আটপাড়ায় ছালাম হত্যার প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত ও লুটের ঘটনার তদন্তের দাবি

আপডেটঃ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ | মে ০৮, ২০১৯

মোনায়েম খান, সি এন এ নিউজ, নেত্রকোনা: জেলার আটপাড়ার পালগাও গ্রামের ছালামের প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করা ও নিরীহ মানুষকে হত্যার দায় থেকে মুক্তির জন্য পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার বরাবরে ওই গ্রামের সেলিম আহম্মদ এ আবেদন করেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ও আটপাড়া থানার ওসি বরাবরে অনুলিপি দেয়া হয়েছে। অভিযোগে জানা গেছে, জেলার আটপাড়ার তেলিগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এটিএম শহিদুজ্জামান হেলিমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হাসানের দলীয় ভাবে বিরোধ চলছিল। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় হেলিম নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় বিরোধ আরও বেড়ে যায়। এরই জের ধরে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হাসানের নির্দেশে ১৬ মার্চ বিকেলে জাহাঙ্গীর পাগলার নেতৃত্বে ৯-১০জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামের সেকুলের বাড়ির সামনে ওৎ পেতে থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে হেলিমের ওপর হামলা চালায় এতে হেলিম আহত হলে থাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হাসানের লোকজন ওই গ্রামের জাহাঙ্গীরের দোকানে হামলা চালিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আটপাড়া থানায় ও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে। অন্যদিকে জুয়া খেলা নিয়ে আবদুস ছালামের সাথে অন্যান্য খেলোয়ারদের হাতাহাতি হয়। জুয়া খেলা থেকে দৌড়ে পালানোর সময় চেয়ারম্যানের লোকজন ছালামের পথ রোধ করে হত্যার উদ্দেশের শাবল, বল্লম ও ধাও দিয়ে আঘাত করে। ওইদিনই আহত ছালামকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৪ মার্চ একই এলাকার মো. খায়রুল মিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা জয়নালের নেতৃত্বে ১০-১২জন তার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। খায়রুলের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে রক্ষা করে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায় তাদের পরিবারের যে কোন লোককে মেরে লাশ গুম করে ফেলবে। খায়রুলকে মারতে না পেরে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ছালামের মৃত্যু হয়েছে বলে গুজব ছড়ায়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছালামকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই অন্যত্র নিয়ে যায়। তাকে ময়মনসিংহের ডেল্টা হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখান থেকে গত ২৭ মার্চ এম্বুলেন্সে করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকা মেডিক্যোল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ভর্তি করতে না পাড়ায় বাড়ি ফেরার পথে ওইদিন বিকেলে গাজীপুরের চৌরাস্তায় সে মারা যায়। ছালামের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌছলে গ্রামবাসীর তার লাশের ময়না তদন্ত ও দাফনের ব্যবস্থার জন্য গ্রামবাসীর কাছ থেকে চেয়ারম্যান ফান্ড সংগ্রহ করে। তার জন্য গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বর্ণ অলষ্কার গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল চেয়ারম্যানের কাছে জমা রাখে। আবদুস ছালামের মৃত্যুর রহস্য ও গ্রামের ২৭ টি সাধারন পরিবারের মানুষের ক্ষতির পরিমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি উনত্রিশ লক্ষ পয়ষট্রি হাজার টাকার মালামাল লুটের ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য বের করার জন্য পুলিশ সুপার বরাবরে দাবি জানানো হয়েছে।