চা নাকি কফি: কোনটি বেশি উপকারী?

আপডেটঃ ২:০৭ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১০, ২০১৯

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক: চা ও কফি, উভয়ের মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা আপনার শরীরের জন্য উপকারী। চা ও কফি তাদের নিজস্ব গুণে  আপনার স্বাস্থ্যের উপকার করে থাকে। কিন্তু উভয়ের উপকারসাধন যে হুবহু একই রকম এমনটা নয়, উপকারিতার দিক থেকে একটি আরেকটির চেয়ে অবশ্যই এগিয়ে আছে। এ প্রতিবেদনে কোনটি (চা অথবা কফি) আপনার জন্য তুলনামূলক ভালো তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

কফির উপকারিতা কি?
গবেষণায় পাওয়া গেছে, কফি পারকিনসন’স রোগ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে, বলেন মিয়ামিতে অবস্থিত প্রিটিকিন লনগিভিটি সেন্টার অ্যান্ড স্পার নিউট্রিশনের ডিরেক্টর ও রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান কিম্বার্লি গোমার।

গবেষণায় এটাও পাওয়া গেছে যে, কফি এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার ও নন-মেলানোমা স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। সারাবিশ্বের ৫০০,০০০ লোকের ওপর চালানো গবেষণা অনুসারে, কফি পানে বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে আসে। এমনকি যারা দিনে আট কাপ কফি পান করেছিল তাদের ক্ষেত্রেও এটা সত্য ছিল (এটা মনে রাখা ভালো যে, অতিরিক্ত কফি পানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে)।

কফিতে খুব বেশি মাত্রায় চিনি ও ক্রিম মেশাবেন না, কারণ অত্যধিক চিনি ও ক্রিম খাওয়ার অপকারিতা কফি পানের উপকারিতাকে অতিক্রম করতে পারে।

* চায়ের উপকারিতা কি?
চা ও গ্রিন টি অথবা ক্যাফেইনযুক্ত চা ও ক্যাফেইনমুক্ত চা, উভয়ের মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা ক্যানসার, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, অস্টিওপোরোসিস ও মাড়ি রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে, বলেন ডায়েটিশিয়ান গোমার।

এসব উপাদানের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও পলিফেনল অন্তর্ভুক্ত আছে, যা রক্তচাপ, মস্তিষ্কের ক্ষয়, স্ট্রোকের ঝুঁকি ও ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত চা পানকারীদের প্রদাহ কম হয়, এর জন্য সম্ভবত এপিগ্যালোকেটেসিন গ্যালেট (ইজিসিজি) নামক উপাদান ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। প্রদাহের সঙ্গে অনেক মেডিক্যাল সমস্যার সম্পৃক্ততা রয়েছে, যেমন- আর্থ্রাইটিস ও হৃদরোগ। ইজিসিজি মস্তিষ্কে প্লেক গঠনের ঝুঁকি কমাতে পারে- মস্তিষ্কের প্লেকের সঙ্গে অ্যালঝেইমার রোগের সম্পর্ক রয়েছে।

* চা বনাম কফি, কোনটি বেশি উপকারী?
একটি মাত্র কারণে চা এগিয়ে আছে: চায়ে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও পলিফেনল থাকে। হ্যাঁ, কফিতেও এসব উপাদান রয়েছে, কিন্তু প্রায়ক্ষেত্রে চায়ের উপাদানগুলোর ঘনত্ব বেশি। কেটোটারিয়ান’র লেখক ও ফাংশনাল মেডিসিন এক্সপার্ট উইল কোলে বলেন, ‘চা ও কফি উভয়ের নিজস্ব উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু সকল চায়ের ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী, প্রদাহ-বিরোধী ও ভাইরাস-বিরোধী উপকারিতা রয়েছে, এর কারণ হলো এতে বিদ্যমান পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কনটেন্ট। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের চায়ের নিজস্ব অনন্য উপকারিতা রয়েছে।’

অবশ্য যদি আপনি ক্যাফেইনের প্রতি স্পর্শকাতর হন, তাহলে উভয় পানীয়ই এড়িয়ে চলতে হবে। কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ চায়ের চেয়ে বেশি। প্রতিকাপ কফিতে প্রায় ৯২ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, যেখানে এককাপ চায়ে থাকে ৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন।

সিক্রেটস অব এ কোশের গার্ল’র লেখক, ওয়ারেন নিউট্রিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ বেথ ওয়ারেন বলেন, ‘যেকোনোটির (চা অথবা কফি) ক্যাফেইন স্পর্শকাতর লোকদের মধ্যে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে, উদ্বেগ বাড়াতে পারে ও ঘুম ব্যাহত করতে পারে।’

যদি আপনি সেসব লোকদের দলে থাকেন যারা প্রতিদিন চা ও কফি উভয়টাই পান করেন, তাহলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই, বরং এ অভ্যাস আরো ভালো। গবেষণা ধারণা দিচ্ছে যে, যারা প্রতিদিন চা ও কফি উভয়টাই পান করে তাদের রোগে মারা যাওয়ার ঝুঁকি, যারা শুধুমাত্র চা অথবা কফিতে চুমুক দেয় তাদের তুলনায় কম। আপনি যেটাই পান করেন না কেন স্বাস্থ্যকর উপায়ে (যেমন- এসব পানীয়তে বেশি চিনি মেশাবেন না) পান করতে হবে, অন্যথায় অপকারিতার ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট