বাদিই যখন হত্যার পরিকল্পনাকারী

আপডেটঃ ৯:৫৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৭, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : আশুলিয়ায় চলন্ত বাস থেকে বাবাকে ফেলে দিয়ে মেয়েকে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পারিবারিক কলহে মামলার বাদি নূর ইসলাম নিজেই হত্যার পরিকল্পনা করে।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা বলেন, মো. নুর ইসলাম, মো. স্বপন ও মোছা. আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার জানান, নূর ইসলাম মামলার বাদি হলেও সেই পরিকল্পনাকারী। হত্যাকাণ্ডে  ব্যবহৃত বাসটি আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বাদি নিজেই। হত্যাকাণ্ডের শিকার জরিনা খাতুনের মেয়ে রোজিনার সঙ্গে বিয়ের পর থেকে জামাই এবং শ্বশুর-শ্বাশুড়ির কলহ চলছিল। ঘটনার সপ্তাহ খানেক আগে এই কলহ মারাত্মক আকার ধারণ করে। জরিনার মেয়ে রোজিনাকে তার স্বামী নূর ইসলাম মারধর করে। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্কে অবনতি ঘটে। রোজিনার স্বামী এবং তার শ্বাশুড়ি পরিবারের কলহের জন্য রোজিনার মাকে দায়ী করেন। এরপরই তারা জরিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নূর ইসলাম, তার মা আমেনা বেগম এবং জরিনার বেয়াই স্বপনের সহযোগিতায় ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে একটি মিনিবাস এবং গাড়ির চালক, কন্ট্রাক্টর ও দুইজন হেলপারসহ ৪ জনকে ভাড়া করে তারা। ঘটনার দিন বাসটি আগে থেকে শিমুলতলা বাসস্ট্যাণ্ডে দাঁড় করানো হয়। স্বপন মেয়ে-বাবাকে বাসে তুলে দেয়। তবে বাসটিতে তারা দুজন ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না।

বাসচালক ও অপর সহযোগীরা বাসটি আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে রাত অনুমান সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়া থানা এলাকার মরাগাঙ আশুলিয়া ব্রিজের উত্তর পাশে প্রথমে জরিনার বাবাকে মারধর করে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর জরিনাকে মারধর করে হত্যা করে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে নিজেদের বাঁচাতে নূর ইসলাম বাদি হয়ে মামলা করেন।