কোষ্ঠকাঠিন্যের ১০ ঘরোয়া চিকিৎসা

আপডেটঃ ১১:০৭ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

সি এন এ  নিউজ,ডেস্ক :কোষ্ঠকাঠিন্যের নিরাময় আপনার খুব কাছেই আছে। কোষ্ঠকাঠিন্য দ্রুত উপশম করতে এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক চিকিৎসা প্রয়োগ করতে পারেন।

* তিলের বীজ

কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি চমৎকার ঘরোয়া চিকিৎসা হচ্ছে, তিলের বীজ। তিলের বীজের তৈলাক্ত গঠন অন্ত্রকে আর্দ্র করতে কাজ করে, এটি শুষ্ক মলের ক্ষেত্রে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করে। সিরিয়াল বা সালাদে তিলের বীজ যোগ করুন অথবা গুঁড়া করে সিজনিংয়ের মতো খাবারে ছিটিয়ে দিন।

* গুড়

বিছানায় যাওয়ার পূর্বে এক টেবিল চামচ গুড় (ব্ল্যাকস্ট্র্যাপ মোলাসেস) সকালে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য নরম করতে পারে। সিদ্ধকৃত ব্ল্যাকস্ট্র্যাপ মোলাসেসের ঘনত্ব তিনগুণ, তাই এটিতে উল্লেখযোগ্য ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে (বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়াম) যা আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দিতে পারে।

* ফাইবার
ফাইবার বা আঁশ, পাইপ ক্লিনারের মতো কাজ করে। এটি আপনার পরিপাক নালী থেকে খাবার ও আবর্জনা পরিষ্কার করে, পানি শোষণ করে এবং মলকে স্তূপ করে। নিয়মিত মলত্যাগ করতে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩৫ গ্রাম ফাইবার ভোজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। ব্র্যান সিরিয়াল, বিনস, ডাল, ওটমিল, কাজুবাদাম, যব, অনেক শাকসবজি ও ফল এবং শুষ্ক ফলে প্রচুর ফাইবার থাকে। এ সকল খাবার কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া চিকিৎসা হতে পারে। যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এবং অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণ করেন, তাহলে আপনার মলকে নরম ও সহজে অতিক্রমযোগ্য করতে সচরাচরের চেয়ে বেশি পানি পান করুন।

* পুদিনা বা আদার চা

কিছু পরিপাক সমস্যা উপশম করতে পুদিনা ও আদার চা প্রমাণিত ঘরোয়া চিকিৎসা। পুদিনায় মেনথল থাকে, যার রয়েছে অ্যান্টিস্প্যাজমোডিক ইফেক্ট যা পরিপাক নালীর মাংসপেশীকে শিথিল করে। আদা একটি উষ্ণ হার্ব যা শরীরের ভেতরে অধিক তাপ উৎপাদন করে, হার্বালিস্টদের মতে এটি ধীর হজমকে দ্রুত করতে পারে। চায়ের গরম পানিও হজমে প্রণোদনা দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

* স্বাস্থ্যকর চর্বি

অলিভ অয়েল, বাদাম ও অ্যাভোক্যাডোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে যা আপনার অন্ত্রকে পিচ্ছিল এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করতে সাহায্য করে। ফাইবার সমৃদ্ধ পাতাযুক্ত শাকসবজির সালাদ এবং অলিভ অয়েল সস, একমুঠো বাদাম অথবা ফল বা টোস্টের সঙ্গে এক টেবিল চামচ প্রাকৃতিক বাদামের মাখন ভালো উপায়। এমনকি আপনি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও শরীরের বেসিক ফাংশনের জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি প্রয়োজনীয়।

* লেবু পানি

লেবুর রসের সাইট্রিক অ্যাসিড আপনার পরিপাকতন্ত্রে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে ও শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করে। লেবু চিপে রস বের করে এক গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে পান করুন অথবা লেবু চা পান করতে পারেন।

* কফি

কফি আপনার কোলন বা মলাশয়কে উদ্দীপ্ত করতে পারে এবং বাথরুমে যাওয়ার হার বাড়াতে পারে। অন্যান্য হট ড্রিংকও কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে: হার্বাল চা অথবা লেবুর রসের সঙ্গে এককাপ গরম পানি বা মধুও আপনার মলাশয়কে উদ্দীপ্ত করতে পারে। কফি মূত্রবর্ধকও, তাই পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করুন।

* কিসমিস

উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ কিসমিসে টারটারিক অ্যাসিডও থাকে, যার রয়েছে রেচক প্রতিক্রিয়া। গবেষণা অনুসারে, কিসমিস কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। চেরি ও অ্যাপ্রিকটও ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে। দইয়ের সঙ্গে এসব ফল খেলে ভালো উপকার পাবেন।

* আলুবোখারা

এই ফাইবার সমৃদ্ধ ফল আপনার হজমকে পুনরায় ট্র্যাকে আনতে ভালো ভূমিকা রাখে। তিনটি আলুবোখারায় তিন গ্রাম ফাইবার থাকে এবং এতে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা অন্ত্রীয় সংকোচন প্ররোচিত করে বাথরুমে যাওয়া নিশ্চিত করতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমের জন্য অন্য একটি চমৎকার ফল হচ্ছে ডুমুর, যা আলুবোখারার মতো বেশি পেটফাঁপা সৃষ্টি করে না।

* ক্যাস্টর অয়েল

এই ঘরোয়া চিকিৎসাটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে আসছে। ক্যাস্টর অয়েলের অন্যতম প্রধান ব্যবহার হচ্ছে, ল্যাক্সাটিভ বা রেচক বা মল-নিঃসারক হিসেবে এর ব্যবহার। খালি পেটে এক থেকে দুই চা-চামচ ক্যাস্টর অয়েল গ্রহণ করুন এবং আট ঘণ্টার মধ্যে ফল পাবেন। কেন? এই তেলের একটি কম্পাউন্ড ভেঙে আপনার বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট