চাকরি খুঁজতে যেসব নিয়ম ভাঙতে হবে

আপডেটঃ ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

লাইফস্টাইল ডেস্ক : চাকরি খুঁজতে এক সময় যেসব নিয়ম মেনে চলতেন প্রার্থীরা, বর্তমানের ক্রমশ বেড়ে চলা প্রতিযোগিতাপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে হয়তো সেগুলো তেমন কাজে আসবে না। ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ জ্যাক গ্রিন বলেন, ‘এক সময় চাকরির আবেদনপত্র পূরণ করে প্রার্থীরা অপেক্ষা করতেন কোম্পানির পরবর্তী উত্তরের জন্য। কিন্তু এখন বেশিরভাগ কোম্পানি কোনো ধরনের বাড়তি ধরা বাঁধা নিয়ম ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।’ তাই ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা বর্তমানের চাকরি প্রার্থীদের কিছু নিয়ম ভাঙার পরামর্শ দিয়েছেন।

* যোগ্যতা থাকলে আবেদন করুন : বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির বিজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হয়। অনেক সময় আপনার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি শর্ত হয়তো থাকে কোনো কোনো বিজ্ঞাপনে। ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ জাঁ বেউর এর মতে, ‘অনেক সময় চাকরির বিজ্ঞাপনে কাজের যেসব বর্ণনা থাকে, তা একটু বাড়িয়েই লেখা হয়। যদি বিজ্ঞাপনের শর্তগুলোর ৮৫ শতাংশের সঙ্গে আপনার সব যোগ্যতা মিলে যায়, তাহলে আবেদন করে একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিন।’

* সম্ভাবনা বাড়াতে উদ্যোগ নিন : যে কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করছেন আপনি, তার উপর হোম ওয়ার্ক করতে হবে। বিজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী জীবন বৃত্তান্ত ও কভার লেটার লেখা খুব জরুরি। জ্যাক গ্রিনের মতে, ‘কোম্পানির ওয়েবসাইটে বা ঠিকানায় জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেও কিভাবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরো ভালো ভাবে যোগাযোগ করা যায়, তা নিয়ে ভাবুন।’

* অভিজ্ঞতার উপর জোর দিন : বোস্টনের ক্যারিয়ার স্পেশালিস্ট গ্যারি রোমানোর মতে, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ডিগ্রি গুরুত্বপূর্ণ, তবে নিয়োগদাতারা এর উপর বেশি জোর দেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘নিয়োগদাতারা আগে যা বিবেচনা করেন, তা হলো অভিজ্ঞতা। যেকোনো ধরনের অভিজ্ঞতাকেই মূল্যায়ন করেন তারা। কারণ আপনার কাজের দক্ষতা নির্ধারণ করবে অভিজ্ঞতা। যদি তারা জীবনবৃত্তান্তের শুরুতে বা প্রথম দিকে অভিজ্ঞতার কোনো বর্ণনা না দেখেন, তাহলে আপনার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তারা।’

* কল করুন : জীবন বৃত্তান্ত পাঠানোর পর বা ইন্টারভিউ শেষে সাধারণত নিয়োগদাতারা চান যেন চাকরি প্রার্থীরা ফোন না করে। কিন্তু জ্যাক গ্রিনের মতে, বেশি দিন চুপ করে বসে থাকলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা হাত ছাড়া হয়ে যাবে আপনার। তার মতে, ‘জীবন বৃত্তান্ত পাঠানো বা ইন্টারভিউ শেষে কর্তৃপক্ষের উত্তরের অপেক্ষায় চুপ করে বসে থাকা সেকেলে চাকরি খোঁজার নিয়ম। আপনি অপেক্ষায় আছেন মানে কোনো কাজ করছেন না।’ তাই জীবন বৃত্তান্ত আর কভার লেটার পাঠানোর কয়েক দিন পর কর্তৃপক্ষের কাছে কল দিয়ে জেনে নিন আপনার সম্ভাবনার কথা। খুব বেশি প্রার্থী আবেদন করলে, বাছাইয়ের চাপে হয়তো আপনার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন একজনের কথা ভুলে যেতে পারেন নিয়োগদাতারা। তাই একবার বা দুইবার কল করলে তারা বিরক্ত হবেন না। বরং হয়তো এতেই আপনার ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকতে পারেন তারা।

* কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করুন : হয়তো আপনি ধরেই নিয়েছেন চাকরির ইন্টারভিউতে নিজের যতো যোগ্যতা, দক্ষতা আছে সব একে একে তুলে ধরাই সাফল্যের পথ খুলে দেয়। এটা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক নয়। নিজের সব ভালো দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আপনাকে করতে হবে, তা হলো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিদীপ্ত কিছু প্রশ্ন করা। কোম্পানির কাজের পরিবেশ বা বিভিন্ন প্রজেক্ট সম্পর্কে যদি আপনি স্পষ্ট ধারণা না পান, তাহলে সেসব প্রজেক্টে কাজ করার জন্য বা কোম্পানির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে না আপনার। গ্যারি রোমানোর মতে, ‘মনে রাখতে হবে, আপনিও কোম্পানির ইন্টারভিউ নিচ্ছেন। তাই প্রস্তুতি নিয়ে ইন্টারভিউতে যান, যাতে করে নিয়োগদাতাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন করে বুঝতে পারেন এই চাকরিটা আপনার জন্য কতোটুকু উপযুক্ত।’

* বেতনের ব্যাপারে ইতস্তত না করা : ইন্টারভিউতে বেতন নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা না বলা ভালো। তবে বর্তমানের বেশিরভাগ নিয়োগদাতাই পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার আগে কেমন বেতন আশা করেন তা জিজ্ঞেস করেন। এ সময় ইতস্তত করা ঠিক নয়। জাঁ বেউর বলেন, ‘বেতনের চাহিদার কথা জানাতে পারেন আপনি। তবে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনার সর্বনিম্ন প্রত্যাশার চেয়েও যেন  নিয়োগদাতার অফার কম না হয়।’

* প্রত্যাখ্যাত হলেও ভদ্রতা বজায় রাখুন : যদি কোনো কোম্পানিতে আপনি ইন্টারভিউ দিয়েও চাকরি না পান, তাহলে বুঝে নিতে হবে, আপনার চেয়েও বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টিকে সহজে মেনে নিলে আপনার পেশাদারী মানসিকতা প্রকাশ পাবে। জব মার্কেট কনসালটেন্ট মেগান পিটসলে বলেন, ‘অনেক বার আমি বিভিন্ন পদে দ্বিতীয় পছন্দ ছিলাম কর্তৃপক্ষের। আর পরে অনেক বারই চাকরি পেয়েছি আমি। প্রতিবার প্রত্যাখ্যাত হলেও ধন্যবাদ নোট দিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রেখেছি। পাশাপাশি জানিয়েছি ওই সময় কি কাজ করছি আমি। আর এর ফলে কয়েকটি কোম্পানিতে নিয়োগদাতাদের প্রথম পছন্দনীয় প্রার্থী পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের মনোপুত না হওয়ায় আমাকে ডেকেছে তারা। কারণ আমি তাদের সঙ্গে সুন্দর একটি সম্পর্ক বজায় রেখেছি।’