ধর্ষণে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, শিক্ষক গ্রেফতার

আপডেটঃ ৬:০২ অপরাহ্ণ | মে ২১, ২০১৯

সি এন এ নিউজ,গাজীপুর :গাজীপুর মহানগরীর সালনা এলাকায় শিক্ষকের ধর্ষণে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানাকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে সালনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা গাজীপুর সদর থানায় মামলা করেন।

গ্রেফতার সোহেল রানা মহানগরের দক্ষিণ সালনা এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সালনা ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক।

মামলার বরাত দিয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, গত বছরের ১২ অক্টোবর সকালে অন্যদের সঙ্গে স্কুলের শিক্ষক মো. রুবেলের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায় ওই ছাত্রী। প্রাইভেট পড়ানো শেষে ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষক রুবেল চলে যান। পরে ওই ছাত্রী ও তার দুই বান্ধবী বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় তাদের শিক্ষক সোহেল রানা ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা আছে বলে তার অপর দুই বান্ধবীকে বাড়িতে চলে যেতে বলে স্কুলের গেট আটকে দেন।

পরে ওই ছাত্রীকে স্কুলের অফিস কক্ষে নিয়ে সোহেল নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় ঘটনাটি কাউকে বললে তাকেসহ পরিবারের সকলকে খুন করার হুমকি দেন শিক্ষক সোহেল রানা।

ভয়ে স্কুলছাত্রী ঘটনাটি তার অভিভাবক বা বাবা-মা কাউকেও জানায়নি। সম্প্রতি মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বজনরা সালনা সেবা মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসা দিতে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলে ওই ছাত্রী প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই ছাত্রী সোহেল রানা কর্তৃক ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির কথা জানায়।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় সোমবার রাতে থানায় মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা। মামলার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সালনা থেকে অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সত্যতা প্রমাণে প্রয়োজনে ভিকটিমসহ সংশ্লিষ্টদের ডিএনএ টেস্ট করা হবে।

স্থানীয় কাউন্সিল তানভীর আহমেদ বলেন, স্কুলশিক্ষক সোহেলের ভাই মো. মামুন মঙ্গলবার সকালে সোহেলকে গ্রেফতারের খবর আমাকে জানিয়েছে। মামুন বলেছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পূর্বশত্রুতার কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।