খালেদার পরিচারিকা ফাতেমার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

আপডেটঃ ৪:১৭ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

সি এন এ  নিউজ,ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এই বন্দি অবস্থায় তার দেখাশুনা করার জন্য একজন পরিচারিকা (সেবিকা) চেয়ে রায়ের দিনেই আবেদন করেন তার আইনজীবী।

রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান সেবিকা ফাতেমার বিষয়ে জেল কোডর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদার সঙ্গে কারাগারে একজন পরিচারিকা (সেবিকা) নেয়ার আবেদন করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। আবেদনে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বয়স্ক মানুষ। তিনি একা চলা ফেরা করতে পারেন না। তাই তার জন্য একজন পরিচারিকা প্রয়োজন। আর তার পরিচারিকা হিসেবে থাকার জন্য মোছা. ফাতেমা প্রস্তুত রয়েছেন।

৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এই মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আদালত বলেছেন, বয়স ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় কম সাজা দেয়া হয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। রায়ের পরই নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেয়া হয় বেগম জিয়াকে। দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তার মধ্যে তিনজন পলাতক। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। ১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। আত্মপক্ষ সমর্থনে সময় গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন হয়েছে ১৬ দিন এবং আসামিপক্ষ মামলাটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে গেছেন ৩৫ বার।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।