ঈদের তৃতীয় দিনে সড়কে ঝরল ৯ প্রাণ

আপডেটঃ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৮, ২০১৯

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক : ঈদের তৃতীয় দিনে শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। রাইজিংবিডি ডটকমের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও ছবি নিয়ে প্রতিবেদন।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবু ওহাব (৪৫) নামের এক সিএনজি যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের আলাউদ্দিন নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওহাব কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। সে শহরের আল-আমিন গার্মেন্টসের সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি দ্রুত গতিতে কুমারখালি থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে আসছিল। এ সময় অপরদিক থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়াগামী মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সিএনজি যাত্রী আবু ওহাব ছিটকে পড়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় সিএনজিতে মায়ের কোলে থাকা মেঘা নামের চার বছরের শিশু আহত হয়। মেঘাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহত ৪ জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সঞ্জয় কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় একটি মিনি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গেলে তিন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বাঘগোনা এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস। নিহত তিন যাত্রী হলেন- নুর মোহাম্মদ (৩৫), মোহাম্মদ জোবায়ের (৩৫) ও মোহাম্মদ ইদ্রিস (২৫)।

দুর্ঘটনায় আহত নুরুল ইসলাম নামের এক রোহিঙ্গা যাত্রী বলেন, ‘মিনি ট্রাকের হতাহত সব যাত্রী রোহিঙ্গা। তারা উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা। ঈদের ঘোরাঘুরির জন্য তারা মিনি ট্রাকটি ভাড়া করে টেকনাফে আসছিলেন। মিনি ট্রাকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। বাঘগোনা এলাকায় এসে পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারালে মিনি ট্রাকটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।’

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক টিটু চন্দ্রশীল বলেন, হাসপাতালে তিন জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। ১৫ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চকরিয়া : কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো পাঁচ জন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ আলমগীর।

নিহতরা হলেন- চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর ফুলছড়ি এলাকার খলিলুর রহমানের স্ত্রী রওশন আরা বেগম (৪৫) এবং ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চা-বাগান এলাকার দীপক পালের ছেলে সনাক পাল (২৬)।

এসআই আলমগীর জানান, বেলা সাড়ে ১২টায় কক্সবাজারগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চকরিয়াগামী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে এক নারী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় ছয় জন।

মাগুরা:  জেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ইছাখাদা এলাকা ও সদর উপজেলায় দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- একমি ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিনিধি কৃষ্ণ কুমার বাছাড় (৩৫), তার ছেলে সাম্য বাছাড় (৫) ও সোহাগ হোসেন (২৫)। দুর্ঘটনায় কৃষ্ণ কুমারের স্ত্রী নিলিমা বিশ্বাস গুরুতর আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ইছাখাদা এলাকায় মোটরসাইকেলে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে মাগুরা পৌর এলাকার লক্ষ্মীকান্দরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন কৃষ্ণ কুমার। এ সময় দ্রুতগামী একটি বাসের ধাক্কায় তিনি ও তার ছেলে সাম্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্ত্রী স্টাফ নার্স নিলিমা বিশ্বাস গুরুতর আহত হন। তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, সকালে মাগুরা সদরের পাকাকাঞ্চনপুর গ্রামে সোহাগ হোসেন (২৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী ইঞ্জিন চালিত একটি নসিমনের ধাক্কায় নিহত হন।