হোটেল রুমে যা করবেন না

আপডেটঃ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৭, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ঈদ মানেই লম্বা ছুটি, প্রাণভরে নিশ্বাস নেয়ার সুযোগ। ভ্রমণপিপাসু ব্যক্তিরা তাই ঈদ এলেই খুশিতে নেচে ওঠেন। বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে ভ্রমণের জন্য পর্যটকরা দেশে কিংবা বিদেশে হোটেলগুলোয় অতিথি হয়ে থাকেন।

মানুষের একটি স্বভাব হলো কোনো সুযোগ পেলে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা। এ প্রবণতার বশবর্তী হয়ে হোটেলের অতিথিরা এমন কিছু কাজ করেন যা আসলে করা উচিত নয়। এছাড়া নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণেও হোটেল রুমে কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। হোটেল রুমে করা উচিত নয় এমন কিছু কাজ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* বাথরোব চুরি করা
এভরিথিং জেনি ডটকমের ট্রাভেল ব্লগার ও ফটোগ্রাফার রায়াজান ট্রিস্ট্রাম বলেন, ‘অতিথিরা হোটেলে অবস্থানকালে যেসব এসেনশিয়াল অ্যামিনিটি (যেমন- শ্যাম্পু, লোশন ও অন্যান্য ভ্যানিটি প্রোডাক্ট) পেয়ে থাকেন, তা মাঝেমাঝে ঘরে নিয়ে আসেন। কিন্তু অতিথিরা কখনো কখনো বাথরোবও নিয়ে আসেন, যা করা মোটেই উচিত নয়।’ মূল্যবান আইটেম (যেমন- লিনেন, আর্টওয়ার্ক ও ইলেক্ট্রনিক্স) চুরি করার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত চার্জ বা ফাইন করা হতে পারে।

* কোনোকিছু ভেঙে যাওয়া ও তা গোপন রাখা
দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু আপনার হোটেল রুমে কোনোকিছু ভেঙে যাওয়ার বিষয় গোপন রাখলে তা হোটেলের কর্মকর্তা ও ভবিষ্যৎ অতিথির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। দ্য ট্রাভেল ব্লগস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বলেন, ‘একবার এক অতিথির পা ভাঙা কাঁচে কেটে গিয়েছিল। ভাঙা কাঁচ শনাক্ত করা খুব কঠিন, তাই রুম পরিষ্কারের পরও কাঁচের খন্ড থেকে যেতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি কাঁচ ভাঙার কথা গোপন করেন।’ তাই অপরের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে কোনোকিছু ভেঙে যাওয়ার বিষয় গোপন রাখবেন না।

* সঠিক কিচেন এরিয়া ছাড়া রান্না করা
ট্রিস্ট্রাম বলেন, ‘ভ্রমণের সময় আমরা সবসময় অর্থ বাঁচাতে চাই। কিছু অতিথি সঙ্গে করে বহনযোগ্য রান্না সামগ্রী নিয়ে আসেন এবং এটি কিছু সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে হোটেল রুমটিতে কিচেনেট এরিয়া বা রান্না করার জন্য উপযুক্ত জায়গা না থাকলে। এসব রান্না সামগ্রী হোটেলের ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেমকে চালু করে দিতে পারে অথবা আগুনের সূত্রপাত করতে পারে।’

* সুটকেস বা ড্রেসারে মূল্যবান অলংকার রাখা
হোটেল রুমে আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হবে না এমনটা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না- তাই আপনার মূল্যবান স্বর্ণালংকার, ওয়ালেট বা পার্স হোটেল রুমে রাখবেন না, যদি না হোটেল কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা থাকে। কোনো জিনিস চুরি হয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগ করুন।

* গোসলের সময় বাথরুমের দরজা সামান্য খোলা রাখা
হোটেলে বাষ্পীয় স্নান উপভোগ করাতে কোনো ভুল নেই, কিন্তু আপনার রুমে বাষ্প চলে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে সচেতন থাকুন। ট্রিস্ট্রাম বলেন, ‘হোটেলের হট শাওয়ার প্রচুর বাষ্প সৃষ্টি করতে পারে, তাই বাথরুমের দরজা খোলা রাখলে হোটেল রুমের ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম বেজে ওঠতে পারে।’

* স্মোক অ্যালার্ম ঢেকে দেওয়া
কিছু হোটেলে ধূমপায়ীদের জন্য ধূমপান কক্ষ থাকে।কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু অতিথি নিজের রুমে থেকে ধূমপান করার জন্য স্মোক অ্যালার্ম ঢেকে দেয়, যা তাদের ও অন্যান্য অতিথির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়, বলেন কোস্টিং অস্ট্রেলিয়া ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ব্রায়নি সামার।

* বিছানা ভালোভাবে না দেখা
এমনকি সবচেয়ে সুন্দর হোটেলের বেডরুমেও ছারপোকা থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে ক্রায়টন ট্রাভেল ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা মিচ ক্রায়টন বলেন, ‘আমি সবসময় ভ্রমণকারীদের ব্যাগ বাথটাবে রাখতে পরামর্শ দিই, যতক্ষণ পর্যন্ত বিছানায় ছারপোকা আছে কিনা তা ভালোভাবে দেখা না হয়।’

* মিনিবার আবার পূর্ণ করা
হোটেল ফ্রিজ থেকে ড্রিংক করা কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু আপনাকে এর জন্য পরিশোধ করতে হবে। নিউ অরলিন্সে অবস্থিত লা গ্যালেরি হোটেলের কনসালট্যান্ট সোফিয়া বর্গিজ বলেন, ‘যদি হোটেল ফ্রিজ থেকে হুইস্কি পানের পরিকল্পনা করেন, তাহলে মেনে নিন যে এটার জন্য পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু এ পানীয় পান করে অন্য পানীয় দ্বারা বোতল পূর্ণ করে হোটেল কর্মকর্তাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না। এরকম ঘটনা আপনার ধারণার চেয়েও বেশি ঘটে এবং যারা এরকম ঘটনা ঘটায় তাদেরকে জরিমানা দিতে হয়।’

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট