রমজান ও জুমআর দিনে মৃত্যুবরণের আলাদা কোনো ফজিলত আছে কী?

আপডেটঃ ১০:০৯ অপরাহ্ণ | জুন ০৭, ২০১৮

ধর্ম ডেস্ক :সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে, জুমআর দিনের মৃত্যু বা রমজান মাসের মৃত্যুতে বান্দার জন্য জান্নাত রয়েছে। এটা মৃতব্যক্তির জন্য খোশনসিব। তবে মৃতব্যক্তির জন্য জান্নাত জাহান্নামের কোনো সুসংবাদ না থাকলেও জুমআর দিন মৃত্যুবরণকারী ঈমানদার মুসলমানকে কবরের ফেতনা থেকে মুক্ত রাখা কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোনো মুসলমান জুমআর দিনে কিংবা জুমআর রাতে মৃত্যুবরণ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে নিরাপদ রাখেন। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, বাইহাকি, মিশকাত)

এ হাদিসটির ব্যাখ্যায় এসেছে যে, ফেতনা দ্বারা কবরের মুনকার-নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদ অথবা কবরের আজাবকে বুঝানো হয়েছে। হজরত আবু নুআ’ইম তার হিলয়া’ গ্রন্থে হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাতে কবরের আজাবের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল কথা হলো-

যে ব্যক্তি ঈমান ও আমলি জীবন-যাপন করে মৃত্যুবরণ করবে, সে ব্যক্তি যে দিন বা মাসেই মৃত্যুবরণ করুন না কেন, পরকালের সফলতা তার জন্য সুনিশ্চিত। এ কারণেই কুরআনে জান্নাতের সুসংবাদের প্রত্যেক আয়াতে ঈমানের সঙ্গে আমলের কথা বলা হয়েছে। আর তাতে জান্নাতের যাবতীয় নেয়ামতের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

আবার অনেকের প্রশ্ন?

মুসলিম হোক আর অমুসলিম হোক; যারা সমাজে ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে, পরকালে তাদের কাজের বিনিময় কী তারা পাবে না?

আল্লাহ তাআলা এ প্রশ্নের উত্তরও কুরআনের অনেক স্থানে সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন। সব ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজের পুরস্কার রয়েছে পরকালে। তবে শর্ত হলো- তাদের ঈমান থাকতে হবে। কেননা আল্লাহর কাছে ঈমানবিহীন আমলের কোনো মূল্য নেই।

আল্লাহ তাআলা সুরা আসর-এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘সময়ের কসম! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তারা ব্যতিত যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে।’ (সুরা আসর : আয়াত ১-২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্য আছে ফেরদাউস বেহেশত। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; ওই স্থানের পরিবর্তে তারা অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হওয়াও কামনা করবে না।’ (সুরা কাহফ : আয়াত ১০৭-১০৮)

মনে রাখা জরুরি

জুমআ দিন বা রমজান মাসে বা হজের মাসে বা অন্য যে কোনো ফজিলতপূর্ণ দিনে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির এ মৃত্যুর সঙ্গে জান্নাত বা জাহান্নামের কোনো সম্পর্ক নেই।

জান্নাত বা জাহান্নামের সঙ্গে সর্ম্পক হলো মানুষের দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা, ঈমান ও ভালো কাজ। আর এ মৃত্যু পরবর্তী জীবনে এ ঈমান ও কাজের ভিত্তিতেই ফয়সালা।

যে ব্যক্তি সৎকাজ করে ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করবে সে জুমার দিন মৃত্যুবরণ করুন বা অন্য যে কোনো দিন মৃত্যুবরণ করুন; সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আর যে ব্যক্তি শিরকের ওপর মৃত্যু বরণ করে সে ব্যক্তি যে কোনো পবিত্র দিন বা মাসে কিংবা যে কোনো পবিত্র স্থানেই মৃত্যু বরণ করুক না কেনো, তার পরিণাম হবে জাহান্নাম।

কেননা আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চই আল্লাহ শিরক ক্ষমা করবেন না এবং শিরক ছাড়া অন্য অপরাধের মধ্যে যেগুলো চান তিনি ক্ষমা করবেন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৪৮)

মৃত্যবরণকারী ব্যক্তি যদি মুসলমান হয় তথা তাওহিদ রেসালাত ও আখেরাতে বিশ্বাসী হয়ে পাপের পথে থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে তবে তার পরিণতি আল্লাহর ইচ্ছায় নির্ধারিত হবে।

পাপ-পূণ্যের হিসাব-নিকাশের পর আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে ক্ষমাও করে দিতে পারে। এ সবই আল্লাহ তাআলার ইখতিয়ার। একটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের সঙ্গে নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। বিশেষ দিন মাস ও স্থানের কথা চিন্তা না করে নেক আমলের মাধ্যমে পরকালীন জীবনের চিরস্থায়ী শান্তির স্থান জান্নাতের প্রত্যাশা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।