উদ্বোধনী দিনে ভুটানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

আপডেটঃ ৯:২১ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক :নয় বছর পর দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফের আয়োজক বাংলাদেশ। আগামীকাল মঙ্গলবার সাফের দ্বাদশ আসরের পর্দা উঠবে। বিকেল চারটায় দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে নেপাল ও পাকিস্তান। আর সন্ধ্যা সাতটায় উদ্বোধনী দিনের অপর ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভুটান। যা সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর টেলিভিশন সম্প্রচার যাত্রা শুরু করবে।

ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় দল ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৮ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশের জয় ৬টিতে। ড্র ১টিতে। আর ভুটানের জয় ১টিতে। সেটি এসেছে ২০১৬ সালে এশিয়া কাপের প্রাক-বাছাই পর্বের ম্যাচে। ঘরের মাঠে তারা বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ৩-১ ব্যবধানে। এটা ভুটানের জন্য প্রথম জয় হলেও বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য হয়ে আছে কালো অধ্যায়। ওই হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ১৭ মাস নির্বাসনে চলে যায় বাংলাদেশ। ওই হারের ২৩ মাস পর আবার ভুটানের মুখোমুখি মামুনুল-নাসিররা। এই ম্যাচকে প্রতিশোধ হিসেবে না দেখলেও জয় ভিন্ন অন্য কিছু চিন্তা করছে না বাংলাদেশ।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের কোচ জিমি ডে বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আমরা বিকেএসপিতে ক্যাম্প করেছি। কাতারে ক্যাম্প করেছি। ক্যাম্প করেছি দক্ষিণ কোরিয়ায়। খেলেছি এশিয়ান গেমসে এবং সবশেষ নীলফামারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। যদিও ওই ম্যাচে আমরা জয় পাইনি। তবে ছেলেরা অনেক ভালো খেলেছে। তারা অনেক সুযোগ তৈরি করেছে। আক্রমণ করেছে। বলের দখল বেশি ছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পায়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওটা ছিল প্রস্তুতি ম্যাচ। প্রস্তুতি ম্যাচ আর সাফের ম্যাচের মধ্যে পার্থক্য আছে। সবকিছু মিলিয়ে সাফের জন্য আমরা প্রস্তুত। আশা করছি ভুটানের বিপক্ষে ছেলেরা তাদের সেরাটা দিয়ে খেলে ভালো ফল আনবে। ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে আমরা সামনে আগাতে চাই।’

বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আমরা চার মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। দলের সবাই খেলতে মুখিয়ে আছে। কালকে ভুটানের বিপক্ষে আমাদের ম্যাচ। আমরা কেবল ভুটানের ম্যাচকে টার্গেট করে খেলব না। শুধু তাদের নিয়ে চিন্তা করতে চাচ্ছি না। আমরা পুরো টুর্নামেন্টকে টার্গেট করে খেলব। অতীতে কী হয়েছে সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না। ভালো খেলা উপহার দিতে চাই। আমি মনে করি আমরা সবাই যদি সবার অবস্থান থেকে নিজের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারি তাহলে সাফে ভালো কিছু করা সম্ভব।’

ভুটানের কোচ ত্রেভর মরগান বলেন, ‘বাংলাদেশ আয়োজক দেশ। তার উপর টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো। ভুটানের বিপক্ষে তারা সব সময়ই ভালো খেলে। সাফে আমরাও চেষ্টা করব ভালো খেলার। এই টুর্নামেন্টে খেলতে আমরা প্রস্তুত। ধন্যবাদ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে।’

ভুটান দলের অধিনায়ক বিরাজ মহারাজও বাংলাদেশকে সমীহ করলেও ভালো খেলার কথা জানিয়েছেন।

এবারের আসরে বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভুটান, পাকিস্তান ও নেপাল। মঙ্গলবার ভুটানের বিপক্ষে খেলার পর বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। আর শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। পরের রাউন্ডে যেতে হলে কমপক্ষে দুটি জয় প্রয়োজন বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল। ২৫ বছর ধরে চলা এই টুর্নামেন্টে ওই একবারই শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। ২০০৫ সালে রানার্স-আপ হয়েছিল। তার আগে ১৯৯৯ সালেও রানার্স-আপ হয়েছিল। সবশেষ ২০০৯ সালে খেলেছিল সেমিফাইনাল। এরপর থেকে গেল তিন আসরে একবারও গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরুতে পারেনি বাংলাদেশ।

২০১১ সালে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ২০১৩ সালেও গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরে বিদায় নেয় লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। ২০১৫ সালে একটি জয় পেলেও ভাগ্য বদলায়নি। গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অর্থাৎ সাফের গেল তিন আসরে নয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টিতে! হার ৮টিতে!

এবার ঘরের মাঠে খেলা। এবার মামুনুল-জামাল ভুঁইয়ারা পারবে কী বাংলাদেশকে সাফের দ্বিতীয় শিরোপা উপহার দিতে? পথটা অবশ্য কঠিন। ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটানের মতো দলগুলো আছে। তারপরও স্বপ্ন দেখতে দোষ কী? ঘরের মাঠে খেলা, তাই আরো একবার শিরোপা জয়ের উল্লাসে ভাসার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ফুটবলপ্রেমীরা।