কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে কেন্দুয়ার সুতিসাইডুলী নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবী এলাকাবাসীর

আপডেটঃ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

  মহিউদ্দিন সরকার,সি এন এ নিউজ,কেন্দুয়া : নেত্রকোণার কেন্দুয়ার ঐতিহ্যবাহী গোগবাজারের সুতিসাইডুলী নদী রূপ লাবণ্য হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। বর্ষা কালে ৩-৪ মাস নদীতে পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়।অনেক স্থানে চড় পরেছে।এলাকার সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটেই নদী পারাপার হতে পারে।তাছাড়া,নদীর বুক জুড়ে তৈরী হয়েছে অসংখ্য বীজ তলা। কোথাও কোথাও চাষ করা হয়েছে ধান সরিষা সহ নানা রকম ফসল।
নদীর এমন করুণ দূর্দশার প্রভাব পরেছে নদীর তীরবর্তী কৃষক,জেলে পরিবারের জীবনে।বরো মৌসুমে এই নদীর পানির মাধ্যমে সেচ দিয়ে কৃষকেরা জমি চাষাবাদ করতেন।নদীতে পানি না থাকায় কৃষকেরা বরো চাষ করতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এক সময় এই সাইডুলী নদীই ছিল নদী তীরবর্তী জেলে পরিবার গুলোর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন।কিন্তু দখল,দূষণ ,নাব্যতা সংকট সহ নানাবিধ কারণে নদীর এমন বেহাল দশায় জেলেরাও হয়ে পরেছে কর্মহীন।নদীতে পানি মাছ না থাকায় জেলেরা অনেকেই এ পেশা ছেড়ে নতুন পেশায় যোগ দিয়েছেন।কেউ কেউ আবার জীবিকার টানে এলাকা ছেড়ে শহওে পারি জমিয়েছেন।
এক সময়ের খর¯্রােত সাইডুলি এখন মৃতপ্রায়।প্রায় ১৫ কি.মি দের্ঘ্য ও ৩শ থেকে ৪শ ফিট প্রস্ত সাইডুলি নদী রূপ-লাবণ্য আর মঃস্য সম্পদে ছিল সমৃদ্ধ।কয়েক বছর আগেও এই নদী দিয়ে চলত ছোট বড় অসংখ্য নৌকা।নদীতে পাল তোলা নৌকার মনোরম দৃশ্য দেখে মানুষ আকৃষ্ট হতো।কালের আবর্তে সাইডুলী নদী রূপ-লাবণ্য সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদ কোনটাই আজ আর নেই।সাইডুলী নদীতে এখন আর দেখা মিলে না বাহারী নৌকা চলাচলের দৃশ্য।এক সময় এই নদী পথে ধান,পাট সহ মালামাল নৌকায় পরিবহন করা হতো।নদীপথে বানিজ্যেকে কেন্দ্র করেই তখন সাইডুলী নদীর তীর গড়ে ওঠে ছিল।বানিজ্যে মোকাম নৌঘাটি গোগবাজারে এখন আর নেই।অতীতের স্মৃতি ধারণ করে কালের সাক্ষী হয়ে গোগবাজার এখন শুধু গোগবাজারই রয়ে গেছে।বর্ষা কালে সাইডুলীর বুকে পানি প্রবাহ থাকে।এছাড়া সারাবছরই সাইডুলী নদী রূপে থাকে না।
জানতে চাইলে কেন্দুয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃদেলোয়ার হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান,বর্ষা মৌসুমে নদীতে অভয়াশ্রম স্থাপনের মাধ্যমে আমরা মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জরূরী ভিত্তিতে নদীটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।