মাশরাফিদের হারিয়ে ফাইনালে কুমিল্লা

আপডেটঃ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক: পুনরাবৃত্তি হলো না। গ্রুপ পর্বে রংপুর রাইডার্সের কাছে দুবার হারলেও তৃতীয় মুখোমুখিতে প্রতিশোধ নিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর প্রতিশোধ এমন মঞ্চে নিল যখন তাদের জয়টা খুব দরকার ছিল।

গতবার দ্বিতীয় প্লে’অফে রংপুরের কাছে হেরে ফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে যায় ‍কুমিল্লা। কতো নাটকই না হয়েছিল সেই ম্যাচে! বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ দুদিন খেলে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয় তামিমদের। এবার সেই রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল বিপিএলের ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ১৫ ওভারে রংপুরের রান ছিল ৯১। সেখান থেকে শেষ ৫ ওভারে ৭৪ রান পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সব মিলিয়ে রংপুরের রান ২০ ওভারে ১৬৫। রাইলি রুশো ৩১ বলে ৪৪ এবং বেনি হাওয়েল ২৮ বলে করেন ৫৩ রান। জবাবে ৭ বল আগে ৮ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে কুমিল্লা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সতর্ক শুরু করে কুমিল্লা। পাওয়ার প্লে’তে ১ উইকেট হারিয়ে জমা করে ৪৪ রান। পঞ্চম ওভারে মাশরাফির আঘাতে উইকেট হারায় কুমিল্লা। মাশরাফিকে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে তামিম ছক্কা মারার পর শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিড অনে। ১৪ বলে ১৭ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার।

দ্বিতীয় উইকেটে রংপুরের থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে আনেন এভিন লুইস ও এনামুল হক বিজয়। ধারাবাহিক ব্যর্থ হওয়া এনামুল আজ ছিলেন দুর্দান্ত। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাটিং করলেও একাধিক বাউন্ডারি মেরে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। ৩২ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৩৯ রান। লুইস ও এনামুলের ৯০ রানের জুটি ১৬তম ওভারে ভাঙেন শফিউল। দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড হন এনামুল।

শেষটায় শামসুর রহমানের ঝড় বাকি ছিল। ১৫ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষ ওভারে যেতে দেননি ডানহাতি ব্যাটসম্যান। পুরো ইনিংস দারুণভাবে সাজান লুইস। বাঁহাতি ওপেনার ৫৩ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৭১ রান। ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হন তিনি।

এর আগে রংপুরের ইনিংসটি ছিল হাওয়েল ও রুশোময়। একাদশে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও অ্যালেক্স হেলস খেলায় সুযোগ পাচ্ছিলেন না রবি বোপারা ও বেনি হাওয়েল। দুই সেঞ্চুরিয়ান ডি ভিলিয়ার্স ও হেলস আজ ছিলেন না। আজ একাদশে ঢুকেন তারা। রবি বোপারা ব্যাটিংয়ে ভালো করতে না পারলেও হাওয়েল ছিলেন দুর্দান্ত। কুমিল্লার বোলারদের ওপর শেষের ঝড়টা তুলেন ইংলিশ ক্রিকেটার।

নিজের ১৩তম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে হাত খোলা শুরু করেন হাওয়েল। এরপর তাকে আর আটকানো যায়নি। সাইফউদ্দিনের ১৭তম ওভারে এক ছক্কা ও এক চারে ১২ এবং ১৯তম ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারে ১৯ রান তোলেন হাওয়েল। মাঝে ১৮তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজকে মিড অফ দিয়ে উড়ান ছক্কা। অন্যদিকে ইনিংস মেরামতের কাজে ছিলেন রাইলি রুশো। ২২ গজে তার ব্যাটিং দাপট আজও চলেছে। চোখের পলকে খেলেছেন ৪৪ রানের ইনিংস। রুশো ও হাওয়েল পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন ৭০ রান।

এর আগে রংপুর আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতে রান খরায় ভুগতে থাকে। ১০ ওভারে তাদের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৬৭ রান। এর মধ্যে ৩২ বলই ছিল ডট। ক্রিস গেইল ছিলেন গুটিয়ে। ৪৩ বলে করেন ৪৬ রান। তার ইনিংসটি থামে ১১তম ওভারে। মেহেদীর হাতে জীবন পাওয়ার পর তাকেই উইকেট দেন গেইল। ডানহাতি অফস্পিনারকে উড়াতে গিয়ে লং অনে দারুণ ক্যাচ নেন থিসারা পেরেরা। রান পাননি মেহেদী মারুফ (১) ও ক্রিস গেইলের জন্য উইকেট সেক্রিফাইস করা মিথুন (৩)।

রংপুরের স্কোর আরও বড় হতো। কিন্তু ডট বলই তাদের ভুগিয়েছে। পুরো ইনিংসে ডট বল ছিল ৫৪টি! ভাবা যায়?ম্যাচটা যে রংপুর ওখানেই হারিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফাইনালে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ মাশরাফিরা পাবে। বুধবার দ্বিতীয় প্লে’অফে তাদের প্রতিপক্ষ ঢাকা ডায়নামাইটস। ফাইনালে যাওয়ার আগে আরেক ‘ফাইনাল’ খেলে রংপুরকে পেতে হবে ফাইনালের টিকিট।