যেসব ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন

আপডেটঃ ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১১, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভয়াবহ ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।.

মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলার অপর ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে যেসব ধারায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে-

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ আসামিকে হত্যা মামলায় নিহতদের অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে মৃত্যুদন্ডের পাশাপশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া জখমপ্রাপ্ত ভিকটিমদের অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৭/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ১৯ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বিস্ফোরক ঘটিয়ে এবং উক্ত অপরাধে সহায়তা করে নিহতদের হত্যা করার অভিযোগে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন (সংশোধনী-২০০২) এর ৩ ও ৬ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জখম প্রাপ্ত ভিকটিমদের  অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন (সংশোধনী-২০০২) এর ৪ ও ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে প্রত্যেককে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়ে। অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ১৯ আসামিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং উক্ত অপরাধে সহায়তা করে নিহতদের হত্যা করার অভিযোগে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন (সংশোধনী-২০০২) এর ৩ ও ৬ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাভোগ করতে হবে।

হত্যা মামলায় এ ১৯ আসামিকে নিহতদের অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাভোগ করতে হবে।

একই মামলায় ভিকটিমদের অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৭/১২০খ/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ- , ৫০ হাজার টাকা, অনাদায়ে এক বছরের কারদণ্ড দেয়া হয়েছে।

হত্যা মামলায় প্রাক্তন দুই আইজিপি আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে: কর্ণেল(অব:) সাইফুল ইসলাম ডিউক,  লে: কর্ণেল(অব:) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (পলাতক), মেজর জেনারেল এটিএম আমিন (এলপিআর) (পলাতক), ডিআইজি খান সাঈদ হাসান (পলাতক), পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান খানকে (পলাতক)  দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় দুই বছর ও ২১৭ ধারায় দুই বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে প্রত্যেককে এক বছর করে কারাগারে থাকতে হবে। তাদের  পৃথক দুই ধারা দণ্ডাদেশ এক যোগে কার্যকর হবে বলে আদালত আদেশ দিয়েছেন।

খান সাঈদ হাসান ও মো. ওবায়দুর রহমান খানকে ২০১ ধারায় দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে।

প্রাক্তন আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, এসপি রুহুল আমিন, এএসপি আব্দুর রশিদ, এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমানকে ২১৮ ধারায় দুই বছর এবং ৩৩০ ধারায় তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাবাস করতে হবে। আসামিদের দণ্ডাদেশ একযোগে কার্যকর হবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।

এদিকে মামলায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আর জব্দকৃত আলামত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।