‘জোরে বল থ্রো করলেই ফাস্ট বোলার হওয়া যায় না’

আপডেটঃ ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ০৬, ২০১৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক :তখন বাংলাদেশের বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্বে কোর্টনি ওয়ালশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় মাঠে বসে নিজ দল আর বাংলাদেশের খেলা উপভোগ করেছিলেন প্রাক্তন প্রোটিয়া পেসার অ্যালান ডোনাল্ড।

দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বকালের অন্যতম সেরা এই বোলার যখন খেলা দেখছিলেন, তখন মাঠে বল করছিলেন তাসকিন, শুভাশিস, রুবেল ও মুস্তাফিজরা। বাজে বল করছিলেন দেখে নিজ থেকে ডোনাল্ড বলেছিলেন, ‘ওর (কোর্টনি ওয়ালশ) কাছ থেকে তোমাদের বোলাররা যদি কিছু শিখতে না পারে, তাহলে দোষটা কোর্টনির নয়, বাংলাদেশের বোলারদের।’

৫১৯ টেস্ট উইকেট পাওয়া তো মামুলি বিষয় নয়। ক্যারিবিয়ানদের অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন ওয়ালশ। ২২ গজে ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন। সেই ওয়ালশকে ঘিরেই এখন সমালোচনা। কেন? বাংলাদেশের পেসাররা তার কাছ থেকে কী শিখতে পারছে? ওয়ালশকে কি আমরা ঠিকমত কাজে লাগাতে পারছি?

জাতীয় দল ও পাইপলাইনে থাকা বোলারদের নিয়ে আলাদা ক্যাম্প করেছেন ওয়ালশ। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা তাকে পাচ্ছেন নিয়মিত। কিন্তু পেসারদের সাফল্য প্রায় নেই বললেই চলে। মাঠে পেসাররা ভালো করতে না পারায় সমালোচনার তীর ওই বোলিং কোচ ওয়ালশের দিকেই, যিনি কিনা সময়ের পরিক্রময়া এখন বাংলাদেশ দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ। অভিজ্ঞ ওয়ালশকে নিয়ে সমালোচনা করার কোনো মানে নেই বলে জানালেন বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস।

সোমবার মিরপুরে তিনি বলেছেন, ‘ওয়ালশ খুব ভালো একজন মেন্টর। ওর অভিজ্ঞতা অনেক। এত বড় বড় খেলা খেলেছে ও, ওই অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করলেও অনেক কিছু জানা যায়। ও কিন্তু এগুলো বলে খেলোয়াড়দের। খুবই ভালো একজন পরামর্শক এবং খুবই সামর্থ্যবান। তবে তার কথাগুলো তো শুনতে হবে।’

‘ক্যাম্পে যেটা হয় বোলারদের ভুলগুলোকে ধরিয়ে দিয়ে নতুন কিছু শেখানো। এখন ক্যাম্পে বোলাররা ঠিকঠাক মতো শিখলেন। কিন্তু মূল জায়গায় গিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারলেন না। তাহলে দোষটা কি ক্যাম্পের? আপনাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এটাই করতে না পারেন তাহলে কিছুই সম্ভব নয়’- যোগ করেন জালান ইউনুস।

সময়ের পরিক্রমায় মাত্র মাস কয়েকের ব্যবধানে সেই ওয়ালশ এখন বাংলাদেশ দলের মূল কোচ। হোক না সেটি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব। বোলিং কোচের দায়িত্বটা আপাতত চম্পাকা রামানায়েকের কাঁধে।

পেসারদের কড়া সমালোচনা করে জালাল ইউনুস বলেন, ‘ফাস্ট বোলারদের আগ্রাসন থাকতে হবে। আমাদের পেসারদের মধ্যে এটা খুব কমই আছে। তাদের মধ্যে না সুইং আছে, না আগ্রাসন আছে। খুব সামান্য সুইং হয় অনেকের বলে। কিন্তু ওইটুকু দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফাস্ট বোলাররা টিকে থাকতে পারে না। আপনি শুধু জোরে বোলিং করতে পারেন। বল থ্রো করতে পারেন সেটাতে ফাস্ট বোলিং হলো না। সঠিক লাইন, সঠিক লেংথে আপনাকে বোলিং করতে হবে। ব্যাটসম্যানদের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে হবে।’

‘দক্ষিণ আফ্রিকায় তো ভালো উইকেট ছিল। ফাস্ট বোলারদের জন্য বাড়তি কিছু তো ছিল না। কিন্তু তাদের ফাস্ট বোলাররা কী করেছে, আর আমাদের ফাস্ট বোলাররা কী করেছে? এজন্যই বলছি স্কিল বোলিং করতে হবে। আরো স্কিলফুল হতে হবে।’

‘একটা বোলাররকে কিন্তু ব্যাটসম্যানের দুর্বল জায়গা রিড করতে হয়। আমাদের এখানে যেটা হয় একটা ব্যাটসম্যান আউট সাইড অব দ্য স্টাম্প বেশ ভালো, শক্তিশালী। তাকে ওই জায়গাটায় বারবার খেলানো হয়। কিন্তু ওই ব্যাটসম্যানটা শর্ট বলে দুর্বল। তাকে শর্ট বল দেওয়া হচ্ছে না এবং একবার করেও চেষ্টা করা হচ্ছে না। আপনি যদি মাঠে অসাধারণ কিছু না করেন তাহলে সাফল্য পাবেন না।’