‘বাজেটে আ.লীগের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন নেই’

আপডেটঃ ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৪, ২০১৯

সি এন এ প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটে নির্বাচনের সময়ে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন নেই বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনের পর সিপিডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট ধরনের বেশকিছু প্রতিশ্রুতি ছিল। আমাদের ধারণা ছিল, ওই সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো উল্লেখ করে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমরা দেখতে পারবে। দুঃখজনকভাবে আমরা এই মুহূর্তে সেটা দেখতে পেলাম না।’

‘মন্ত্রী নিঃসন্দেহে বাজেট বাস্তবতার নিরিখে করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাস্তবতা সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি। উনি প্রত্যাশা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা বলেছেন, সেই প্রত্যাশা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিপূরণ করার জন্য যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকে; বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সেটা কিন্তু অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে,’ বলেন তিনি।

নতুন বাজেটকে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট’ বলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা এটাকে আবেগের বক্তব্য হিসেবেই নিলাম।’

তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন উনি বাস্তবতার নিরিখে একটি বাজেট তৈরি করতে চেয়েছেন, চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখনো বাস্তবতার প্রতিফল দেখা যায়নি।’

‘রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উনি ২২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এটা ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম হবে বলে আমাদের বিবেচনায় আছে। আগামী অর্থবছরের সূচনা বিন্দুর বিবেচনা ভ্রান্ত হয়ে গেল। একইভাবে কিন্তু আপনারা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন দেখেন, সেখানেও আপনারা দেখবেন যেটা আশা করা হচ্ছে শেষ তিন মাসে হবে, সেটা অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবসম্মত না। ফলে আগামী বছরের প্রাক্কলনগুলো বাস্তবতার ভিত্তিতে রচিত হলো না। এটা আমাদের বড় সমস্যার জায়গা।’

ঘাটতি অর্থের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক যে উৎস আছে তার প্রাক্কলন অতিক্রান্ত বছরের সঙ্গে ‘সামঞ্জস্য না হওয়ার’ কারণে প্রাক্কলনগুলো সংশয়পূর্ণ হয়ে গেল বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ব্যাংকের সব থেকে বড় সমস্যা অনাদায়ী ঋণ এবং তারল্য সংকট। এবার বাজেটে যে ঘাটতি অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে, সেখানে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। ব্যাংক এ টাকা কোথায় পাবে? ব্যাংকব্যবস্থা আরও চাপের মধ্যে পড়বে।’