ভ্যাটিকানে যৌন নিপীড়ন বিষয়ক ঐতিহাসিক সম্মেলন শুরু

আপডেটঃ ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ক্যাথলিক গির্জায় যৌন নিপীড়ন বিষয়ক ঐতিহাসিক সম্মেলনের সূচনা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস৷ ২১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার এই সম্মেলন শুরু হয়েছে৷

রবিবার পর্যন্ত চলবে সম্মেলন৷ ‘প্রোটেকশন অফ মাইনরস ইন দ্য চার্চ’ শীর্ষক এই সম্মেলনে নানা কর্মশালায়, প্রশিক্ষণ ও আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ পোপ আশা প্রকাশ করেছেন, যাজকদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের, বিশেষ করে শিশু নিপীড়নের যে অভিযোগ রয়েছে, সেটির একটি সমাধান সম্ভব হবে এই সম্মেলনে৷ খবর ডয়চে ভেলের।

সারা বিশ্ব থেকে ১৯০ জন গির্জা প্রধান, ১১৪ জন বিশপ, ১০ নারী প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন এই সম্মেলনে৷ ভ‌্যাটিকান থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা- এই তিন থিমকে সামনে রেখে সম্মেলন সাজানো হয়েছে৷ সম্মেলনের প্রথম তিনদিন একেকটি থিমের ওপর আলোকপাত করা হবে৷ শেষদিন এই তিন থিমকে সম্মিলিত করে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ হবে৷

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের ক্যাথলিক চার্চগুলোতে শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো তুলে আনছিলেন ‘বোস্টন গ্লোব’-এর প্রতিবেদকরা৷ তাদের বের করা সেই সত্য কাহিনি অবলম্বনেই এই জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন টম ম্যাককারথি৷ অস্কারের ছয়টি বিভাগে মনোনীত হয় ‘স্পটলাইট’ এবং সেরা পিকচার ও চিত্রনাট্যের পুরস্কার লাভ করে৷ অপরদিকে ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ২০০৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কায় পায়৷

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্মুক্ত আলোচনা ও বিতর্কে অংশ নেবেন৷ ধর্মীয় উপাসনালয়ে যৌন হেনস্থার শিকারদের বয়ান শোনানোর কয়েকটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে৷ এতে নিপীড়িতরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন এবং যাজকরা সেটি শুনে ভবিষ্যতে কীভাবে এটি বন্ধ করা যায় সে বিষয়ে নীতিমালার প্রস্তাবনা দেবেন৷

ভ্যাটিকান থেকে আরো বলা হয়েছে, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য গির্জার যৌন নিপীড়ন রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা৷ বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার গির্জা ও বিশপদের প্রতি অধিক মনোযোগ দেওয়া হবে এই সম্মেলনে৷ কারণ তাঁরা দাবি করে আসছেন যে, চার্চে এ ধরনের নিপীড়নের কোনো ঘটনাই ঘটে না৷ অথচ অভিযোগ রয়েছে প্রচুর৷

এ সম্মেলন প্রসঙ্গে পোপ বলেন, শিশুদেরকে যৌন হেনস্থা করার যাজকদের অনৈতিক যে চর্চা চলমান, তা থেকে রোমান ক্যাথলিক গির্জাকে মুক্ত করে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে৷

ইতোমধ্যে গির্জায় যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া পাঁচজন তাদের নিপীড়ন অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন৷ তাদের সেই বক্তব্যের ভিডিও দেখানোও হয়েছে ভ্যাটিকানের সম্মেলনে৷

গির্জার নিপীড়নকে স্বীকার করে নিয়ে এর সমাধানের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সম্মেলন নজিরবিহীন আখ্যা পেয়েছে৷ বিশ্ব নেতারা পোপ ফ্রান্সিসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন৷

এর আগেও পোপ ফ্রান্সিস মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে গির্জায় যৌন নিপীড়নের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেন৷ এবং এ ধরনের ঘটনা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন৷