‘পুলিশকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে’

আপডেটঃ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | মে ১৬, ২০১৮

সি এন এ নিউজ,রাজশাহী :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানবিক আচরণের মধ্য দিয়ে পুলিশকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গেই পুলিশকে কাজ করতে হবে।’

বুধবার দুপুরে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৫তম বিসিএসের সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের জনগণ যথাযথ সেবা পাবে। পুলিশের সকলকে আহ্বান জানাবো, জনগণের প্রত্যাশা আমাদের পূরণ করতে হবে। তার জন্য দরকার চৌকস, পেশাদার, দক্ষ, জনবান্ধব পুলিশ সার্ভিস। আমরা সেটা গঠন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই লক্ষ্যে পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।’

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছেই সাহায্য চায়- এ কথা সব সময় মনে রাখতে হবে। তাই মানুষকে সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে আস্থা মানুষের কাছ থেকে অর্জন করতে হবে, যেটা একান্তভাবে প্রয়োজন। দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। সন্ত্রাস দমনে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু মাদক আরেকটি ব্যাধির মতো সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। একেকটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কাজেই মাদকের হাত থেকেও এই জাতিকে রক্ষা করতে হবে। তার জন্য পুলিশকে বিশেষভাবে কাজ করতে হবে।’

‘মাদক সেবনকারী, সরবরাহকারী, মাদক ব্যবসায়ী বা উৎপাদককারী- তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জঙ্গি দমনে পুলিশ যেমন সফল হয়েছে, তেমনি মাদক নির্মূলেও পুলিশ সফল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আজকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আজকে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছি। আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি হিসেবে বাঙালি জাতি গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশ। ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি পালন করব ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। এ কথা মনে রেখে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পুলিশ বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে। কিন্তু সাথে সাথে অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতাটাও প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। এটা বিশ্বব্যাপীই হচ্ছে। নিত্যনতুন অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরো তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বরাদ্দকে আমরা বিনিয়োগ হিসেবে মনে করি।’

সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশকে দেওয়া নানা সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের বিভিন্ন স্তরে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে ট্রাফিক বিভাগে নারীরাও নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা সকলের বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করেছি, যা পৃথিবীর কোনো দেশ, কোনো সরকার একসাথে এভাবে বেতন বৃদ্ধি করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা আমাদের কাছে গর্বের।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট অত্যন্ত সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে নতুন মর্যাদায় উন্নীত করেছি। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পুলিশ একাডেমিকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এর সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার, জনবল বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরাঞ্জামাদি ও লজিস্টিক সরবরাহ আমরা অব্যাহত রেখেছি।’

এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে একটি হেলিকপ্টারে চড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান। পরে প্যারেড মাঠে গেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী তাকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।