পাবনায় ১০০ দিনে ১৭ খুন

আপডেটঃ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার রুপপুরে বাড়ির গেটে দুর্বৃত্তের গুলিতে গত ৬ ফ্রেবুয়ারি রাতে নিহত হন মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম।

শুধু মুক্তিযোদ্ধা সেলিম-ই নন। তার মতো অনেকেই প্রাণ হারিয়েছে দুর্বৃত্তের হাতে। গত সাড়ে তিন মাসে (১০০ দিনে) জেলায় বিভিন্ন কারণে খুন হয়েছে ১৭ জন। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দশদিনে ৩ জন, জানুয়ারি মাসে ৪ জন, ডিসেম্বর মাসে ৬ জন এবং নভেম্বর মাসে খুন হয়েছে ৪ জন।

পাবনায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে খুনের ঘটনা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তার, পারিবারিক বিরোধসহ নানা কারণে ঘটছে এসব হত্যাকান্ড। একের পর এক এসব খুনের ঘটনায় শঙ্কিত পাবনাবাসী।

জেলা পুলিশের তথ্য মতে, পাবনা গত ১০০ দিনে খুন হয়েছে ১৭ জন। এর মধ্যে মামলা হয়েছে ১৭টি, আর এসব মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ১১ জন।

মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যার পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি দিনেদুপুরে জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে পাবনার চর শিবরামপুর গ্রামে কৃষকলীগ নেতা খাইরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। তার আগে ২ ফেব্রুয়ারি পাবনার বেড়া পৌর সদরের বনগ্রাম উত্তরপাড়া মহল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনে মারা যান স্ত্রী আদুরী খাতুন (২২) ।

জানুয়ারি মাসে খুন হয় ৪ জন। ১৬ জানুয়ারি ভোরে চাটমোহর উপজেলার রামনগর গ্রামে মহিষ চুরি করে পালানোর সময় চোরদলকে রক্ষায় কাভার্ডভ্যান চাপা দিয়ে রব্বান আলী (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে চোরের দল। ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে আতাইকুলা থানার শ্রীপুর বাজারে হাফিজুর রহমান (৩২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০ জানুয়ারি সদর উপজেলার রুপপুর গ্রামে কম্বল দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নজরুল ইসলাম (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে কোপায় অপরপক্ষের লোকজন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়। ২২ জানুয়ারি পাবনা শহরের পৈলানপুরে অটোবাইক স্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী অরিন (১৮) কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ডিসেম্বর মাসে খুনের শিকার ৬ জন। ২ ডিসেম্বর রাতে সুজানগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে সুদের টাকা না পেয়ে কাশিনাথ হালদার (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয় সুদ ব্যবসায়ীর স্বজনরা। ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভাড়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে লস্কর খাঁ (৬৫) ও মালেক শেখ (৪৫) নামের দুইজন নিহত হয়। ৭ ডিসেম্বর দুপুরে সদর উপজেলার চর ঘোষপুর গ্রামে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামিম হোসেন মীম (১৫) নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করে সহপাঠি বন্ধুরা। ১০ ডিসেম্বর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার দিয়ার বাঘইল গ্রামে স্বামীর নির্যাতনে মারা যান গৃহবধু সীমা আক্তার (২৬)। হাসপাতালে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী। ১২ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি গ্রামে নিখোঁজের দু’দিন পর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আসাদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে নভেম্বর মাসেও খুন হয় ৪ জন। ৬ নভেম্বর রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আহমেদ মিশকাত মিশু (২৪) কে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৮ নভেম্বর রাতে আতাইকুলা থানার মধুপুর গ্রামে সোহেল হোসেন (২২) নামের এক যুবককে পুর্ববিরোধের জেরে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০ নভেম্বর বিকেলে বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া গ্রামে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডায় বাবলু শেখ (৪৫) নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ৩০ নভেম্বর সকালে আতাইকুলা থানার দুবলিয়া গ্রামে নিখোঁজের তিনদিন পর মাটিতে পুঁতে রাখা স্কুলছাত্র আবির মাহমুদ অনি (১৪) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বন্ধুরা তাকে হত্যা করে।

এভাবে একের পর এক খুনের ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। হত্যার পর বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অবরোধ কর্মসুচীতে প্রতিবাদ করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না স্বজন ও এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, সাম্প্রতিককালের হত্যাকান্ডগুলো পারিবারিক কলহ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটেছে। পুলিশ এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। হত্যার পরপরই মামলা নিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনেক হত্যা মামলার ক্লু উদঘাটনেও সফল হয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ইতিপুর্বের বিভিন্ন ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী যারা, তাদের ধরতেও চিরুনী অভিযান চলছে।