বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় দুনিয়ায় যারা দ্বীনের উপর চলবে আল্লাহ তাদেরকে কামিয়াবী দান করবেন

আপডেটঃ ১০:১৮ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১২, ২০১৮

মো. জাকির হোসেন, সি এন এ নিউজ, টঙ্গী:ব্যাপক উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে শুক্রবার বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শায়েখ ওমর খতিবের আ’ম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার ৩ দিনের প্রথম পর্ব । এবারই প্রথম আম বয়ান আরবিতে করা হলো। রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠ টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে তাবলীগ জামাতের বার্ষিক মহাসম্মেলন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিনে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের বৃহত্তম জুমার জামাত। ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ মুসল্লি¬ ছাড়াও রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই বৃহত্তম জুমার জামাতে বিভিন্ন যানবাহন ও পায়ে হোঁটে শরিক হন। বিশ্বের ৭১টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার প্রতিনিধিসহ লাখ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমা অনুকুল আবহাওয়া ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায় ইজতেমায় আগত মুসল্লিগণ স্বাচ্ছন্দে তাবলীগ জামাতের শীর্ষমুরুব্বিদের বয়ান শুনছেন এবং এবাদত বন্দেগীতে মশগুল রয়েছেন। আজ শনিবার ইজতেমার দ্বিতীয় দিন। আগামী রোববার দুপুরের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ কান্দলভী এবার ইজতেমা ময়দানে না আসায় আখেরী মোনাজাত কাকরাইল জামে মসজিদের খতীব হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ পরিচালনা করার কথা রয়েছে। মাঝে ৪ দিন বিরতি দিয়ে পুনরায় ১৯ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২১ জানুয়ারি জোহরের পূর্বে কোন এক সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব তথা এবারের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। সকাল থেকেই সর্বস্তরের মুসলমানরা জুমার জামাতে শামিল হওয়ার জন্য টুপি, পাঞ্জাবী পরে জায়নামাজ হাতে ইজতেমা মাঠের দিকে ছুটতে দেখা গেছে। দেশ বিদেশের অগণিত মুসল্লি¬র সাথে একই জামাতে শরীক হয়ে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে বেশি সাওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে সকলের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাকুলতা। যতই সময় গড়াতে থাকে ততই মুসল্লিদের ঢল আঁচড়ে পড়ে তুরাগের তীরে। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের সমাবেশ ঘটে জুমার জামাতে। টঙ্গী, উত্তরা, কামারপাড়া, মিরপুর, আবদুল্লাহপুরসহ আশপাশের এলাকার মসজিদে শুক্রবারের জুমার জামাতে মুসল্লি সংখ্যা ছিল খুবই কম। ইজতেমা মাঠে জুমার জামাত সুবিশাল প্যান্ডেলের গন্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃতি লাভ করে চারপাশে। জুমার জামাতে ইমামতি করেন কাকরাইল জামে মসজিদের খতিব ও বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ।
বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশ থেকে মুসল্লিদের টঙ্গী মুখি স্রোত অব্যাহত রয়েছে। বহুল কাঙ্খিত আখেরী মোনাজাত পর্যন্ত এ স্রোত আরো প্রবল হবে। তুরাগ তীরবর্তী বিশাল প্রান্তরে নির্মিত পাটের চট ও লাইলন কাপড়ের প্যান্ডেল ইতোমধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। গত দু’দিনে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া এবং ময়দানে নতুন করে ফেলা বালিতে সমবেত মুসল্লিদের ভোগান্তি কিছুটা বেড়েছে। ধুলায় ধূসরিত গোটা ইজতেমা এলাকায় চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ওয়াসা এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্যোগে প্রধান প্রধান সড়ক ও বিদেশী মুসল্লিদের চলাচলের পথে পানি ছিটানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। একদিকে পানি ছিটিয়ে যাচ্ছে ওয়াসার গাড়ি অন্যদিকে মুহুর্তেই আবার ধুলায় ধূসর হচ্ছে রাস্তুাগুলো। ফলে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছে সর্দি, কাশি ও পেটের পীড়া নিয়ে শত শত মুসল্লি¬।
প্রথম দিনে যারা বয়ান করলেন : বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শায়েখ ওমর খতিবের আ’ম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। তাঁর বয়ান ভাষান্তর করেন স্বাগতিক বাংলাদেশের মাওলানা মো. আবদুল মতিন। বাদ জুমা বয়ান করেন মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন, বাদ আসর বয়ান করেন মাওলানা আব্দুল বাসেত, বাদ মাগরিব বয়ান করেন মাওলানা রবিউল হক ।
প্রথম দিনের বয়ান যা বলা হলো: বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শায়েখ ওমর খতিব ঈমান, আমল ও নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত বয়ান রাখেন। তাঁর বয়ানে তিনি বলেন, যারা দুনিয়াতে দ্বীনের উপর চলবে, ঈমানকে সুন্দর করবে, আমলকে সুন্দর করবে, আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে কামিয়াবী দান করবেন। তিনি আরও বলেন, ঈমান ও আমল ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব হওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ঈমান আমলের পাশাপাশি নামাজকে সুন্দর করতে হবে। আল্লাহকে পেতে হলে নামাজ পড়েতে হবে। জাহান্নাম থেকে বাঁচতে এবং জান্নাত লাভের মাধ্যম হলো নামাজ। দিনে ৫ বার নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে কথা বলা হয়। যে ব্যক্তি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ খুশু খুযুর সাথে আদায় করবে আল্লাহ তাকে নাজাত দিবেন। বয়ানে আরও বলা হয়, দুনিয়ার জিন্দেগী অনিশ্চিত জিন্দেগী, অক্ষম জিন্দেগী। দুনিয়ার জিন্দেগী হলো ধোকার জিন্দেগী। আর হাকিকতে বা বাস্তবতার দিক দিয়ে আসল জিন্দেগী হলো আখেরাতের জিন্দেগী। আখেরাতের জিন্দেগী হলো চিরস্থায়ী জিন্দেগী। অবশ্যই প্রত্যেক মানুষকে আখেরাতের জিন্দেগীতে যেতে হবে। প্রত্যেক মানুষকে দুনিয়ার জিন্দেগী ছেড়ে যেতে হবে। এতে কোন রকমের সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, আল্ল¬াহ তা’য়ালা আখেরাতের জিন্দেগীর খবর দিয়েছেন নবীদের মাধ্যমে। আখেরাতের জিন্দেগীর কখনও শেষ হবে না। তিনি আরও বলেন, বুদ্ধিমান লোক সেই যে দুনিয়াতে থাকতেই আখেরাতের জিন্দেগীর প্রস্তুতি নেয়। মওতের আগে আগেই সে নিজেকে শুধরে নেয়, সংশোধন করে নেয়। নিজের জীবনকে দ্বীন, ইসলাম, শরিয়ত ও সুন্নত মোতাবেক পরিচালিত করে আখেরাতের প্রস্তুতি নেয়, তাকেই বুদ্ধিমান বলা হয়েছে। আর বোকা ও বুদ্ধিহীন লোক তাকেই বলা হয়েছে যে, নিজের মনমতো, নিজের খায়েশমতো চলে, আখেরাতের জন্য কোন প্রস্তুতি নেয় না অথচ আল্ল¬াহপাকের পক্ষ থেকে দয়া, ক্ষমা, রহমতের আশা করে। কিন্তু আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নেয় না। কোন মেহনত করে না।
বয়ানের তাৎক্ষণিক অনুবাদ : বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত, জর্ডান ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের ১৫-২০জন শুরা সদস্য ও বুজর্গ বয়ান পেশ করছেন। মূল বয়ান উর্দূতে হলেও বাংলা, ইংরেজী, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষনিক অনুবাদ করা হচ্ছে। বিদেশী মেহমানরা মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন। বিভিন্ন ভাষাভাষীর মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন মুরব্বি মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শুনান।
জুমার জামাতে ভিআইপিদের অংশগ্রহণ : গতকাল টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত জুমার জামাতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো: ফজলে রাব্বী মিয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় এমপি মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আবু কালাম সিদ্দিক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মো: হুমায়ুন কবীর, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ইজতেমাস্থলে জু’মার নামাজে অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য খাস বয়ান, শিক্ষকদের জন্য খুসুসি বয়ান, বধিরদের জন্য বয়ান : গতকাল সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজের মিম্বার থেকে খাস বয়ান, শিক্ষকদের জন্য বয়ানের মিম্বার থেকে খুসুসি বয়ান ও বধিরদের জন্য পৃথক পৃথকভাবে বয়ান করা হয়। এছাড়াও শবগুজারি আমলের কামরায় খাওয়াজদের জন্য বিশেষ বয়ান পেশ করা হয়।
ইজতেমায় ২ মুসল্লি¬র মৃত্যু: টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে গত বৃহস্পতিবার রাতে ২জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- মাগুরা জেলার শালিখা থানার খরিশপুর গ্রামের কাজী আবু কাওছারের ছেলে কাজী আজিজুল হক (৬৫) এবং ঢাকা পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার মো. কেরামত আলীর ছেলে আব্দুল মামুন ওরফে মনা (৩৩)। রাত ১১টার দিকে আজিজুল হক ময়দানের ২৯ নম্বর খিত্তায় প্রচ- পেটের ব্যথা অনুভব করলে তাকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১১টা ২৫মিনিটের দিকে তিনি মারা যান। অপরদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গীর ষ্টেশনরোড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি গাড়ি মনাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় উদ্ধার করে তাকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠায়। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। বাদ ফজর জানাজা শেষে নিহত আজিজুল হকের লাশ তার নিজ গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
টঙ্গী হাসপাতালে চিকিৎসা : টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে শুক্রবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রায় ২শ’ জন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মুসল্লি চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগজনিত কারনে ২ জনকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পারভেজ হোসেন। এছাড়া ইজতেমাস্থলের পার্শ্ববর্তী ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে কয়েক হাজার মুসল্লি বিনামূল্যে বিভিন্ন রোগের ওষুধ সংগ্রহ ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে র‌্যাবের প্রায় ১ হাজার, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ৭শ’, হামর্দদ ল্যাবরেটরিজ প্রায় ১২শ, ইবনে সিনা ৬শ’, আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম ১ হাজার’, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা কেন্দ্র (২) ৩শ’ রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন। বেশিরভাগ মুসল্লি ঠান্ডা, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ব্যথা, গ্যাষ্ট্রিক, পেটের পীড়াজনিত কারণে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নড়াইল কালিয়া থেকে ইজতেমা ময়দানে আসা মুসল্লি মো. হাফিজ মুন্সি (৬৫) বলেন, মাথা ব্যথা ও ঠান্ডাজনিত রোগের ঔষধ নিতে তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন। মো. ইউসুফ ও আক্তার হোসেন ঠান্ডা ও মাথা ব্যথা নিয়ে ঔষধের জন্য লাইনে দাড়িয়েছেন। অপরদিকে গাইবান্ধার নূরুল ইসলাম (৬৫) পেটের ও বুকের জ্বালাপোড়া রোগ নিয়ে ঔষধের জন্য মুন্নু মিল প্রাঙ্গণে স্থাপিত আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমনি নানা ধরণের রোগ নিয়ে শতশত রোগী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে ভীড় করছেন।
বিশ^ইজতিমায় ড্যাবের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প : টঙ্গী বিশ^ইজতিমায় আগত মুসল্লীদের চিকিৎসা সেবা দিতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ইজতিমা ময়দানের পূর্বপাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে টঙ্গী ফায়ার স্টেশন সংলগ্ন গতকাল শুক্রবার এ ক্যাম্প চালু করা হয়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম জাহিদ হোসেন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার যৌথভাবে ফিতা কেটে ফ্রি
মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।
টঙ্গী থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেন ফারুকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ড্যাবের সিনিয়র যুগ্নমহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. এ.বি.এম মুসা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহজাহান সিরাজ, ডা. মো. খায়রুজ্জামান। আরো উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন ঝুনা, মো. জাবেদ মাহমুদ, আবুল কাশেম, আজিজুল হক রাজু মাস্টার, বাবু শিকদার, আলাউদ্দিন আলো, কিবরিয়া খান জনি, মো. মহসিন, সালাহ উদ্দিন মোড়ল, শওকত হোসেন, এস.এম ইউসুফ পারভেজ সোহেল, দেলোয়ার হোসেন মুন্সি, জুয়েল চৌধুরী, সাগর মিলন, আব্দুস সালাম, খোকন মিয়া প্রমুখ।
ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লিদের অংশগ্রহণ: ইজতেমার প্রথম পর্বে সৌদি আরব, জর্ডান, মিসর, ওমান, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, কাতার, কানাডা, কম্বোডিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানী, ইরান, জাপান, মাদাগাস্কার, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, পানামা, সেনেগাল, দঃ আফ্রিকা, তাঞ্জানিয়া, রাশিয়া, আমেরিকা, জিম্বাবুয়ে, বেলজিয়াম, ক্যামারুন, চীন, কমোরস, ফিজী, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, কুয়েত, মরক্কো, কাতার, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, ইরিত্রিয়া, মৌরিতানিয়া, ভারত, দুবাইসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন ভাষা-ভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতেমা ময়দানে বিদেশি মেহমানদের ভিন্ন ভিন্ন তাবু নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদেশি নিবাসে দায়িত্বরত নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শূরা ইস্তেকবালের এক মুরুব্বি।
মোবাইল চার্জ ২০ টাকা : ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের জন্য মোবাইল চার্জের একাধিক দোকান খোলা হয়েছে। সেখানে প্রতি ঘন্টা ২০ টাকায় চার্জ দেয়া যাচ্ছে। চার্জের দোকান মালিক রঞ্জু সরকার জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে মুন্নু মাঠে মোবাইল চার্জের দোকান দিয়েছি।
হারানো ও প্রাপ্তি : ইজতেমা মাঠের পশ্চিম দিকে হারানো ও প্রাপ্তি সেন্টার খোলা হয়েছে। ময়দানে কেউ কিছু হারালে ও কিছু পাওয়া গেলে সেখান থেকে সঠিক তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।
নামাজের কাগজ প্রতি পাতা ৫ টাকা : শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি যারা নামাজের জায়নামাজ সাথে আনেননি তারা প্রতি পাতা নামাজের কাগজ ৫ টাকা করে কিনে জায়নামাজ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নামাজ শেষে ইজতেমা ময়দান ও রাস্তায় হাজার হাজার পত্রিকার পাতা ও নামাজ পড়ার কাগজ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ময়দানের চারপাশে ভিক্ষুকের আনাগোনা : বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের চারপাশের রাস্তাগুলোতে ভিক্ষুকের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। এতে ময়দানে আসা দেশি-বিদেশী মুসল্লিদের রাস্তায় চলাচল করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
ইজতেমা ময়দানের ভেতরে হকারদের উৎপাত : প্রতিবছর ইজতেমা ময়দানের বেশ দূরত্ব বজায় রেখে হকাররা তাদের বিভিন্ন মালামালে পসরা সাজিয়ে বসতো। কিন্তু এবছর খোদ ময়দানের ভেতরেই তাদেরকে শীতের টুপি, পাঞ্জাবী-পায়জানা, মধু, আতর-তাসবিহ-টুপি ও মেছওয়াকসহ নানা ধরনের পণ্যের দোকান সাজিয়ে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। এতে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যাতায়াতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। এব্যাপারে টুপি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাস, তাসবিহ-টুপি বিক্রেতা আবু বকর সিদ্দিককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, দোকান নিয়ে বসাতে কেউ কিছু বলছে না। তবে উঠিয়ে দিলে চলে যাবো। এবিষয়ে জানতে চাইলে ইজতেমা ময়দানের ৮নং গেটের ইস্তেকবাল জামাতের আমীর মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হকাররা কিভাবে যে ময়দানে ঢোকে তা বুঝা যাচ্ছে না। তবে আমরা তাদেরকে ঢোকতে বারবার বারণ করি। তারপরও মুসল্লিবেশে ঢোকে যায়।
অজুর পানি ১০টাকা : জুমার জামাতে শরীক হতে আসা যেসব মুসল্লি ভীরের কারনে ময়দানে প্রবেশ করতে চাননি তাদের অজু করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে তাদেরকে প্রতি বদনা ১০টাকা করে কিনে অজুর কাজ সারতে হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভারব্রীজ : বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আসা মুসল্লিদের মহাসড়ক পারাপারে ষ্টেশনরোডের ফুটওভারব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফুটওভারব্রীজের ষ্টিলের পাটাতনগুলো মরিচা পড়ে খয়ে যাওয়ার পথচারিদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।