বাঁশের সাঁকোই আট গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা

আপডেটঃ ১০:১২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১২, ২০১৮

মোনায়েম খান, সি এন এ নিউজ, নেত্রকোনা :আট গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এই সাঁকো দিয়েই সব সময় যাতায়াত করেন। এমনকি পূর্বধলার কয়েক গ্রামের লোকজনেরও এই সাঁকোই ভরসা।
নেত্রকোনা সদর থেকে পূর্বধলার জারিয়ার ওয়াপদা বাঁধ পর্যন্ত সড়কে মেদনী ইউনিয়নের হাফানীয়া গ্রামে খালের ওপর পাকা সেতু নির্মিত না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরোলেও এলাকাবাসীর যাতায়াতের সমস্যা দূর হয়নি। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছেন।
জানা গেছে, মেদনী ইউনিয়নের হাফানীয়া গ্রামের এই খালের ওপর দিয়ে সদর উপজেলার টেঙ্গা, দশাশি, নিশ্চিন্তপুর, এরোয়ার চর, হাফানিয়া, পূবধলা উপজেলার- পূর্বডহর, দেবকান্দা, ধলামূলগাও গ্রামের মানুষ সারা বছর চলাচল করে থাকেন। খালের উপর একটি পাকা সেতু নির্মান এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। নিজেদের চলাচলের জন্য হাফানিয়া গ্রামের মানুষ প্রতি বছর এই সাঁকো নির্মাণ করেন। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের সময় এলেই নেতারা তাদের কাছে যান এবং এলাকা উন্নয়নের নানা কথা বলেন। নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ তাদের কাছে যায়না। তা না হলে জেলা সদরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ন এই সেতুটি নির্মান হচ্ছেনা ভাবতেও অবাক লাগে। বর্ষাকালে সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যায়। তখন ওই সেতুর উপর দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে এলাকাবাসীকে চলাচল করতে হয়। জরুরী রোগী নিয়ে জেলা সদরে যাওয়া খুই কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়ায়। সেতুর অভাবে উত্তর এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য ঠিকমত বাজার জাত করা যায়না। ফলে এলাকার কৃষকরা ফসলের ন্যাহ্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এলাকার শিক্ষার্থীদের বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
টেঙ্গা গ্রামের আবু হানিফা বলেন, এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যাতায়াতসহ রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার সময় খুব কষ্ট হয়। কত দিন পর অইল এই এলাকার দিকে কেউ নজর দিল না। হাফানিয়া গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “কাউরে বলে কোন লাভ নেই। আমাদের কথা কেউ চিন্তা করে না। ইলেকশন আইলেই নেতারা শুধু আমাদের কাছে আসে। এলাকার উন্নয়নে সুন্দর কইরা কথা বলে। এতগুলো মানুষ এই সড়ক দিয়া চলাচল করে। একটি সেতু বানানোর জন্য কেউ কাজ করেনা।” একই গ্রামের আলতাব মিয়া বলেন, আমরা গ্রামের লোকজন মিলে বাঁশ দড়ি দিয়া এই সেতুটি বানাই এবং সারা বছর চলাচল করি। বাইরের মানুষও চলাচল করে। বর্ষাকালে খুব খারাপ অবস্থা হয়।
মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান নোমান এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এই সড়কে পাকা সেতু নির্মাণ জরুরী। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলোচনা করে দিখি কি করা যায়।