সৌদি প্রবাসী আত্মীয়কে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক গাযী খলিলুর রহমান

আপডেটঃ ৭:১০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৬, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার : পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে কতিপয় ভূমিদস্যুর রোষানলে পড়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন সাংবাদিক গাযী খলিলুর রহমান। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১০ জুন অবিভক্ত টঙ্গী মডেল থানায় (জিডি নং-৪৬৭) এবং ২ অক্টোবর নবগঠিত টঙ্গী পশ্চিম থানায় (জিডি নং-৪৮) পৃথক দুটি জিডি করেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা মডেল থানার সস্তাপুর গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে সন্ত্রাসী হালিম রেজা ওরফে হেলিম রেজা (৪২) গত মে মাসে সৌদি আরবের আফিফ শহরে চাকরিরত সাংবাদিক গাযী খলিলের নিকটাত্মীয় এক যুবককে জিম্মি করে বাংলাদেশে তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে দুই দফায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ইসলামি ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখায় সন্ত্রাসী হালিম রেজা তার সিন্ডিকেটের সদস্য রফিকুল ইসলামের হিসাব নাম্বার ২০৫০১৯৬০২০১৪৬৫৬০৭ এ বিগত ৩রা মে ২০১৮ইং তারিখে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ৭ মে ২০১৮ইং তারিখে একই হিসাব নাম্বারে আরো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আলোচ্য যুবকের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে জমা নিয়ে হাতিয়ে নেয়। এরপর কিছুদিন চুপ থাকার পর পুনরায় বিগত আগস্ট/সেপ্টেম্বর মাসে হালিম রেজার নেতৃত্বে চক্রটি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। সৌদি আরবের আফিফ শহরে এই চক্রের সদস্যদের দিয়ে ওই যুবককে পুনরায় জিম্মি করে আবারো মোটা অংকের টাকা দাবি করে। কিন্তু এবার তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা জানালে সৌদি আরবের আফিফ শহরে সন্ত্রাসী হালিম ওরফে হেলিম রেজার উপস্থিতিতে বাংলাদেশী একশ’ টাকার ৪টি সাদা স্ট্যাম্পে ওই যুবকের কাছ থেকে তার টিপসহি ও স্বাক্ষর জোরপূর্বক নেয়। একপর্যায়ে টিপসহি ও স্বাক্ষর করা সাদা স্ট্যাম্প নিয়ে হালিম ওরফে হেলিম রেজা বাংলাদেশে এসে ওই যুবকের আত্মীয়-স্বজনের কাছে আবারো মোটা অংক দাবি করে। তার দাবিকৃত টাকা না দিলে সাদা স্ট্যাম্প গুলোতে কোটি টাকা পাওনা বলে লিখে নিয়ে ওই যুবক ও তার আত্মীয়-স্বজনের নামে মামলা করার হুমকি দিচ্ছে।
এই খবর শুনে সাংবাদিক গাযী খলিল খোঁজ-খবর নিলে সন্ত্রাসী হালিম রেজা মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে নানাভাবে হয়রানিসহ অপহরণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের অব্যাহত হুমকির কারণে বর্তমানে সাংবাদিক গাযী খলিলুর রহমান চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, হালিম রেজা ওরফে হেলিম রেজা বছরে ৪/৫ বার সৌদি আরবে আসা-যাওয়ার কারণে এলাকায় তাকে সবাই বিস্ময়কর যুবক হিসেবে চিনে। নামে-বেনামে সে অঢেল সম্পদের মালিক। সহজ-সরল মানুষকে জিম্মি করে তাদের সহায়-সম্পদ হাতিয়ে নেয়াই তার প্রধান কাজ। এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত হালিম রেজার সিন্ডিকেটে রয়েছে দেশে বিদেশে ৩০/৪০ জন সদস্য। এই সদস্যরা দেশ বিদেশে বিত্তবানদের খোজ খবর গডফাদার হালিম ওরফে হেলিমের নিকট পৌঁছে দেয়। তারপর এই সিন্ডিকেট নিজেদের সুযোগ মত অপারেশন চালায়। তাদের অত্যাচারে অনেক নিরীহ পরিবার আজ সর্বশান্ত। এই বাহিনীর সদস্যদের মাঝে যারা খুবই ভয়ঙ্কর তারা হলো-মোশারেফ হোসেন (৫০) পিতামৃত মুহাম্মদ ইসমাইল, মাতা কুলসুমের নেছা, গ্রাম মদনপুর, পোঃ হুচ্ছা মিয়া, থানা-নাঙ্গল কোর্ট, জিলা-কুমিল্লা। রফিকুল ইসলাম (৪৩)পিতামৃত-সুলতান আহমেদ, মাতা-সুফিয়া বেগম, গ্রাম-বড়হরন, পোঃ ছোটহরন, থানা +জিলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মোঃ ফারুক সিকদার (৪২) পিতা-ছামির উদ্দিন সিকদার, মাতা-আনোয়ারা বেগম, গ্রাম-বড়সিট, পোঃ নওগাঁও, থানা-কাপাসিয়া, জিলা- গাজীপুর। মোহাম্মদ সেলিম (৪০) পিতা-মান্নান আখন, মাতা-নূরজাহান, গ্রাম-চরভাঙ্গা, থানা-হাইমচর, জিলা-চাঁদপুর। মোঃ আবুল কালাম (৪৮) পিতা মৃত-আব্দুল মান্নান, মাতা-সামসুন্নাহার, গ্রাম-পশ্চিম মেড্ডা নোয়াপাড়া, থানা+জিলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আব্দুল হান্নান(৪৪), পিতা-আব্দুল্লাহ, মাতা-আনোয়ারা বেগম, গ্রাম-পাঠান পাড়া, পোঃ ধৌড়করা বাজার, থানা-চৌদ্দ গ্রাম, জিলা-কুমিল্লা। জয়নুল আবেদীন(৪৫), পিতা -জামাল উদ্দিন, ২১৪ /১, রোড নং-৭, তিলপা পাড়া, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯। তিনি নুরানী তা’লীমুল কোরআন একাডেমীর পরিচালক। দবির হোসেন (৪২),পিতামৃত-মুনসুর হোসেন ফরাজী, মাতা-হনুফা বেগম, গ্রাম-চরগোবিন্দপুর, পোঃ মটের বাজার, থানা+জিলা-মাদারীপুর। এছাড়াও সে (হালিম ওরফে হেলিম রেজা) একজন বড় মাপের প্রতারক। তার পাসপোর্ট নাম্বার এ-০৮১৩৯৬৭। সে (হালিম রেজা ওরফে হেলিম রেজা) এতোই চতুর যে পাসপোর্টে তার জন্মস্থানে জেলার নাম দিয়েছে মুন্সিগঞ্জ। আবার অন্যত্র জন্মস্থানের ঠিকানা দিয়েছে ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগ। তার পাসপোর্টে পেশা উল্লেখ রয়েছে ড্রাইভার। আবার কোম্পানী ডিরেক্টরশীপে পেশা উল্লেখ করেছে ব্যবসা। এমনকি মায়ের নাম নিয়েও সে ছল-ছাতুড়ির আশ্রয় নিয়েছে। মায়ের প্রকৃত নাম মমতাজ বেগম-এর স্থলে পাসপোর্টে দিয়েছে শিলা বেগম। এই গডফাদার ও এদের সিন্ডিকেট সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা ও সাদা স্টাম্প উদ্ধার করে এদের খপ্পর থেকে নিরীহ মানুষকে হেফাজতে রাখার জন্য ভুক্তভোগীরা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আই জি পি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।