নেত্রকোনার মদনে ব্রাজিল-মেক্সিকো খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার মামলায় ৭ জন গ্রেপ্তার

আপডেটঃ ৯:২০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

মোনায়েম খান সি এন এ নিউজ নেত্রকোনা:বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল বনাম মেক্সিকো দলের খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার মদনে প্রতিপক্ষের হামলায় সাইদুর রহমান খান (৬৫) নিহত হওয়ার ঘটনার মামলায় একই দিনে সাত পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

সিআইডি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পর্যায়ক্রমে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল ও ময়মনসিংহ জেলা সদরের বিভিন্ন জায়গায় শনিবার টানা বাইশ ঘন্টা বিরামহীন কৌশুলী অভিযান পরিচালনা করে নেত্রকোনা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই)প্রীতেশ তালুকদারের নেতৃত্বেএকটি টিম। অভিযান চালিয়ে মদন থানার সাইদুর হত্যা মামলার এজাহার ভূক্ত পলাতক আসামী আকাব্বর আলী,রেনু মিয়া,মোঃ হান্নান,আব্দুল মান্নান,আমাতুল্লা ও নজরুল মেম্বারসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের নেত্রকোনা সিআইডি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন।

জানাযায়,গত ৩ জুলাই রাতে মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের সিংহের বাজারের একটি দোকানে বসে এলাকার লোকজন ব্রাজিল বনাম মেক্সিকো দলের খেলা দেখছিল। ব্রাজিল মেক্সিকোকে দুটি গোল দেয়ার পর ব্রাজিল সমর্থক মতিউর রহমান হিমেল (২৫) উল্লাস প্রকাশ করা কালে তার পা লেগে যায় রাজতলা গ্রামের সাইদুর রহমান খানের পুত্র মানু খানের(২৬) পায়ে। এ নিয়ে দু জনের মধ্যে কথা কাটা কাটি ও হাতাহাতি হয়। এরই জের ধরে পরদিন সকালে দ’ুদল সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদেরকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত সাইদুর রহমান খান (৬৫), হাতেম ভূইঁয়া (৫০) ও রাজিব ভূইঁয়াকে (৪৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

আহত সাইদুর রহমান খানের অবস্থার অবনতি ঘটলে ঐ দিনই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। ঢাকা নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান তিনি ।

পরে ৫ জুলাই মৃত সাইদুর রহমান খানের পুত্র মানু খান বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মদন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানা পুলিশ কর্তৃক তদন্তকালীন সময়ে আসামীরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে মামলার কার্যক্রম সিআইডি নেত্রকোনা জেলার উপর ন্যস্ত করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রীতেশ তালুকদার এ ঘটনার ২ মাসের মাথায় সঙ্গীয় ফোর্স সহ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল ও ময়মনসিংহ থেকে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।