নারী-পুরুষের পর্দা সম্পর্কে প্রিয়নবির ঘোষণা

আপডেটঃ ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৮

ধর্ম ডেস্ক :পর্দা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত বিধান। এ বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু পর্দাকে মুসলিম নারীর সৌন্দর্য বলা হয়। আবার নারীর মান-সম্মান, ইজ্জত-আবরুর রক্ষাকবচ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অথচ পর্দা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক সমভাবে পালনীয় বিধান।

ইসলামি শরীয়তে নির্ধারিত মুহরিম নারী-পুরুষ ব্যতিত অন্য সব নারী-পুরুষের বেলায় উভয়কেই পর্দা পালন করতে হবে। কোনো পুরুষ যেমন কোনো নারীর প্রতি দৃষ্টি দেবে না। ঠিক তেমনি কোনো নারীও গায়রে মুহরিম ব্যক্তির দিকে পর্দার অন্তরাল থেকে চুপিসারে তাকাবে না।

পদা যে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য তা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস থেকে তা সুস্পষ্ট। যা তিনি এক অন্ধ সাহাবি সম্পর্কে তাঁর স্ত্রীদেরকে বলেছিলেন।

হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন আমি ও মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে ছিলাম। এমতাবস্থায় (দৃষ্টিহীন সাহাবী) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আগমন করেন।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা ও মায়মুনাকে) বললেন, তোমরা পর্দার অন্তরালে চলে যাও। আমি (উম্মে সালামা) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! ইনি কি দৃষ্টিহীন নন? ইনি তো আমাদেরকে দেখছেন না।

জবাবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা কি তাকে দেখছো না? (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত)

তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদেরকে পর্দার ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, নারী গোপনযোগ্য। যখন সে ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে তাকাতে থাকে।’ (মিশকাত)
সতর্কতা

বর্তমান সময়ে চলা-ফেরায়, রাস্তা-ঘাতে, অফিস-আদালতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে এমনকি কোনো অনুষ্ঠানে বা বিয়ে বাড়িতে বা পাত্র-পাত্রী দেখার ক্ষেত্রেও পর্দার বিধান মারাত্মকভাবে লংঘিত হচ্ছে।

অনেক সময় দেখা যায়, নারী পর্দা মেনে ঘরের মধ্যে অবস্থান করছে। কাউকে দেখার জন্য তারা পুরুষের অগোচরে ভেতর থেকে ফাঁক-ফোকর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে দেখে নিচ্ছে। না, এমনটিও পর্দার খেলাফ।
মনে রাখতে হবে

পর্দা নারী-পুরুষ সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। মুসলিম উম্মাহর সব নারী-পুরুষের উচিত আল্লাহ তাআলা কর্তৃক আরোপিত ফরজ বিধান পর্দা মেনে চলা। সুন্দর ও কুলুষমুক্ত জীবন-যাপনে সমাজ জীবনে পর্দার বিধান বাস্তবায়নে এগিয়ে আসা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারী-পুরুষকে কুরআনের বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে পর্দা পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।