পাকিস্তানের তেল শোধনাগার নির্মাণে বিনিয়োগ সৌদি আরবের

আপডেটঃ ১১:১১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের একটি গভীর সমুদ্র বন্দরে তেল শোধনাগার নির্মাণের জন্য বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশের গ্বাদর সমুদ্র বন্দরে এই বিনিয়োগের পরিমান দশ বিলিয়ন ডলার বলে রয়টার্সে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রবিবার গ্বাদর বন্দরে দাঁড়িয়ে এ আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল ফালি।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের আর্থিক উন্নয়নের অংশীদার হতে চায় সৌদি আরব। সেই জন্যই বানানো হচ্ছে তেল শোধনাগার। পাশাপাশি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের অংশীদারও হতে চাই আমরা।

মন্ত্রী ফালি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন সৌদির যুবরাজ ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সালমান। সেখানে এ বিষয়ে চুক্তি সই করা হবে।

ওই সময় গ্বাদর সমুদ্র বন্দরে তেল শোধনাগার ছাড়া অন্যান্য বেশ কিছু প্রকল্পেও পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, গ্বাদর বিমানবন্দরেই একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে চীন ও পাকিস্তানের। এই এলাকায় পন্য মজুত, পরিবহন এবং উৎপাদনের জন্য জায়গা দেওয়া হবে বিভিন্ন চীনা কোম্পানিকে।

এই গ্বাদরেই বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে সৌদি আরবের তৈল শোধনাগার বানানোর সিদ্ধান্ত কীভাবে নিচ্ছে চীন, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

গত আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঋণের দায়ে জর্জরিত পাকিস্তানকে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া থেকে উদ্ধার করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কখনও চীন, কখনও সৌদি, কখনও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ঋণ মওকুফ করতে ইমরান আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের সঙ্গেও। এই পরিস্থিতিতে সৌদির এই আর্থিক সাহায্যে আপাতত কিছুটা হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ পেলেন পাকপ্রধানমন্ত্রী, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।