গায়ে আগুন লাগিয়ে সাংবাদিকের আত্মাহুতি

আপডেটঃ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জীবনমানের দুরবস্থা এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে বিপ্লবের ডাক দিয়ে টিউনিশায়ায় সাংবাদিক আব্দেরাজাক জরগুই নিজের গায়ে আগুন দিয়েছেন৷ তাঁর মৃত্যুতে কাসেরাইন প্রদেশে দুদিন ধরে চলছে তীব্র আন্দোলন, যা ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে৷ খবর ডয়চে ভেলের।

উত্তর আফ্রিকার দেশটির বিভিন্ন শহরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের৷ সাংবাদিক আব্দেরাজাক জরগুই সোমবার গায়ে আগুন দেয়ার আগে অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন৷ সেখানে তিনি বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও দুর্নীতি নিয়ে খেদ প্রকাশ করেন৷

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘‘কাসেরাইনের সন্তানরা পড়েছেন অস্তিত্বের সংকটে, তাঁদের জন্য আজ আমি একটি বিপ্লবের সূচনা করছি৷ আমি নিজের গায়ে আগুন দিচ্ছি৷” হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান৷

সোমবার রাতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে৷ বিক্ষুব্ধ যুবকরা গাড়ির টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ জানায়৷ এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুঁড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়৷ অন্তত ছয় জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে৷

মঙ্গলবার জগরুইয়ের শেষকৃত্যের পর আবার সংঘর্ষ শুরুর হয় রাজধানী টিউনিস থেকে ২৭০ কিলোমিটার দূরের শহরটিতে৷ কাসেরাইনের প্রধান সড়কে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ৷

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশগজি মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের রাজনীতি বিষয়ে ওয়াশিংটনে পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখতেন৷ পাশাপাশি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন কট্টর সমালোচক ছিলেন তিনি৷ অক্টোবরে ইস্তান্বুলেন সৌদি দূতাবাসে গেলে সেখানেই নিহত হন তিনি৷ তুরস্ক তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করার অভিযোগ করলেও, সৌদি আরব তা অস্বীকার করে আসছে৷

ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব টিউনিশিয়ান জার্নালিস্টস বলছে,‘সামাজিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এবং হতাশায়’ জরগুই মৃত্যুবরণ করেছেন৷ ইউনিয়ন ধর্মঘটে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছে৷

জরগুইয়ের এই আত্মাহুতি মোহামেদ বোয়াজিজের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়৷ আট বছর আগে এই সবজি বিক্রেতা শোষণ, বেকারত্ব ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করে একইভাবে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন৷

বোয়াজিজের মৃত্যুতে টিউনিশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আরব বসন্তের সূত্রপাত হয়৷ টিউনিশিয়ায় দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক জাইন এল আবেদিন বেন আলীর পতন ঘটে৷

স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলেও অর্থনীতির নিম্ন প্রবৃদ্ধি, দুর্নীতি, নিম্ন জীবনমান এবং আল কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় উপস্থিতি টিউনিশিয়াকে এখনো জর্জরিত করে রেখেছে৷