ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

আপডেটঃ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | মে ২৭, ২০১৯

সি এন এ প্রতিবেদক : ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার প্রাক্তন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির শিকার তরুণীর বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়াসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রোববার বিকেলে পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমা সুলতানা  বলেন, ‘সাইবার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এসব তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এখন আদালতে এর বিচার হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় পিটিশন মামলাটি করা হয়। এর বাইরে এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ন করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এমন অভিযোগ উঠলে নুসরাত জাহান রাফিসহ দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। পরে এ অভিযোগ তুলে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন।

অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এর পর গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে নুসরাত জাহান রাফি ওই ভবনের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেন। নুসরাত জাহান রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

নুসরাত জাহান মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়।