টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানিতে দিশেহারা কৃষক

আপডেটঃ ১:০৮ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৫, ২০১৬

হবিগঞ্জ : কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের নিচু এলাকার ইরি-বোরো ধানের জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পচন ধরেছে অনেক আধা পাকা জমির ধান গাছেও। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষককূল। ফসল রক্ষার জন্য কৃষকরা হাওর অঞ্চলে পানি প্রবেশের খালগুলোতে এখন স্বেচ্ছায় মাটি ভরাট করে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ করা হয়। আবহাওয়া ভাল থাকায় জমিগুলোতে বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু  কয়েকদিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টি হওয়ার নিচু এলাকার জমিগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু জমির আধা পাকা ধান গাছগুলো মাটিতে ঢলে পড়েছে। ফলে পানি জমে থাকা জমিতে পচে যাচ্ছে আধা পাকা ধানগাছ। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের হাফরার হাওরসহ কয়েকটি হাওর ঘুরে দেখা গেছে, নিচু এলাকার বোরো ধানের জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমিগুলোর ধান না পাকায় কৃষকরা কাটতে পারছেন না। এ ছাড়া অনেক জমির আধা পাকা ধানগাছ পানিতে ঢলে পড়ে পচে যাচ্ছে। অব্যাহত বৃষ্টিতে হাওরের খালগুলো দিয়ে প্রবেশের রাস্তা দিয়ে ঢুকে যাওয়ায় কৃষকরা নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন।

আতুকুড়া-গ্রামবাসী স্বেচ্ছায় হাফরার হাওরের ডুপাজুড়ার খালের পানির প্রবেশের রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এ সময় আতুকুড়া গ্রামের বাসিন্দা সুবিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাব উদ্দিন আখনজী ও আমিরুল ইসলাম আখনজীসহ কয়েকজন জানান, হাফরার হাওরের আতুকুড়া, উমেদনগর, আলমপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ২০০/৩০০ হেক্টর জমি রয়েছে। কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টির পানিতে জমিগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। ডোপাজুড়া খালের বাঁধ নির্মাণ না করলে হাওরের সকল জমি তলিয়ে যাবে। এতে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

তারা জানান, এ হাওরের কৃষকরা ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ করে প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্থ হন। এখানে স্থায়ীভাবে  স্লুইসগেট নির্মাণ করলে জমিগুলো রক্ষা পাবে। তারা ডোপাজুড়া’র খালে স্লুইসগেট নির্মাণের দাবি জানান।

জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহ আলম জানান, জেলার বিভিন্ন হাওরের নিচু এলাকার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে আর বৃষ্টি না হয়ে রোদ হলে জমিগুলো রক্ষা পেতে পারে।