লজ্জার হারে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ

আপডেটঃ ১১:১৫ অপরাহ্ণ | জুন ০৯, ২০১৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেরাদুনে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারাল আফগানিস্তান। এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজও জিতল আফগানিস্তান।  আগে ব্যাটিং করতে নেমে আফগানিস্তানকে ১৩৫ রানের লক্ষ্য বেঁধে দেয় বাংলাদেশ। ৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয় পায় স্বাগতিক দল।

স্কোর: আফগানিস্তান ১৩৫/৪ (১৮.৫ ওভার)।

বাংলাদেশ ১৩৪/৮ (২০ ওভার)

ইতিহাস গড়ল আফগানিস্তান: টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কেবল দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে নবী, রশিদ খানরা। সেটাও তিন-তিনবার। আজ বাংলাদেশকে হারিয়ে চতুর্থ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতল আফগানরা।

নবীর ঝড়ে উড়ে গেল রুবেল: আফগানিস্তানের জয়ের জন্য ১২ বলে ২০ রান লাগত। সাকিব বল তুলে দেন রুবেলের হাতে। নিদাহাস ট্রফি ফিরে এল দেরাদুনে। ৫ বলে ২০ রান দিয়ে আফগানিস্তানকে জয় উপহার দেন রুবেল। প্রথম বলে চার, পরের বলে ছক্কা। তৃতীয় বল ডট। চতুর্থ বলে আবার বাউন্ডারি এবং পঞ্চম বলে ছক্কা। সবকটিই মেরেছেন মোহাম্মদ নবী। ১৫ বলে ৩১ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন নবী।

মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড সামিউল্লাহ সেনওয়ারি: বিপদজ্জনক সামিউল্লাহ সেনওয়ারি একাই আফগানিস্তানের রানের চাকা সচল রাখেন। শেষ দিকে তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান মোসাদ্দেক। ডানহাতি অফস্পিনারের বলে তুলে মারতে গিয়ে ৪৯ রানে বোল্ড হন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি।

মোসাদ্দেক ফেরালেন আফগান অধিনায়ককে: এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বল মিস করলেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই। সুযোগটি হাতছাড়া করেননি মুশফিক। স্ট্যাম্প ভেঙে সাজঘরের পথ দেখান স্টানিকজাইকে। মোসাদ্দেক নিজের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে দেন সাফল্য। ৮ বলে ৪ রান করেন আফগান অধিনায়ক।

৩৪ বল পর বাউন্ডারি: বাংলাদেশের বোলারদের ধারাবাহিক বোলিংয়ে মাথা তুলে দাড়াতে পারছে না আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। ৩৪ বল পর প্রথম বাউন্ডারির স্বাদ পেয়েছে তারা।  সাকিবের করা পঞ্চম ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ শাহজাদ বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন। এরপর ৩৩ বলে কোনো চার-ছক্কা হয়নি। রুবেলের করা ১১তম ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মেরে শেকল ভাঙেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি।

রুবেলের শিকার গনি: রুবেলের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন আফগানিস্তানের ওপেনার উসমান গনি। ৩১ বলে ২১ রান করেন ডানহাতি ওপেনার। বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাটিংয়ে ভুগছে আফগানরা।

প্রথম ওভারেই রনি সাফল্য: দলে ফিরে ভালো সময় কাটাচ্ছেন পেসার আবু হায়দার রনি। বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই দলকে দিলেন সাফল্য। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছেন বাঁহাতি পেসার। ১৮ বলে ২৪ রান করে রনির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শাহজাদ।

অপুর দুই মেডেন: স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরুতেই প্রয়োজন ছিল উইকেটের। সেটা হয়নি। কিন্তু ধারালো আক্রমণ করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। তার করা প্রথম দুই ওভার থেকে কোনো রানই নিতে পারেনি আফগানিস্তানের ওপেনাররা। শুরুতেই ভালো বোলিং করায় এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

রনির ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি: রশিদ খানের ঘূর্ণিতে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ দুই ওভারে দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিয়েছেন বোলার আবু হায়দার রনি। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এর ২৬ রানই এসেছে শেষ দুই ওভারে!

১৪ বলে ২ ছক্কা ও এক চারে ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন রনি। ৩ বলে এক চারে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন নাজমুল ইসলাম অপু। সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে।

সৌম্যও ব্যর্থ: প্রথম ম্যাচে একাদশে ছিলেন না। দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে এসেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না সৌম্য সরকার। নিজের আগের ওভারে ৩ উইকেট নেওয়ার রশিদ খানের শিকার হয়েছেন তিনিও (৩)। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রশিদ। ডট বল ১৩টি!

রশিদ খানে এলোমেলো বাংলাদেশ: প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন রশিদ খান। আফগানিস্তানের এই লেগ স্পিনার আজ এক ওভারেই নিলেন ৩ উইকেট! ১৬তম ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা এই বোলার।

প্রথম বলে নজিবুল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক সাকিব (৩)। চতুর্থ বলে বোল্ড তামিম (৪৩)। পরের বলে মোসাদ্দেককে এলবিডব্লিউ করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন রশিদ। ৪ উইকেটে ১০১ থেকে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ১০৩!

পারলেন না মাহমুদউল্লাহ: মুখোমুখি প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। করিম জানাতের বলে বোল্ড হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান (১৪)। ১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ৯৩।

স্টাম্পড হলেন মুশফিক: বেশ দারুণই খেলছিলেন। কিন্তু মোহাম্মদ নবীর বলে স্টাম্পড হয়ে গেলেন মুশফিকুর রহিম। ১৮ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ৩২ রান করেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান।

টিকলেন না সাব্বির: আগের ওভারে পেসার শাপুর জাদরানের শেষ তিন বলে তিন চার মেরেছিলেন সাব্বির রহমান। পরের ওভারে নিজের মুখোমুখি প্রথম বলেই আউট ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। স্পিনার মোহাম্মদ নবীকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন ৯ বলে ১৩ রান করা সাব্বির।

বাজে শটে ফিরলেন লিটন: বাজে শটে শুরুতেই আউট হয়েছেন লিটন দাস। পেসার শাপুর জাদরানের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান (১)। বাংলাদেশের স্কোর তখন ১ উইকেটে ১ রান।

টস: বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাংলাদেশ দলে দুই পরিবর্তন: আজ বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন এসেছে। আবুল হাসান রাজু ও আবু জায়েদ রাহী বাদ পড়েছেন। দলে এসেছেন সৌম্য সরকার ও আবু হায়দার রনি। আফগানিস্তান প্রথম ম্যাচের একাদশ নিয়েই খেলছে।

 

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতেছেন সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশ দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন ও নাজমুল ইসলাম অপু।

আফগানিস্তান দল: আসগর স্টানিকজাই (অধিনায়ক), মোহাম্মদ শাহজাদ, উসমান গনি, মোহাম্মদ নবী, নজিবুল্লাহ জাদরান, শফিকউল্লাহ, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, সামিউল্লাহ সেনওয়ারি, করিম জানাত ও শাপুর জাদরান।

জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের: সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে আফগানরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। আজ হারলে সিরিজ হারবে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে বড় কোনো অর্জন হবে না, কিন্তু হারলে তা হবে লজ্জার।


ম্যাচের আগে শেষবারের মতো নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন সাকিবরা।

ইতিহাস গড়ার হাতছানি আফগানিস্তানের: গত বছর টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে আফগানিস্তান। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কেবল দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে নবী, রশিদ খানরা। সেটাও তিন-তিনবার। আজ বাংলাদেশকে হারালে চতুর্থ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতবে আফগানরা।

সাকিব ১ উইকেটের অপেক্ষা: তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান ও ৫০০ উইকেটের ডাবল ছোঁয়ার অপেক্ষায় সাকিব আল হাসান। বর্তমানে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সাকিবের রান ১০ হাজার ৮৯ এবং উইকেট ৪৯৯টি। জ্যাক ক্যালিস এবং শহীদ আফ্রিদি ছাড়া এই রেকর্ড আর কোনো ক্রিকেটার করে দেখাতে পারেননি।