সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে সম্ভাবনা’র ঈদ উৎসব

আপডেটঃ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৩, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ঈদের আনন্দ তো শিশুদের জন্যই। শপিং সেন্টারগুলোতে শিশুদের পোশাকের দোকানে দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। নতুন পোশাক ছাড়া শিশুদের কি ঈদ হয়! শুধু তাই নয়, পোশাক কিনেই লুকিয়ে রাখার চেষ্টাও করে অনেক শিশুই। কেউ দেখলে পুরোনো হয়ে যাবে।

কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু আছে যাদের ঈদ কাটে জরাজীর্ণ পুরাতন পোশাক আর অনাহারে। আমরা কত জনই বা তাদের নিয়ে ভাবি? কত জনইবা সেই সব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি, তাদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি? সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা চিন্তা করে প্রতিবছর তাদের কাছে ঈদের উপহার পৌঁছে দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্ভাবনা।

গতকাল বুধবার, মিরপুরের একটি কমিউনিটি হলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সম্ভাবনার ব্যতিক্রমী ঈদ উৎসব ও ইফতার আয়োজন ‘পুষ্পকলির ঈদ উৎসব ও ইফতার আয়োজন-২০১৯’। এ আয়োজনে সম্ভাবনা পরিচালিত পুষ্পকলি স্কুলের ধানমন্ডি, মিরপুর ও কালসি শাখার ২০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সঙ্গে একই কাতারে ইফতার করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

আয়োজনে শিশুদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সম্ভাবনার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, স্টান্ডার্ড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ তোফাজ্জল আলী, ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম, এডিশনাল ডিরেক্টর মিলটন আহমেদ, সামিট গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজার রাহাদ হোসাইন, নারী উদ্যোক্তা হাসিনা মুক্তা, হাসিনা জান্নাত ছাকি, ইসরাত জাহান, রেশমা জাহান, প্রীতি ইসলাম পারভিন, সম্ভাবনার সভাপতি রবিউল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আল আমিন হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিকা নিশাতসহ সম্ভাবনার স্বেচ্ছাসেবী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীগণ।

স্টান্ডার্ড গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ এবং ওয়ালটন গ্রুপের সহায়তায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয় নতুন পোশাক, সেমাই, চিনি, দুধ, পোলাউ এর চাল ও কিসমিস।

২০১১ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্ভাবনা। ‘বঞ্চিত শিশু ও আগামীর সম্ভাবনা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পথশিশুদের নিয়ে গড়ে তুলতে চায় সম্ভাবনার এক বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি পথশিশুদের জন্য রাজধানীর মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে পুষ্পকলি স্কুল এর মাধ্যমে চালাচ্ছে তাদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। যেখানে শিশুদের সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদান করা হয়। এছাড়া এবছর কালসি’র গুদারাঘাট বস্তিতে ৯০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু নিয়ে চলছে পুষ্পকলি স্কুলের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। পুষ্পকলি স্কুলের তিনটি শাখায় প্রায় ২০০ জন পথশিশুর পাঠদান করা হয়। এছাড়া সম্পূরক শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১০ জন শিক্ষার্থীর লেখাপড়া খরচ, শিক্ষা উপকরণ এবং টিউশন প্রদান করা হয়।

যেহেতু পরিবারের চাপেই শিশুরা স্কুল ছেড়ে কাজে চলে যায় এবং ভিক্ষা বৃত্তিতে নিয়োজিত হয় তাই সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মায়েদের সাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে ‘অনিন্দিত নারী’ নামে কর্মসূচি পরিচালনা করছে সংগঠনটি।