প্রবল শক্তিশালী হচ্ছে ‘ফণী’, বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা কম

আপডেটঃ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৮, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ প্রবল শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। রোববারও বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রেখেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

তবে ঘূর্ণিঝড়টি এখনও বাংলাদেশের উপকূল থেকে দেড় হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর শনিবার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ অত্যন্ত প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে তা ভারতের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ নিয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের উদ্বেগের কিছু নেই। কারণ এটা এখনও অনেক দূরে। এটার গতিবিধি আরও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেয়া আছে। এই সংকেত কমপক্ষে আরও ২ দিন বহাল থাকবে। ২৯ ও ৩০ এপ্রিলও ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল থাকবে।’

সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন যে গতিপথ আছে সেই অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।’ রোববার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-৮) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিতে এগিয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

Fony2.jpg

এটি রোববার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬৯৫ কি.মি. দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬২০ কি.মি. দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬৭৫ কি.মি. দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬৩৫ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

আরও বলা হয়েছে, এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি. যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেতের মানে হলো, দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথিমথ্যে বিপদে পড়তে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ২৯ ও ৩০ এপ্রিল প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম (প্রবল ঘূর্ণিঝড়)’ ও ১৭৫ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ‘ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম (অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়)’ এ পরিণত হবে। আগামী ১ ও ২ মে ঘূর্ণীঝড়টি সর্বোচ্চ ১৯৫ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ এ রূপ নিতে পারে।