নিকলীতে নৌকা ও মোটর সাইকেলের প্রতিযোগিতাঃ প্রার্থীদের ট্রাম্পকার্ড বিএনপি’র ভোট!

আপডেটঃ ৬:২৮ অপরাহ্ণ | মার্চ ২১, ২০১৯

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় ধাপে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৪ শে মার্চ । উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ১০০,৬৩২ ভোট নিয়ে এ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ) প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে দুই প্রার্থীই তাদের প্রতিযোগিতায় বিএনপির ভোটকে তাদের ট্রাম্পকার্ড মনে করেছেন বলে জানান স্থানীয় ভোটারা।
নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী অংশ না নিলেও সরকার দলীয় দুই প্রার্থী বিএনপির নেতাকর্মী ও ভোটকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির ভোট নিজেদের পক্ষে পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। বিএনপি’র ভোট আদায়ে প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বাণ করছেন, এ কৌশলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নীরব ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচনের শেষ মূহুর্তেও প্রার্থীরা বিএনপি সমর্থিত ভোট আদায়ের লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।
এ নির্বাচনে নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ফাঁটল দেখা দিয়েছে, যে প্রার্থীই বিএনপির ভোট বেশি টানতে পারবেন তিনিই বিজয় ছিনিয়ে আনবেন এমনটা মনে করেন সাধারণ ভোটারা। একারণেই বিএনপির ভোট যেন একটি ট্রাম্পকার্ডে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কারার সাইফুল ইসলাম নৌকার প্রতীক নিয়ে এবং স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ) প্রার্থী, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ইসহাক ভূইয়ার পুত্র এ.এম.রুহুল কুদ্দুস ভূইঁয়া জনি মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠে। তবে দুই প্রার্থীই আওয়ামী লীগের হওয়াতে দলে কোন্দল ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে, তাই দুই প্রার্থীর মধ্যে কঠোর প্রতিযোগিতার লড়াই দেখা যাবে। তারা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে দিবারাত্রি জনসংযোগ করে আসছেন। আরেক প্রার্থী মোঃ নাসিরুজ্জামান আসলাম আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে ও তাকে এ পর্যন্ত ভোটের মাঠে দেখা যায়নি।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কারার সাইফুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে জানান, অন্ধকার নিকলীকে আলোকিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, ব্রীজ-কালর্ভাট, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এলাকাবাসী উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে শতভাগ আশাবাদী আমি।
স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ) প্রার্থী এ.এম.রুহুল কুদ্দুস ভূইঁয়া জনি বলেন, উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমার বাবার সুখ্যাতি রয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় সমাজসেবা ও শিক্ষামূলক কাজ করে আসছি যে কারণে আমার প্রতি ভোটারদের ব্যাপক আস্তা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে আমি অবশ্যই বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ। তাছাড়া ও পরির্বতনের আশায় একক আধিপত্বের শাসন থেকে মুক্তি চায় উপজেলাবাসী।