ভরসা থাকলে বিজয় এমনই হয়

আপডেটঃ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

ধর্ম ডেস্ক:হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের ১৭ রমজান অনুষ্ঠিত বদর প্রান্তরের কথা মনে পড়ে যায়। সে দিন বিপুল সংখ্যক অবিশ্বাসীদের সঙ্গে বিশ্বাসী মুসলিমদের যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। তা ছিল ইলাম ও মুসলমানের অস্তিত্বের যুদ্ধ। সে দিন সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম বিজয়। তার একমাত্র কারণ মহান আল্লাহ তাআলার ওপর একান্ত ভরসা।

আল্লাহ তাআলা তার ওপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পোষণকারীদের কিভাবে বিজয় ও সাহায্য করেছিলেন কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা তা সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘নিশ্চয় তোমরা জন্য নিদর্শন হলো পরস্পর সংঘাতময় দু’টি বাহিনী। যারা (বদর রণাঙ্গণের) একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। একটি দল (আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে) লড়াই করেছিল আল্লাহর পথে এবং অপর দলটি (দুনিয়ার লালসা ও নেতৃত্বের লোভে আষক্ত) অবিশ্বাসী। তারা (অবিশ্বাসীরা) বাহ্যিক দৃষ্টিতে (মুসলিমদেরকে সংখ্যায়) দ্বিগুণ দেখছিল। আর আল্লাহ যাকে চান নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় এতে সে সব লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে, যারা অন্তর দৃষ্টিসম্পন্ন (জ্ঞানী ও বিচক্ষণ)।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৩)

আল্লাহর প্রতি প্রচণ্ড আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনকারীদের জন্য কুরআনুল কারিমের এ আয়াত সত্যের পথে চূড়ান্ত বিজয়ের একমাত্র নিদর্শন। আল্লাহর ওপর ভরসা থাকলে বিজয় এমনই হয়। যেভাবে এ আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বদর প্রান্তে ইসলামের প্রথম বিজয়ে মুসলমানদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন-
প্রথমত : মুসলমানদের সাহায্যে রণাঙ্গনে ফেরেশতা প্রেরণ করেছেন।
দ্বিতীয়ত : মুসলমানগণ কাফের/অবিশ্বাসীদেরকে আবার কাফের/অবিশ্বাসীরা মুসলমানদেরকে নিজেদের দ্বিগুণ দেখতে পেয়েছেন।
কাফের অবিশ্বাসীরা মুসলমানদেরকে তাদের দ্বিগুণ দেখার ফলে তাদের মন ভিত-সন্ত্রস্ত এবং আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

পক্ষান্তরে এ কথা সত্য যে, মুসলমানরা কাফের/অবিশ্বাসীদেরকে দ্বিগুণ দেখে একান্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বিরোধীদের মোকাবেলায় সামথ্য ও সাহায্য লাভের দোয়া করেছিলেন।

মুসলিম বাহিনী অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে ইসলামের বিজয়ের জন্য প্রানন্তকর প্রচেষ্টা শুরু করে। আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা ও যুদ্ধে জয়ের প্রচেষ্টায় আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেন।

বদর রণাঙ্গণে যে জিনিসটি বেশি প্রয়োজন ছিল, তাহলো- মনোবল ঠিক রাখা। সাহস রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া। যেহেতু কাফের/অবিশ্বাসীরা নিজেদের দ্বিগুণ সংখ্যায় মুসলমি সৈন্য বাহিনীকে দেখছিল, তাতেই তাদের মাথায় পরাজয়ের আশংকা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত হলো যে, তারা মুসলমানদের দ্বিগুণ সংখ্যক দেখে মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল। আর বাস্তবেও তাই ঘটেছে। ফলে মুসলমানরা বিজয় লাভ করেছে।

এ কারণেই কুরআনুল কারিমের অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আমার ওপর ভরসা করে, তিনি তাদের জন্য (প্রয়োজন পূরণে) যথেষ্ট।’ বদর প্রাঙ্গনে ঘটেছিলও তাই। মুসলিম বাহিন অবিশ্বাসীদের মোকাবেলায় বিজয় লাভ করে।

সুতরাং এখান থেকেই বুঝায় যায়, যে কোনো কাজে বা সংগ্রামে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করা বিজয়ের পূর্বশর্ত। বদরের যুদ্ধ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক জীবন্ত নিদর্শন ও অনুপ্রেরণা লাভের অন্যতম শিক্ষা।

সত্য নিষ্ঠ কাজে বিজয়ের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম ও অক্লান্ত সাধনা এবং মনের একাগ্রতা, সংকল্পের দৃঢ়তা, ধৈর্য ও সহনশীলতার বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যে কোনো কাজে বিজয় ও সফলতা লাভে কঠোর পরিশ্রম, অক্লান্ত সাধনা, মনের একাগ্রতা, দৃঢ় সংকল্প, ধৈর্য ও সহনশীলতা পোষণের পাশাপাশি মহান প্রভুর প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাহায্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। যেভাবে তিনি বদর প্রান্তরে মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেছিলেন। আমিন।