গর্জে উঠেছে তিস্তা, ভেঙেছে বাঁধ নদীতে সড়ক

আপডেটঃ ৯:১৭ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

সি এন এ নিউজ,নীলফামারী :নীলফামারীতে গর্জে উঠেছে তিস্তা নদীর পানি। পানির স্রোতে বিধ্বস্ত হয়েছে বালুর বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ সড়ক। সেই সঙ্গে ব্যাপক হারে বেড়েছে নদীভাঙন। ইতোমধ্যে নদী নিকটবর্তী বেড়িবাঁধ, আবাদি জমি, বাগান, বাঁশঝাড় ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তিস্তার পানি বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচে নেমে এলে ভাঙন বেড়ে যায়। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর দফায় দফায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার অতিক্রম করে। রাত ১১টা পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি ২০ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৮০ মিটার) উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, উজানের ঢল কমে আসায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। তবে সতর্কতার সঙ্গে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

jagonews

এদিকে, উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ, আবাদি জমি, বাগান ও বসতভিটা ডুবে যায়। ঘরে ঢুকে পড়েছে পানি। ভেঙেছে বালুর বাঁধ এবং নদীতে চলে গেছে অ্যাপ্রোচ সড়ক।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। রাতে ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানি, ঝুনাগাছ চাঁপানি, গয়াবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহলপাড়ায় তিস্তা নদীর ডান তীরের চার নম্বর বাঁধের সামনের অ্যাপ্রোচ সড়কের ১০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ি ও দক্ষিণখড়িবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। রাতে আকস্মিক নদীর পানি বাড়ায় দুই গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার নির্ঘুম রাত কাটায়। পানির তোড়ে পূর্বখড়িবাড়ি গ্রামের দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটির ৪০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খালিশা চাঁপানি ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক বিপুল চন্দ্র সেন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। ক্রমাগত পানি বাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। বাঁধ ভেঙে প্রায় পাঁচ শতাধিক বসতঘরে পানি ঢুকে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামার চর, ফরেস্টের চর, সোনাখুলির চর ও ভেন্ডাবাড়ি চরের দেড় হাজার পরিবারের ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। দক্ষিণ সোনাখুলি এলাকায় তিস্তা নদীর ডান তীরের প্রধান বাঁধের অদূরে ইউনিয়ন পরিষদের তৈরি করা মাটির বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় দক্ষিণ সোনাখুলি কুঠিপাড়া গ্রামের আবাদি জমিগুলো তলিয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গ্রামের প্রতিটি বাড়ি হাঁটুপানিতে তলিয়ে ছিল।

jagonews

খালিশা চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার বলেন, পূর্ববাইশ পুকুর ও ছোটখাতার পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাড়িতে রাতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, দক্ষিণ খড়িবাড়ি ও পূর্বখড়িবাড়ি, একতার চর, টাবুর চরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে সহস্রাধিক পরিবারের বাড়িতে ঢুকেছে বন্যার পানি।

খগাখড়িবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, কিসামত ছাতনাই গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবারের বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। প্রতিটি বাড়ি হাঁটুপানিতে তলিয়ে আছে।