গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৬ মেয়র প্রার্থী

আপডেটঃ ৭:০৯ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১২, ২০১৮

মো: জাকির হোসেন, সিএনএ নিউজ, টঙ্গী : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মনোনীতসহ ৬জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জয়দেবপুর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে স্থাপিত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মেয়র প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য মো. হাসান উদ্দিন সরকার, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মহানগর জাসদের সভাপতি রাশেদুল হাসান রানা, ইসলামি ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মো. ফজলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাসির উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসার উদ্দিন।
এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এড. জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়নপত্র জমা দেন দুপুরে। এসময় উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন, আব্দুল হাদী শামীম ও মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল প্রমুখ।
এরআগে বেলা ১১টার দিকে হাসান উদ্দিন সরকার রিটানিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন- বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল, বিএনপির নেতা সালাহ উদ্দিন সরকার, ডা. মাজহারুল আলম ও সোহরাব উদ্দিন প্রমুখ।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে হাসান উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের জানান, দেশের এ ক্রান্তিকালে সাধারণ মানুষ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। দেশপ্রেমী গাজীপুরবাসীও এ নির্বাচনে বিএনপিকে সহযোগিতা করবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষজনক। ইসির কথা-কাজে মিল থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু থাকবে। তবে একতরফা নির্বাচন হলে জনগণ দেখবে। মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান প্রসঙ্গে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। নির্বাচনের আগে যাতে দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি না করা হয় সে ব্যাপারে ইসি ও প্রশাসনকে ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে, নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, বেগম জিয়া কারাগারে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দুঃখ আছে; নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা মিছিল-মিটিং করছে। এসব ঘটনা ইসিসহ গণমাধ্যমকর্মীরাও দেখছেন। আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছি। এদেশের ভোটারদের কেউ কোনদিন টাকা দিয়ে কিনতে পারেনি। ভোটাররা ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এড. জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা দাবি করেছেন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রাচার-প্রচারণা চালানো হবে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা এবং আমরা যে ঐক্যবদ্ধ তা সারা দেশের মানুষকে নির্বাচনের মাধ্যমে দেখিয়ে দিতে চাই। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীসহ অন্য দলের যারা প্রার্থী আছেন তারাও যাতে সমান সুযোগ-সুবিধা পায়, সে ব্যাপারে আমরা যে যেখানেই আছি সহযোগিতা করবো। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত মেয়র প্রার্থী এড. আজমত উল্লা খান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজমত উল্লা খান আমার বড় ভাই। তিনি শ্রদ্ধেয়। তাঁর দিকনির্দেশনায় কাজ করছি। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নগরবাসীকে সাথে নিয়ে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করবো। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে তিনি জানান।
গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের সমন্বয়কারী তারেক আহম্মেদ জানান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ মোট ৬জন মেয়র প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া বুধবার বিকেলে ১৬৩ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন ১৮ জন মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯৭ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৮৩ জন। গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২৩ এপ্রিল।