অনুপ্রেরণা হতে পারে বিশ্বকাপে পাওয়া সেই জয়

আপডেটঃ ৫:১৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ০৯, ২০১৮

ক্রীড়া ডেস্ক :‘গোউজ ফর হিরো। বোল্ড হিম। ফুল অ্যান্ড স্ট্রেইট। দ্য বাংলাদেশ টাইগারস হ্যাভ নকড দ্য ইংলিশ লায়নস, আউট অব দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ। ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট ডেইজ ইন দ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট হিস্টোরি, ওয়ান অব দ্য লোয়েস্ট পয়েন্টস ইন ইংলিশ ক্রিকেট।’

অ্যাডিলেড ওভালে নাসের হুসেইনের অনবদ্য সেই ধারাভাষ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্তের একটি। যদি বলা হয় সেরাদের সেরা তাহলেও ভুল হবে না। ক্রিকেট পরাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশের পদচারণা সেই ম্যাচ থেকেই। বাংলাদেশ যে বলে কয়ে যে কাউকে হারাতে পারে সেটা অ্যাডিলেডে প্রমাণ পেয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব।

২০১৫ সালের ৯ মার্চ, তিন বছর আগে আজকের দিনেই যে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশ আবিস্কার করেছিল আনসাং হিরো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

অ্যাডিলেড ওভালে সেদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তাতে বড় অবদান মাহমুদউল্লাহর। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়া মাহমুদউল্লাহ করেন ১০৩ রান। ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে আসে ৪০ রান। এই তিনজনের ব্যাটে বাংলাদেশ পায় লড়াইয়ের পুঁজি।

২৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেনের তোপে পড়ে ১৬৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। কিন্তু সপ্তম উইকেটে জস বাটলার ও ক্রিস ওকসের ৭৫ রানের জুটি ভয় ধরিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। ৪৬তম ওভারে বাটলারকে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে স্বস্তি ফেরান তাসকিন আহমেদ। পরের বলে সাকিবের থ্রোয়ে ক্রিস জর্ডান রানআউটে কাটা পড়লে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

শেষ ১৮ বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। ৪৮তম ওভারে তাসকিনের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সেটি কমিয়ে আনেন স্টুয়ার্ট ব্রড। চতুর্থ বলে তামিম ইকবাল ওকসের ক্যাচ ফেললে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচে। শেষ ১২ বলে ইংল্যান্ডের চাই ১৬ রান। এরপরই ৪৯তম ওভারে রুবেলের সেই দুর্দান্ত তিনটি বল।

রুবেলের ১৪২ কিলোমিটার গতির প্রথম বলে বোল্ড ব্রড। পরের বলটি কোনোমতে ব্যাটে লাগাতে পারেন জেমস অ্যান্ডারসন। তবে অনেকটা ইয়র্কার লেংথের তৃতীয় বলে উড়ে যায় অ্যান্ডারসনের স্টাম্প। ধারাভাষ্যে থাকা নাসির হুসেইনের মুখে বাংলাদেশ বন্দনা।

১৫ রানের জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ। আর ইংল্যান্ড? বাদ পড়ে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেই! ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন রুবেল। অধিনায়ক মাশরাফি আর তাসকিনের ঝুলিতে জমা পড়ে ২টি করে উইকেট।

ম্যাচসেরা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাশরাফির হাত ধরে ইতিহাসের পথে পা বাড়ায় বাংলাদেশ। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দেশের পতাকা মাথায় নিয়ে মাশরাফি বলেন, ক্রিকেটে দারুণ একটি দিন কাটাল বাংলাদেশ। এই জয় আমাদের নিয়ে যাবে অনেক দূর।’

কোয়ার্টার ফাইনালে অনকাঙ্খিত কিছু ঘটনায় বাংলাদেশের মিশন শেষ হলেও ক্রিকেট বিশ্ব নতুন করে আবিস্কার করেছিল বাংলাদেশকে। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই লাল-সবুজের বিজয় কেতন উড়ায় টাইগাররা।

ভালো সময় কাটানোর পর বাংলাদেশ এখন আবারও পথ হারিয়েছে। তিন বছর আগে আজকের দিনে পাওয়া জয়টি হতে পারে আত্মবিশ্বাস, অনুপ্রেরণা পাওয়ার অন্যতম উপলক্ষ। সেই মাহমুদউল্লাহর কাঁধে এখন দলের দায়িত্ব। ফের এগিয়ে এসে মাহমুদউল্লাহ কি পারবেন আবারও রংধনুর সাত রং ছড়িয়ে আরেকটি জয় উপহার দিতে!