হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেয়ার হুমকি শিক্ষার্থীদের

আপডেটঃ ১১:২৪ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

সি এন এ নিউজ,দিনাজপুর:আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ক্লাস ও ক্লাস পরীক্ষা চালু না হলে প্রশাসনিক ভবনসহ সকল বিভাগে তালা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ ভবনের মূল ফটকে তালা দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিজ্ঞান অনুষদ ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেয়ার হুমকি দেন।

দীর্ঘ একমাস বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার খুলেছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। রোববার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু নানা দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম এবং বর্ধিত বেতনের দাবিতে ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপকদের আন্দোলনের মুখে বন্ধ রয়েছে বিজ্ঞান অনুষদ ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ক্লাস-পরীক্ষা। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের লেভেল-১, সেমিস্টিার-২ এর শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। ডিসেম্বরে মিড টার্ম পরীক্ষা হওয়ার কথা অথচ জানুয়ারির দ্বিতীয সপ্তাহ চলছে।

তাই ক্লাস পরীক্ষা চালুর দাবিতে বুধবার সকাল ৯টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ ভবনের মূল ফটকে তালা দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিজ্ঞান অনুষদ ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষার্থীরা। তারা ‘আমাদের দাবি একটাই, ক্লাস পরীক্ষা চালু চাই’ বলে স্লোগান দেন।

এ সময় শিক্ষার্থী বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে ক্লাস পরীক্ষা চালু না হলে প্রশাসনিক ভবনসহ সকল বিভাগে তালা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেবে শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের মূল ফটকের সিঁড়িতে বসে বর্ধিত বেতন সুবিধার প্রাপ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তকৃত দুই শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন পালন করছে ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপক। অন্যদিকে যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষকের বরখাস্তের দাবি নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ঘটনা নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্যতা নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট সুবিধা দেয়ার নিজস্ব কোনো এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করব।