লোকজন আমার চেঁচানোয় অবাক হয়ে যায়!

আপডেটঃ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৬, ২০১৮

বিনোদন ডেস্ক :বিশ্বজুড়ে চলছে ফুটবল উন্মাদনা। বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও বেলজিয়াম ফুটবল দল। সাধারণ মানুষ থেকে শোবিজ অঙ্গনের তারকা, সবাই এখন ফুটবল জ্বরে কাবু।

টালিউড অভিনেত্রী পাওলি দাম ব্রাজিল দলের সমর্থন করেন। শুধু সমর্থন করেন তা নই, বসে বসে প্রিয় দলের খেলাও দেখেন তিনি। প্রিয় দলটি নিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে লিখেছেন পাওলি। জানিয়েছেন ফুটবল ও ব্রাজিল দলের প্রতি তার ভালোবাসার কথা।

পাওলি লিখেছেন, ‘ব্রাজিল গোল করলেই চিল–চিৎকার!‌ তখন আমার থেকে বেশি জোরে কেউ চেঁচাতে পারে বলে মনে হয় না। আশপাশের লোকজন আমার চেঁচানোয় অবাক হয়ে যায়!‌ ওটা আলাদা আনন্দ। বলে বোঝাতে পারব না। হয়ে যায়। স্বতঃস্ফূর্ত।

বিয়ে হয়েছে। শ্বশুরবাড়ি। বউমা। কিন্তু আমি আমার মতো সব জায়গায় থাকি। ব্রাজিল গোল করলে চেঁচাবই। কেউ থামাতে পারবে না। তবে এ বাড়িরও সবাই ফুটবল দেখে। বাঙালি তো বরাবরই ফুটবলপ্রেমী। আর বিশ্বকাপ কে দেখে না?‌ সবাই দেখে। কিন্তু আমার এই ব্রাজিল, ব্রাজিল শুরুটা বাড়ির সবাইকে দেখে। বাবা ফুটবল খেলতেন। বাড়ির সবাই ব্রাজিলের ভক্ত। ব্যস, আমিও হয়ে গেলাম। এক্কেবারে একনিষ্ঠ, বিশ্বাসী ভক্ত। আমার বিশ্বকাপ দেখা নিয়ম করে শুরু ’‌৯৪ থেকে। মানে যে সময় থেকে বুঝতে শিখেছি। খেলা দেখতে দেখতে বাবা বুঝিয়ে দিতেন। বিশ্লেষণ করতেন। সেটা আমার মধ্যে এমন গেঁথে গেছে যে এখনও খেলা দেখতে বসে যদি দেখি কোনো প্লেয়ারের পেস কম, স্পিড কম বা ভুল পাস হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে আমিও বলে উঠি- আরে কী করছে?‌ এটা পাস হলো?‌ বলটা দিল কোথায়?‌ মনে মনে ভাবি, বাবাও তো এমন বলতেন!‌ খেলা দেখতে দেখতে এই যে স্বতঃস্ফূর্ত বকবক, এটা আমার ভালো লাগে। কিন্তু আশপাশের লোকেদের খুব একটা ভালো লাগে বলে মনে হয় না। খুব ইচ্ছে একবার মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখার। গতবার ব্রাজিলে যখন হলো, প্রচণ্ড ইচ্ছে ছিল। যাওয়া হয়নি। এবারও হলো না। পরেরবার কাতারে। কিন্তু তার পরেরবার আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডায়- তখন চেষ্টা করবই। এখনও হয়তো আট বছর বাকি। তবে ভাবনাটা ঘুরপাক খাচ্ছে।

ফিরছি রাশিয়ায়। এবার ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার অকারণে পড়ে যাচ্ছিলেন!‌ সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা নিয়ে তো খুব হাসাহাসি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের পর মেসেজ!‌ সত্যি, কেন যে এতবার পড়ে যাচ্ছিলেন?‌‌ একটুও ভালো লাগেনি। তবে ব্রাজিলের ভক্ত তো। তাই পড়ে–টড়ে গেলেও সমর্থনটা নেইমার পাবেন। ব্রাজিলই পাবে। বিশ্বকাপের আগে নেইমার যখন চোট পেলেন, বেশ চিন্তায় ছিলাম। প্রিয় ফুটবলার চোট পেলে খারাপ তো লাগবেই। তবে ব্রাজিলের ভক্ত মানে শুধু নেইমারকে ভালো লাগে তা কিন্তু নয়। সিলভা, মার্সেলোকেও আমার দারুণ লাগে। চাই ওরা ভালো ফুটবল খেলুন। সলিড ফুটবল। আর নেইমার যেন একটু কম পড়ে যান।

সেই থেকে ব্রাজিল, ব্রাজিল করছি। তার মানে কি মেসি, রোনাল্ডোকে ভালো লাগে না?‌ লাগে। অবশ্যই। দু’‌জনেই খুব ভালো। তুলনা–টুলনা করা ভুল। অন্যায়ও। মেসিকে দেখলে তো অসাধারণ শব্দটাই মনে আসে। ফুটবল টিম গেম। একজনের ওপর নির্ভর করে না। তাও নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির গোলটা ক্লাসিক শট। থ্রি স্টেপ গোল!‌ ওভাবে বলটাকে আয়ত্তে এনে গোল করা-‌ দুর্ধর্ষ ফিনিশ! যদিও এখন আর সম্ভাবনা নেই। কিন্তু খুব ভালো হতো যদি ফাইনালে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা খেলত। ওহ্‌, সেদিন যে কী করতাম!‌ আমার অনেক বন্ধু আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমি বরাবরের ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার ফুটবল দেখে বড় হয়েছি। ফুটবল দর্শকদের কাছে রাতটা মনে রাখার মতো হতো। আমি কিন্তু সেদিনও ব্রাজিলের হয়েই চিৎকার করতাম। তখন আর মেসি–টেসি মাথায় থাকত না। যাই হোক কাপটা কিন্তু নেইমারদের হাতেই চাই।’