তার। সম্পূর্ণ অন্য পরিবেশে, অন্য ধরনের মানুষের মধ্যে এসে আতঙ্কে ভুগতে থাকে শিশুটি। দরিদ্র পরিবারটির চালচলন, পরিবেশ, দৈনন্দিনের লড়াইয়ে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে। বর্তমানে দেড় বছরের বেশি বয়স হলেও এখনও বুলি ফোটেনি কনস্তানতিনের। একা হাঁটতেও শেখেনি সে।