ট্রাস্টের অধীনে চলবে কমিউনিটি ক্লিনিক

আপডেটঃ ৩:১৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ৩০, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :প্রকল্পের আওতায় মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো একটি ট্রাস্টের অধীনে আনা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এসব ক্লিনিক।

এজন্য ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘নীতিগত অনুমোদনের জন্য আইনটি উপস্থাপন করা হলেও বিস্তারিত আলোচনার পর কিছু সংশোধন-সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

সচিব বলেন, ‘সারাদেশেই কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবার যে অগ্রগতি তা কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্যই সাধিত হয়েছে। সারাদেশে ১৪ হাজার ৮৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্লিনিকগুলো থেকে সেবাগ্রহণকারীর সংখ্যা ৬২ কোটি ৫৭ লাখ। এসব মানুষকে আমরা সেবা দিতে পেরেছি।’

‘বর্তমানে দেশে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে’ জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, ‘আরও এক হাজার ২৯টি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি ন্যাশনাল অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল আছে। ওই কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইনের খসড়া করা হয়েছে।’

‘ওই ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ট্রাস্টের তহবিল ব্যবহার করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। এজন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সহযোগিতা গ্রহণ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্পদ ও অনুদান সংগ্রহ এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহার। এছাড়া রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পর্যায়ে হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি কার্যকর রেফারেল প্রতিষ্ঠা করা।’

সচিব বলেন, ‘এখন একটি প্রকল্পের আওতায় ক্লিনিকগুলো চলছে। আইনটি হলে ক্লিনিকগুলো ট্রাস্টের আওতায় চলে আসবে।’

নতুন ব্যবস্থায় কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীদের পদমর্যাদা কী হবে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আইনে কর্মীদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্রাচুইটি, অবসর ভাতা প্রদান- এসব সুবিধা রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, একটি প্রবিধানের মাধ্যমে এগুলো নিশ্চিত করা হবে। তারা ট্রাস্টের আওতায় থাকবে। তবে সরকারের যে সুবিধাগুলো আছে সেগুলো সবই তারা পাবেন।’

‘টাস্টে যে কেউ অনুদান দিতে পারবেন’- জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, ‘সরকারি থোক বরাদ্দ থাকবে, অনুদান থাকবে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তি বিশেষ এখানে দান-অনুদান করতে পারবেন।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বলেন, ‘ট্রাস্টে একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী সভাপতি হবেন। এছাড়া একটি বোর্ড থাকবে। যিনি বোর্ডের প্রধান হবেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী মনোনীত খ্যাতিমান ব্যক্তি হবেন। তিনি বোর্ডের সভাপতি হবেন। বোর্ড গঠনের বিবরণ আইনে রাখা হয়েছে।’

‘বোর্ডে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকও থাকবেন’ জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, ‘তার পদমর্যাদা হবে সরকারের অতিরিক্ত সচিব বা সমমর্যাদার। বোর্ডের সদস্য সংখ্যা হবে ১৪ জন। বোর্ডের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগোযোগ থাকবে এবং মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো রোগীর চিকিৎসা দিতে ক্লিনিক যদি ব্যর্থ হয়, যদি জটিল রোগী হয় তবে ক্রমান্বয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে, রেফারেল সিস্টেম থাকবে।’