ছোট্ট মরিয়ম মা হয়ে গেল, ব্রিজ আর হলো না

আপডেটঃ ৩:০০ অপরাহ্ণ | জুলাই ১০, ২০১৮

সি এন এ নিউজ,দিনাজপুর :দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আত্রাই নদীর ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে একটি সেতু জন্য এমপি-মন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিয়েই যাচ্ছে এলাকাবাসী। ফেসবুকে চলছে আন্দোলন সংগ্রামের কার্যক্রম। আন্দোলনকারীরা মানববন্ধনসহ স্থানীয় বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। নির্বাচনের আগে এলাকার মানুষের কাছে সেতু নির্মাণে জন প্রতিনিধিরা আশা দিলেও স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি দীর্ঘ দিনের লালায়িত স্বপ্নের সেতুটি।

সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা গত ১৫ মে সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ২১ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং ২৩ মে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কবে হবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি কেউ। এ দিকে ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট এই সেতুর জন্য জেলার বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়ন, খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নসহ ঠাকুরগাঁও এবং নীলফামারীর লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আর তাই সেতুটি হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে।

Pic-Art-(2)

সরজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও নদী পারপারে জন্য একটি বাঁশের সাঁকো ছিলো। কিন্তু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা। রিকসা-ভ্যান কিংবা অন্য কোনো যানবাহন না থাকায় হাটবাজারসহ জরুরি প্রয়োজনে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সকলকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে নীলফামারী সরকারি কলেজের বাংলা (অনার্স) বিভাগের ছাত্র মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকে কখনও বাঁশের সাঁকো আবার কখন নৌকা দিয়ে নদী পেরিয়ে স্কুল-কলেজে গিয়েছি। স্বপ্ন দেখতাম একদিন সেতুর ওপর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুল-কলেজ যাব। কিন্তু শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও সে স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। সেতুটির প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবে না।

Pic-Art-(5)

খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের বৃদ্ধা বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখি আসুছু নদীটির ওপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো। এলাও ওরকমই আছে। বিয়াও হয়া শ্বশুরবাড়ি গেনু। ছাওয়ালের মা হনু, এ্যালাও ব্রিজ হলি না।

ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ দিনাজপুরের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে, ব্যাপক ভৌত অবকাঠামোগত পরিবর্তন হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটবে, উন্নত চিকিৎসা হাতের নাগালে আসবে, কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে।

Pic-Art-(4)

জানা যায়, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে আত্রাই নদী পার হয়ে পূর্ব দিকের নীলফামারী জেলার ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে খানসামা উপজেলা, আত্রাই নদীর পশ্চিমে ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে ঠাকুরগাঁও ২২ কিলোমিটার মধ্যে পড়ে ঝাড়বাড়ী হাট, বাহাদুর বাজার ও গড়েয়া হাট। এ ছাড়া ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা এবং দক্ষিণে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে বীরগঞ্জ উপজেলার সদরের অবস্থান রয়েছে।

Pic-Art-(1)

উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া, শুখানপুকুরী, বালিয়া, আকচা,পঞ্চগড় জেলার চেংঠী হাজরাডাঙ্গা, সুন্দরদিঘি, ডন্ডপাল ইউনিয়নের বাসিন্দারা আত্রাই নদী পাড়ি দিয়ে নীলফামারী সদর হয়ে বিভাগীয় শহর রংপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অথচ ঝাড়বাড়ী -জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চার জেলার লাখো মানুষ। আত্রাই নদীর এ অংশে সেতু হলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলার সঙ্গে নীলফামারী জেলার সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জ শীল গোপাল বলেন, সেতুটির জন্য এলজিইডির মাধ্যমে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে সেতুটি অল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।