মহিয়সী নারী গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার

আপডেটঃ ১০:১১ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২৮, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :ফরিদপুরের মেয়ে শামসুন্নাহার চার ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। তার বাবা সামছুল হক ওরফে ভোলা মাস্টার ও মা আমিনা বেগম। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ইসমাইল মুন্সীর ডাঙ্গীতে জন্মগ্রহণ করেন। তারা ২ বোন ও ২ ভাই। সবার বড় তিনি। মা-বাবার স্বপ্নও তাকে নিয়ে ছিল আকাশ ছোঁয়া। মেজো ভাই ডাক্তার। সেজো ভাই হাইকোর্টের আইনজীবী। সবার ছোট বোন স্কুলের শিক্ষিকা। ১৯৯১ সালে ভর্তি হন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে বিএসএস ও ১৯৯৮ সালে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০১ সালে বিসিএস পাস করে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন।

ফরিদদপুরের কৃতি সন্তান শামসুন্নাহার ২০১৬ সালে দেশের প্রথম নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে জাতীয় পুলিশ প্যারেডে নেতৃত্বে দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম গ্রহন করেন। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ হয়ে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক(পিপিএম- প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল) পেয়েছেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। পুলিশ সপ্তাহ- ২০১৭ উপলক্ষে ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর হাতে এ মেডেল তুলে দেন। সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য তার এ পদক। তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালীন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পদকে ভূষিত করা হয়।তিনি মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতনসহ সমাজিক অপরাধমুক্তকরণে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছেন। মাদক ব্যবাসায়ীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তাদের পরিবারকে সতর্ক করার নজীরও রয়েছে তার।

তিনি সুশীল সমাজের সহযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে জেলার জনবহুল এলাকা, হাট বাজারগুলোতে মাদকবিরোধী প্রচারণা করেছেন।পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কথা চিন্তা করে ২০১৫ সালে ১৫ অক্টোবর নারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ সেল গঠন করেন। যেখানে প্রতিদিন নির্যাতিত নারী ও শিশুরা সেবা পেয়েছেন। এতে করে পুলিশ সুপারের প্রতি নারীদের আস্থা অনেকাংশে বেড়েও গিয়েছিল। চাঁদপুরের মত মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ঘোষনার বাস্তবায়ন করবে এটাই গাজীপুরবাসীর দাবী।