গাজীপুর সিটি নির্বাচন : বিএনপির সুদিনেও পরাজিত ছিলেন হাসান, ভোট মানেই বিজয়ী জাহাঙ্গীর

আপডেটঃ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১২, ২০১৮

শতাব্দী আলম : ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে হাসান উদ্দিন সরকার বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তিনি বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। এর পূর্বে ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তিনি পরাজিত হন। সেবার জাতীয় পার্টির মনোনিত লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। অতীত ইতিহাস বিবেচনায় ২০১৮ সালের
নির্বাচনে বিএনপির মনোনিত মেয়র প্রার্থী হিসাবে সঙ্গত কারনে দলটির নেতৃবৃন্দ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। আর ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনেই তরুণ জাহাঙ্গীর আলম প্রথমবারের মত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনে অংশ নেন। স্বতন্ত্র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে ১ লাখ ৯৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ১৫ মের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেই প্রভাব থাকবে বলেই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিশ^াস। ভোটের নানান হিসাব নিকাশ আছে। প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাসান উদ্দিন সরকার গাজীপুরের রাজনীতিতে সুবিধাবাদি রাজনীতিক হিসাবে সর্বজন বিদিত। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ১৩ টি দল করেছেন। তাই যখনই ভোটের হিসাব নিকাশ হয় ভোটে পরাজিত হওয়ার এটাও একটা কারন হয়ে দাঁড়ায়। এর সর্বশেষ নজির তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্বে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগদান করে মনোনয়ন বাগিয়ে নেন। সারাদেশে বিএনপি ব্যাপক বিজয় অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। কিন্তু গাজীপুরের হাসান উদ্দিন সরকার পরাজিত ছিলেন। তিনি ৮৫ হাজার ৭৮১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। আর বিদ্রোহী প্রাথী হিসাবে অধ্যাপক এম এ মান্নান ৮৭ হাজার ৬শ ৯১ ভোট পান। আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আহসান উল্লাহ মাষ্টার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এর পর ২০০৪ সালের ৭ মে ঘটনা গাজীপুর তথা দেশের প্রতিটি মানুষই জানে। জোট সরকারের নীল নকশায় নোয়াগাও স্কুল মাঠের অনুষ্ঠানে ব্যপক জনপ্রিয় আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে হত্যা করা হয়। হাসান উদ্দিন সরকারের সহোদর ভাই নুরুল ইসলাম সরকারও সেই মামলার অন্যতম আসামী। বিচারে নুরুল ইসলাম সরকার ও অন্যান্য আসামী মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে হাসান উদ্দিন সরকার জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তিনি ৭১ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে তৃতীয়। সেখানে অধ্যাপক এম এ মান্নান ধানের শীষ প্রতীকে ৭৯ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে
দ্বিতীয়। আর আহসান উল্লাহ মাষ্টার পান ৯৪ হাজার ৭৩২ ভোট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা মন্তব্য করেন, হাসান উদিন সরকার বার বার দল পরিবর্তন করেও পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি। তাছাড়া সুবিধাবাদি রাজনীতিক হিসাবে নেতৃবৃন্দের মধ্যে তাঁর ব্যপারে একধরনের সন্দেহপ্রবণতা কাজ করে। কখন আবার দল পরিবর্তন করেন।
তিনিতো ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু করেছেন। মান্নান এখানেই এগিয়ে ছিলেন। যে কারনে তিনি ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিজয় লাভ করেছেন। সুবিধাবাদি তকমা, নিজ সহোদর নুরুল ইসলাম সরকার হত্যা মামলার ফাঁসি দন্ডপ্রাপ্ত এবং পারিবারিক বিরোধ এসব বিষয় ১৫ মের নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কোন সন্দেহ নেই।
অপরপক্ষে তরুণ, প্রতিশ্রুতিশীল, দানবীর, দলের অনুগত এবং অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যপক উৎসাহ উদ্দিপনার সৃষ্টি করেছেন। আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী হিসাবে জাহাঙ্গীর আলম বরাবরই দলের প্রতি অনুগত। ছাত্রলীগ রাজনীতির মাধ্যমে শুরু করে নিজ যোগ্যতায় গাজীপুর মহানগরের সাধারন সম্পাদক হয়েছেন। তিনি মনে করেন ছাত্রজীবনে আহসান উল্লাহ মাষ্টারের মত রাজনৈতিক শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষাই পথ চলতে তাকে সহায়তা করে। ২০০৯ সালে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১ লাখ ৯৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। জাহাঙ্গীরের বিজয় অবশ্যই তার ব্যক্তি ইমেজের কারনে হয়েছিল। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ব্যক্তি ইমেজ, শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং জাহাঙ্গীরের সামাজিক সেবামূলক উদ্যোগ সাধারন ও ভাসমান ভোটারদের মধ্যে ইতমধ্যেই সারা ফেলেছে। যা ১৫ মের ভোটে নৌকা মার্কার বিজয়ে ভুমিকা রাখবে।
#  সাংবাদিক ও কলাম লেখক