কলাপাড়ায় নির্ঘুম রাত কাটছে নারীদের

আপডেটঃ ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১৮, ২০১৮

সি এন এ নিউজ,পটুয়াখালী :আতঙ্কের এক জনপদের নাম মহিপুর। সন্ধ্যা নামলেই পুরুষ ঘরে না থাকলে কোনো নারী ঘরে থাকতে চান না। কারণ কয়েকমাস ধরে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনাকে চুরি কিংবা ডাকাতি হিসেবে অখ্যায়িত করে লোকলজ্জার ভয়ে নারী নির্যাতনের বিষয়টি চেপে যাচ্ছেন স্থানীয়রা।

তবে গত ১৪ আগস্ট রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইভাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ভয়ে ওই এলাকার নারীদের এখন নির্ঘুম রাত কাটছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) রাতে সেরাজপুর গ্রামের ইউনুস ঘরামির মেয়ে সুরভী আক্তার ইভাকে নিজ ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার মা বাড়িতে ছিলেন। পরে কুয়াকাটা হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইভা। পূর্ববিরোধের জেরে ইভাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে মর্মে বুধবার বিকেলে ইউনুস ঘরামি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার বাবলাতলা এলাকা থেকে কাওসার ঘরামি (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ইভার সৎ মা সালমাকে ৪৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসা বাদ শেষে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে। মূল ঘটনা আড়াল করতেই ইভার মাকে গ্রেফাতার করা হয়েছে বলে এলাকারবাসীর অভিযোগ।

সেরাজপুর এলাকার বাসিন্দা মোশারফ ফকির জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের এলাকায় নারীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। ইভা হত্যার পরে সেটির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন আমার পরিবার আর এই গ্রামে থাকতে চায় না। তাই বাধ্য হয়ে নিজের বাড়ি ফাঁকা রেখে মহিপুর বন্দরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছি।

নিহত ইভার বাবা ইউনুস ঘরামি জানান, কিছুদিন আগে কাওছারের ছাগল পেটানো নিয়ে এই ঘটনা ঘটতে পারে। যদি এটি অন্য কিছু হতো তবে আমার স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হতো। কিন্তু আমার স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়নি।

এলাকাবসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ জঘন্য কর্মকান্ড রোধ করা গেলে ইভার ধর্ষন ও হত্যাকান্ডের ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। পুলিশের রহস্যজন আচরনে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ।

মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সন্দেহভাজন আসামি কাওসার ঘরমিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর দিকে ইভার সৎ মা সালাম বেগমেকেও গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কলাপাড়া সার্কেল) জালাল আহমেদ জানান, গত কয়েক দিন ধরে রাতে দুর্বৃত্তরা নারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতন করছে- এমন একটি আতঙ্কের খবর শোনা গেলেও সুনির্দিষ্টভাবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।