গভীর রাতে ক্লাস নেন উপাচার্য, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেটঃ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ গভীর রাতে প্রায়শই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে বাসায় ফিরতে নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ে থাকেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে।

রোববার রাতে ক্লাস শেষে মেসে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এক শিক্ষার্থী। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা গভীর রাত পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস নেন উপাচার্য নিজেই। ওই বর্ষের ছাত্র এলিট ক্লাসের পর মেসে ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে আহত করে ছিনতাইকারীরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে দুই হল থেকে শিক্ষার্থীরা নেমে এসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক হয়ে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে। এ অবস্থা চলে প্রায় ৩ ঘণ্টা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অবস্থান না করা, অনিয়মিত   ক্যম্পাসে এসে গভীর রাত পর্যন্ত ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ সেখানে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। রাত ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছিনতাইকারীর হাতে আহত এলিটকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেদের জিম্মায় নিয়ে রেখেছে। সাংবাদিকের সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। ছাত্রদের অভিযোগ উপাচার্য প্রায়শই গভীর রাতে ক্লাস নেন। ক্লাস শেষে মেসে ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকে। তারা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করে বলা হয়, স্যার ব্যস্ত আছেন। এখন কথা বলতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয় স্বীকার করলেও ছিনতাইকারীর কবলে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘ভিসি স্যার প্রায়ই রাত করে ক্লাস নেন। এই বিষয়টি নিয়ে একটি মহল ছাত্রদের উস্কে দিয়ে বিক্ষোভ করিয়েছে।’’

বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।