ফিরে আসবে না জেনেও ‘মিথ্যা স্বপ্ন’ দেখেন এক হতভাগ্য বাবা

আপডেটঃ ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ২১, ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট : বুধবার দুপুর। রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার জামে মসজিদ থেকে ভেসে আসছে জোহরের আজান। এ সময় বহুল আলোচিত অগ্নিকাণ্ডস্থল ওয়াহিদ ম্যানশনের ঠিক বিপরীত দিকে একটি সরু গলির মুখে চেয়ার পেতে বসে আছেন পয়ষট্টির্ধ্বো এক বৃদ্ধ। একটু লক্ষ্য করতেই দেখা যায়, তিনি এক দৃষ্টিতে ওয়াহিদ ম্যানশনের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কী যেন বলছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বৃদ্ধ মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে ওয়াসিরউদ্দিন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম করে চেয়ার পেতে গলির মুখে বসে ওয়াহিদ ম্যানশনের দিকে তাকিয়ে থাকেন তিনি। ছেলে ফিরে আসবে না জেনেও, মহল্লাবাসী কাউকে পেলেই ছেলে ওয়াসিরউদ্দিনের ফিরে আসার স্বপ্নের কথা জানান এই বৃদ্ধ।

আলতাফ হোসেন আরও জানান, নাসিরউদ্দিনের কপালটাই খারাপ। কয়েক বছর আগে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে
অধ্যয়নকালে একমাত্র মেয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর ছেলে ওয়াসিরউদ্দিনকে অবলম্বন করে বেঁচে ছিলেন। কিন্তু রাসায়নিক কেমিক্যাল কারখানা থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে, এখন পাগলপ্রায় বৃদ্ধ নাসিরউদ্দিন ও তার স্ত্রী।

গতকাল চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার একমাস পূর্ণ হয়। এদিন সরেজমিনে গিয়ে ওয়াহিদ ম্যানশনের বিপরীত দিকে একটি সরু গলির মাথায় চেয়ার পেতে বসে থাকতে দেখা যায় এই বৃদ্ধকে।

Old-man-2

নাসিরউদ্দিন জানান, ঘটনার রাতে ওয়াহিদ ম্যানশনের অদূরে বাসা থেকে খাবার পানি আনতে বের হয় ওয়াসিরউদ্দিন। এরপরই সে অগ্নিকাণ্ডের ভেতরে পড়ে। ঘটনার পরদিন তার দগ্ধ লাশটি খুঁজে পাওয়া যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ বলেন, কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়েকে হারালাম। এরপর ছেলেটিই ছিল আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সেই অবলম্বনটুকু হারিয়ে শোকে মৃতপ্রায় স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে আছি। প্রতিটি সেকেন্ড, মিনিট, দিন কাটতে চায়না বলে জানান এই বৃদ্ধ।

তবে এমন ঘটনা আর দেখতে চান না নাসিরউদ্দিন। তিনি পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গুদামের অপসারণ চান। এভাবে আগুণে পুড়ে আর কোনো বাবা-মা যেন তাদের সন্তান না হারায়, সে জন্য নির্দিষ্ট সময় দিয়ে কেমিক্যালের দোকানপাট ও গুদাম উচ্ছেদ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।