নিরাপত্তার চাদরে ইজতেমাস্থল ও আশপাশের এলাকা টঙ্গীতে ৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু আজ

আপডেটঃ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ১২, ২০১৮

মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া, সি এন এ নিউজ,টঙ্গী  :আম বয়ানের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর কহর দরিয়া ও তুরাগ নদের তীরে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আজ শুক্রবার বাদ ফজর শুরু হয়েছে। পবিত্র হজ্বের পর বিশ্ব মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় মহাসমাবেশ এটি। তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত আগামী ১৪ জানুয়ারি রোববার অনুষ্ঠিত হবে। মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে (১৫, ১৬, ১৭, ১৮) দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা আগামী ১৯ জানুয়ারী শুরু হয়ে ২১ জানুয়ারি আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। কনকনে শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ ইতোমধ্যে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। তারা রেলপথ, সড়ক পথ, নৌ পথ এবং অনেকে পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে আসছেন। টঙ্গীর যে দিকে চোখ যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবী পড়া মুসল্লিদের দেখা মেলে। ইবাদাত-বন্দেগীর মোক্ষম সময় হৃদয়ে ধারণ করে মুসলি¬দের ¯্রােত টঙ্গী অভিমুখে বেড়েই চলছে। এ ¯্রােত থাকবে আখেরী মুনাজাতের আগ পর্যন্ত। ইতিমধ্যে ময়দানে আগত কয়েক লাখ মুসল্লি তাদের নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল রয়েছেন। আজ ইজতেমা ময়দানে দেশের বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপে ২৮টি খিত্তা এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৯টি খিত্তা স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ৩২ জেলার মুসল্লি¬রা এবছর দুই দফায় ইজতেমায় অংশ নেবেন। প্রথম পর্বে ১৬ জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসলি¬রা অংশ গ্রহণ করবেন। মাওলানা সাদ আহমেদ কান্ধলবীর ইজতেমায় অংশ গ্রহনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা ও জঙ্গি তৎপরতাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে পুরো ইজতেমাস্থল ও টঙ্গীর আশপাশের এলাকাকে ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢেকে ফেলেছেন প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
এবারের ইজতেমায় বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রায় ২৫ হাজার বিদেশী মেহমান আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দেশী-বিদেশী ইসলামী চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামগণ ছয় উসুল যথা-ঈমান, নামাজ, এলেম ও জিকির, একরামুল মুসলিমীন, তাসহীহে নিয়ত, দাওয়াত ও তাবলীগ সম্পর্কে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক মূল্যবান বয়ান রাখবেন। মূল বয়ান সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় তরজমা করা হবে। আজ শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আম বয়ান শুরু হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকেই খিত্তায় অবস্থানকারী মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান শুরু হয়েছে। আগত মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনি রোধক প্রায় ১৮০টি বিশেষ ছাতা মাইকসহ ৪৯০ মাইক স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদীতে ৭টি ভাসমান পন্টুন সেতু নিমার্ণ করেছেন।
ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি’র জন্য ৫টি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশী মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে ১৩টি তোরণ, নিরাপত্তার জন্য র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ১৫টিসহ মোট ২৪টি ওয়াচ টাওয়ার, ইজতেমায় নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের জন্য ১৫৪টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। ২৬টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম গ্রহণ, ইজতেমা কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক ১০০ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার, কেরাসিনতেল সরবরাহসহ ইজতেমা চলাকালে ২৫টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমসহ অন্যান্য স্থানে অস্থায়ীভাবে খুঁটি স্থাপনের মাধ্যমে ৪৯৬টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা, তুরাগ নদীতে নিরাপত্তার জন্য টঙ্গী ব্রিজ ও কামারপাড়া ব্রিজের নীচে দুই পার্শ্বে বাঁশ দিয়ে ২টি বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চৌরাস্তা পর্যন্ত, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের আহসান উল্লা মাষ্টার উড়াল সেতু পর্যন্ত দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাতে বসা হকার উচ্ছেদ, রাস্তায় পার্কিং করা গাড়িসমূহ অপসারণ, ধূলাবালী নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বক্ষণিক পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, রাস্তার দুই পাশে দেয়ালের অশ্ল¬ীল পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট অপসারণ ও সিনেমা হলসমূহ সম্পূর্ণ বন্ধের ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৬টি টেলিফোন লাইন ও ২টি হট লাইন স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য ৪৫টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপনসহ বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগত বিদেশী মেহমানদের রান্নার কাজের জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন কাজ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে ১২টি কমিটি এগুলোর সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।
দাওয়াতে তাবলীগ আর্বিভাব : ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের চরম ক্রান্তিলগ্নে তাবলিগ জামাতের কাজ শুরু করেন মাওলানা ইলিয়াস (১৮৮৫-১৯৪৪ খ্রি.)। ব্রিটিশ শাসনের ফলে চারিত্রিকভাবে বিপর্যস্থ ধর্মকর্মহীন, অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন নামে মাত্র মুসলমানদেরকে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, ধর্মের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন ও কালেমার মর্ম শিক্ষাদান এবং বিভ্রান্তির কবল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তিনি এ কাজ শুরু করেছিলেন। তাবলিগ এর যে ৬ টি মূলনীতিকে সামনে রেখে কাজ করেন সেগুলো হলো- ১. কালেমা ২. নামাজ ৩. ইলম ও জিকির ৪.ইকরামুল মুসলিমিন ৫. সহিহ নিয়ত ৬. দাওয়াত ও তাবলিগ। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর ন্যায়নিষ্ঠা, ধৈর্য, পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অপরিসীম ভূমিকা রাখে। তিনি পথহারা মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে ১৯৪৪ সালের ১৩ জুলাই ৫৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এরপর তাবলিগ জামাতের দ্বিতীয় আমির মাওলানা ইউসুফ (রহ.)-এর যুগে তাবলিগের কাজ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রসিদ্ধি লাভ করে ও মানুষ দলে দলে এ কাজের প্রতি আত্মনিয়োগ করতে থাকে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কিছু মানুষের কাছে দ্বীনের কথা প্রচারের মধ্যদিয়ে তাবলিগ জামাত চলতে থাকে পথে-প্রান্তরে। যে যাত্রা এখনও চলমান। বছরান্তে দ্বীনের দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত তাবলিগ জামাতের লোকদের একত্র করে কিছু দিক-নির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে বার্ষিক ইজতেমার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইজতেমা আরবি শব্দ। অর্থ সমবেত হওয়া। সাধারণত তাবলিগের অনুসারিরা সর্বনিম্ন তিন দিন আল্লাহর রাস্তায় দ্বীনের দাওয়াতের কাজে কাটানোর নিয়ত করেন। সে হিসেবে প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় তিন দিন ব্যাপী। বাংলাদেশে ১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্ক সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে তৎকালীন হাজিক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তখন এটা কেবল ইজতেমা হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রতিবছর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বাড়তে থাকায় ১৯৬৬ সালে ইজতেমা গাজীপুরের টঙ্গীর পাগার ও পরে তুরাগ নদের তীরে বর্তমানস্থলে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে সরকারীভাবে তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেওয়ায় ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে এর পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৭ সাল থেকে বর্তমান অবধি ‘বিশ্ব ইজতেমা’ টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সাদকে নিয়ে বিতর্ক : ভারতীয় উপমহাদেশের সুন্নী মতাবলম্বী মুসলমানদের তাবলিগ জামাতের মূল কেন্দ্র বা মারকাজ দিল্লির ঐ কেন্দ্রীয় পর্ষদকে বলা হয় নেজামউদ্দিন, যার ১৩ জন শুরা সদস্যের মাধ্যমেই উপমহাদেশে তাবলিগ জামাত পরিচালিত হয়। তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হজরত ইলিয়াস শাহ (রাহ.) এর নাতি মাওলানা সাদ কান্ধলভি। শত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন ইলিয়াস (রাহ.) এবং এরপর আমিরের দায়িত্বে ছিলেন তার ছেলে মাওলানা হারুন (রাহ.)। এরপর দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মাওলানা জুবায়েরুল আহসানের ইন্তেকালের পর আমিরের দায়িত্বে আসেন মাওলানা সাদ আহমেদ কান্ধলভী। সম্প্রতি তিনি নিজেকে তাবলিগের আমির দাবি করেন। ফলে তার আসা নিয়ে বাংলাদেশে তাবলিগের মূল দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। যেটি হচ্ছে মাওলানা সাদের দেয়া বিভিন্ন বয়ান নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় কুরআন, হাদিস, ইসলাম, নবি-রাসুল ও নবুয়ত এবং মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আপত্তিকর বয়ান করেছেন। ফলে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অনুসারিরা আগামীকাল ১২ জানায়ারি থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমায় বর্তমান আমির মাওলানা সাদের পদ ও অংশ গ্রহন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাবলিগ জামাতের একটি গ্রুপ তার অংশ গ্রহণের বিরোধিতা করছে। গত ২৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে বাংলাদেশ থেকে তাবলিগ ও উলামায়ে কেরামের সমন্বিত একটি প্রতিনিধি দল ভারতে তাবলিগের মূলকেন্দ্র নিজামুদ্দিন ও দারুল উলুম দেওবন্দ সফর করেন। দেশে ফিরে দলটি একটি প্রতিবেদন পেশ করেন। সফরকারী দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাওলানা সাদ আহলেসুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতাদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থি অসতর্ক হয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার জন্য নিজের ভুল স্বীকারের আহবান জানান। এদিকে মালয়েশিয়া তাবলিগের শুরা কর্তৃপক্ষ মাওলানা সাদের অংশগ্রহন ও সৃষ্ট পরিস্থিতির কারনে বিশ্ব ইজতেমাকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তরের হুমকি দিয়েছে। অবশেষে নানা নাটকীয়তার পর মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভি গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কড়া পুলিশ পাহারায় কাকরাইল মসজিদে অবস্থান নেন। সাদ বিরোধীরা কাকরাইল মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করলেও পুলিশী তৎপরতার কারনে তা সম্ভব হয়নি। মাওলানা সাদ মসজিদে ঢোকার পরপরই মসজিদের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। তবে তার আগমনের আগে গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশী করে খুজেন সাদের মতাদর্শ বিরোধীরা। বিরোধী মদাদর্শীরা বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে সাদের ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের কারণে তার সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আহমদ শফীসহ বাংলাদেশের সিনিয়র আলেমরাও চান, বিশ্ব ইজতেমায় সংঘর্ষ এড়াতে সাদ ও তার অনুসারী বা বিরোধীরাও যেন ইজতেমায় অংশ না নেন। যদিও সাদের ঢাকা সফরের পক্ষে রয়েছেন তাবলিগের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খান শাহাবুদ্দীন নাসিম, অধ্যাপক ইউনূস শিকদার ও মাওলানা মোশাররফ হোসাইন। এদিকে সাদ সমর্থকদের দাবি, একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে মাওলানা সাদ এর বিরোধিতা করছেন। মাওলানা সাদ বাংলাদেশে যখন এসেছেন, ইজতেমায় বয়ানও করবেন বলে আশাবাদ তাদের।
বিশ্ব ইজতেমার উদ্দেশ্য : বিশ্ব ইজতেমার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, তিন দিন দেশ-বিদেশের ঈমানদার ত্যাগী আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান শুনে আখেরি মোনাজাত করে ইমান-আমলের দাওয়াত সারা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়া। শুধু ইসলামি বয়ান শোনা কিংবা আখেরি মোনাজাতে প্রচুর লোকজনের অংশগ্রহণ করা ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য নয়। লক্ষ্য হলো, যাতে বেশি তাবলিগ জামাত বের হয়। প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমা থেকে দেশে-বিদেশে এক চিল্লা (৪০ দিন), তিন চিল্লা (চার মাস), ছয় মাস ও এক বছরের জন্য কয়েক হাজার জামাত তাবলিগের কাজের জন্য বের হয়। এর প্রতিটি জামাতে থাকে ১৪ থেকে ১৫ জন করে মুসল্লি। জামাত বের হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রথমত, জামাতের সাথিদের ইমান-আমল ও ইলম অর্জন করা এবং আত্মশুদ্ধি হওয়া। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি মসজিদ থেকে জামাত বের করা। তৃতীয়ত, প্রতিটি মসজিদে পাঁচ আমল পরিপূর্ণ চালু করা (সপ্তাহে দুই দিন গাশত (মানুষকে নামাজের দিকে ডাকা, সৎ কাজ করতে বলা, তাবলিগে যেত উদ্ধুদ্ধ করা), প্রতিদিন মাশওয়ারা (পরামর্শ) করা, প্রতিদিন আড়াই ঘণ্টা দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া, প্রতিদিন মসজিদ ও বাড়িতে তালিম করা এবং মাসে তিন দিন তাবলিগে যাওয়া)। প্রতিটি জামাত নির্ধারিত এলাকার প্রতি মসজিদে দুই-তিন দিন করে থেকে তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, ইমান ও আমলের দাওয়াতের কাজে ব্যস্ত থাকে। এ বছর দেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে একটি করে তাবলিগ জামাত বের করার লক্ষ্য নিয়ে ৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমা গতকাল শুরু হয়েছে।
পানি ও গ্যাস সরবরাহ : ইজতেমা আয়োজক তাবলিগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও ওয়াসা, তিতাসসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোও তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয় ওয়াসা ও তিতাসগ্যাস কোম্পানী সূত্রে জানা যায়, ইজতেমা ময়দানে ১৩ টি গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। ১৮.৫ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধমে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি মুসল্লিদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন ১ হাজারসহ ৯ হাজার ১শ’ ৬টি স্থায়ী টয়লেট, ৫ হাজার মুসল্লি এক সাথে ওজু করার ব্যবস্থা, গোসলখানা, কাঁচা টয়লেট তৈরি ও পুরাতনগুলো মেরামত করা হয়েছে। সম্পন্ন করা হয়েছে বিদেশি মেহমানখানায় ও ইজতেমা আয়োজকদের রান্না বান্নার জন্য চুলাসহ প্রয়োজনীয় স্থানে গ্যাস (হাই প্রেসার/ লো প্রেসার) সংযোগের কাজ। ভাম্যমান পানির গাড়ি, পানির ট্যাংক গাড়ি, মোবাইল জেনারেটর ছাড়াও বিশেষ কারনে পানির সমস্যা দেখা দিলে অস্থায়ী ২টি গভীর নলকুপ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডেসকোর প্রকৌশলী (তত্বাবধায়ক) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ডেসকোর উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রিড ও টঙ্গী নিউ গ্রিডকে ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করেছে, যাতে করে একটি গ্রিড অকেজো হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত না হয়। এছাড়া ১৯ টি বিতরণ কেন্দ্র, ৫ টি ১১ কেভি ফিডার লাইন, স্ব স্ব স্থানে ৫ টি ট্রলি ট্রান্সফরমার ও অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসাবে ৪ টি জেনারেটর সব সময়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হঠাৎ কোন কারনে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লে সাথে সাথে যাতে বদল করা যায়। এজন্য ডেসকোর প্রায় ২৫০ জন কর্মী পালাক্রমে ২৪ ঘন্টা কর্মরত রয়েছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ডেপুটি ডাইরেক্টর মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ইজতেমাস্থলে তাদের একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষনিক কর্মকর্তাসহ ফায়ারম্যানরা অবস্থান করবেন। ময়দানের প্রতি খিত্তায় ফায়ার এক্সস্টিংগুইসারসহ ২জন ফায়ারম্যান, গুদাম ঘর ও বিদেশি মেহমান খানা এলাকায় ৩টি পানিবাহী গাড়ি, ৩ সদস্যের ডুবুরী ইউনিট, ১টি স্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট এবং ৩টি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এছাড়াও ৬ টি মোবাইল জেনারেটর, ১টি রেসকিউ বোর্ড, ১টি রেসকিউ গাড়ী, টু-হেলার মোটর সাইকেল টহলসহ ১৪ টি ফায়ার ফাইটিং ইউনিট রয়েছে । ফায়ার সার্ভিসের ২০ জন কর্মকর্তাসহ ২৫০ কর্মী সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও মুসল্লিদের সার্বক্ষনিক সেবাদানে ফায়ার সার্ভিসের নতুন ‘হেজমেক’ টিম এ বছর দায়িত্ব পালন করছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক নাহিম রেজা জানান, ষ্টেশন রোড ও টঙ্গী বাজার ফুট ওভার ব্রিজসহ বিভিন্ন সড়কে মেরামত কাজ ইতি মধ্যেই শেষ করা হয়েছে। এছাড়াও অত্র সংস্থার পক্ষ থেকে একটি পানির গাড়ি দেয়া হয়েছে।
ইজতেমায় প্রথম দফায় যে সকল জেলার আগমন : এবারের বিশ্ব ইজতেমায় প্রথম দফায় ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশ গ্রহণ করবেন। প্রথমবারে অংশ নেয়া জেলা ও খিত্তা নম্বরগুলো হলো- ইজতেমায় প্রথম দফায় যে সকল জেলার আগমন : এবারের বিশ্ব ইজতেমায় প্রথম দফায় ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশ গ্রহণ করবেন। প্রথমবারে অংশ নেয়া জেলা ও খিত্তা নম্বরগুলো হলো-ঢাকা জেলার (খিত্তা নং-১,২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ১৬, ১৮, ২০, ২১), পঞ্চগড় (খিত্তা নং-৯), নীলফামারী (খিত্তা নং- ১০), শেরপুর (খিত্তা নং- ১১), নারায়নগঞ্জ (খিত্তা নং- ১২, ১৯), গাইবান্ধা (খিত্তা নং- ১৩), নাটোর (খিত্তা নং- ১৪), মাদরীপুর (খিত্তা নং- ১৫), নড়াইল (খিত্তা নং- ১৭), লক্ষীপুর (খিত্তা নং- ২২, ২৩), ঝালকাঠি (খিত্তা নং- ২৪), ভোলা (খিত্তা নং- ২৫, ২৬), মাগুড়া (খিত্তা নং- ২৭), পটুয়াখালী (খিত্তা নং- ২৮) জেলার মুসলি¬রা অবস্থান করবেন। এদিকে মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়দানের উত্তর দিক থেকে ক্রমানুসারে দক্ষিণ দিকে খিত্তার নম্বর বসানো হয়েছে।
পটুয়াখালী থেকে আগত মুসল্লি ইউনুস আলী (৭৫) বলেন, আল্লাহ ও রাসুল সম্পর্কে জেনে, দিনের পথে আসার উদ্দেশ্যে ইজতেমায় আসলাম। আল্লাহপাক রাজি হলে ভাল কিছু (রহমত) নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারব। গাইবান্ধা থেকে আগত বাহার উদ্দিন (৭৬) বলেন, আর কতদিন বাচব, এত লোকের উসিলায় যদি গুনাহ মাফ হয়ে যায় তাহলে নিস্পাপ হয়ে বাড়ি যেতে পারব। নীলফামারীর আলহাজ্ব আবু বকর জানান, আল্লাহ যাতে আমার উপর রাজি-খুশী হয়, পরকালে যেন শান্তি পাই সে জন্যই ইজতেমায় আসলাম।
বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনের আহ্বান : কামারপাড়া হতে সূইচগেট পর্যন্ত তুরাগ নদের সীমানা পিলার থেকে ১৫০ ফুটের মধ্যে গড়ে তোলা সকল ধরনের স্থাপনা গত বৃহস্পতিবার থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ ও গাজীপুর জেলা প্রশাসন। নৌপরিবহন উপ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মুসল্লিদের সেবা নিশ্চিত করতে ওয়াটার বাস, স্পিড বোটসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
রেলওয়ে ও বাস সার্ভিস : টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা মোঃ হালিমুজ্জামান জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের সুষ্ঠু যাতায়াতের জন্য ১৯টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৪ জানুয়ারি বাদ জুমা ঢাকা-টঙ্গী, টঙ্গী-ঢাকা এবং ১৫ জানুয়ারি লাকসাম-টঙ্গী বিশেষ ট্রেন চলবে। ১৪ জানুয়ারি প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন ভোর ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আপ মোনাজাত বিশেষ ৪ জোড়া এবং টঙ্গী-ময়মনসিংহ বিশেষ ২ জোড়া, ঢাকা-টঙ্গী ৪ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী সব ট্রেন ২মিনিট পর্যন্ত টঙ্গী ষ্টেশনের দাঁড়াবে। সাপ্তাহিক বন্ধের সকল ট্রেনও ওই সময়ে চলাচল করবে। তবে এ লাইনে ১৪ জানুয়ারি ডেমু ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া ইজতেমায় আগত যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অতিরিক্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মোনাজাতের দিন চলবে শ্যাটল বাস : গাজীপুরের তথ্য কর্মকর্তা এসএম রাহাত হাসানাত জানান, আগামীকাল শনিবার রাত থেকে রোববার আখেরি মোনাজাতের সময় পর্যন্ত টঙ্গী কলেজ গেইট থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, সাভারের বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি ছাড়া সাধারন যানবাহন বন্ধ থাকবে। তবে মোনাজাতের দিন রোববার সকাল থেকে গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকা থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত মুসল্লি¬দের সুবিধার্থে ৫৪টি বিআরটিসি বাস ও ব্যাক্তি মালিকানাধীণ প্রায় ৫০টি (ইজতেমার স্টিকার লাগানো) শ্যাটল বাস চলাচল করবে। এছাড়া ইজতেমায় মুসল্লি¬দের যাতায়তের জন্য বিভিন্ন স্ট্যান্ড থেকে বিআরটিসি’র বেশকিছু বাস চলাচল করছে। সুষ্ঠুভাবে বাস সার্ভিস চলাচল নিশ্চিত করার জন্য করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। এছাড়াও চলচিত্র অভিনেতা ডিপজল মুসল্লিদের সেবায় ৫০ বাস প্রদান করেছেন।
ইজতেমায় যানবাহন চলাচল এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনা : দুই পর্বের ইজতেমা উপলক্ষে আগামী ১৪ ও ২১ জানুয়ারি রাত ১০ টা হতে আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত-
যে সব স্থানে পার্কিং করতে হবে : ঢাকা বিভাগ-সোনারগাঁও জনপথ চৌরাস্তা হতে দিয়াবাড়ি খালপাড় পর্যন্ত, ঢাকা মহানগর-উত্তরাস্থ শাহজালাল এভিনিউ, নিকুঞ্জ-১ ও নিকুঞ্জ-২ এর আশপাশের খালি জায়গা, ঢাকা জেলা-আশুলিয়া কলেজ ও হাইস্কুল মাঠ, চট্টগ্রাম বিভাগ-গাউছুল আজম এভিনিউ (১৩নং সেক্টর রোডের পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত হয়ে গরীবে নেওয়াজ রোড), সিলেট বিভাগ-উত্তরা ১২নং সেক্টর শাহমখদুম এভিনিউ, খুলনা বিভাগ-উত্তরা ১৬ ও ১৮নং সেক্টরের খালি জায়গা, রংপুর বিভাগ-কামারপাড়া ট্রাকস্ট্যান্ড ও ১০নং সেক্টর খালি জায়গা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ-প্রত্যাশা হাউজিং, বরিশাল বিভাগ-ধউড় ব্রিজ ক্রসিং সংলগ্ন আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালি জায়গা ও বিআইডব্লিউটিএ’র ল্যান্ডিং স্টেশন, গাজীপুর জেলা-টঙ্গী কাদেরীয়া টেক্সটাইল মিল, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের পার্শ্বের রাস্তার উভয় পাশ, শফিউদ্দিন সরকার একাডেমী মাঠ ও সংলগ্ন ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে টিআইসি মাঠ, ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ মাঠ, জয়দেবপুর চৌরাস্তা ট্রাকস্ট্যান্ড, চান্দনা হাই স্কুল মাঠ, টঙ্গীর কে-২/নেভি সিগারেট ফ্যাক্টরির পাশে।
যে সকল সড়কে যান চলাচলে নিষেধ : তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল রেইনবো ক্রসিং হতে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ধউড় ব্রিজ পর্যন্ত। প্রগতি সরণি ক্রসিং হতে রামপুরা ব্রিজ। প্রগতি সরণি ক্রসিং হতে আব্দুল্লাহপুর। আব্দুল্লাহপুর হতে ধউর ব্রিজ, আশুলিয়া ব্রিজ হতে আব্দুল্লাহপুর-প্রগতি সরণি ও টঙ্গী ব্রিজ হতে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে (তবে বিমানযাত্রী ও ক্রু বাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও এ্যাম্বুলেন্স চলতে পারবে)। ভিআইপি গমনাগমনের সময় এয়ারপোর্ট রোড যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ধউর ব্রিজ হতে বাইপাইল মোড় পর্যন্ত পার্কিং করা যাবে না। নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং করতে হবে। অবৈধভাবে পার্কিংকৃত যানবাহন অপসারণ করা হবে।
যে সকল সড়কে যান চলবে : ঘোড়াশাল হতে কালীগঞ্জ-পূবাইল হয়ে আসা যানবাহন টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব মারকুল (কে-২) পর্যন্ত, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে ঘোড়াশাল হয়ে ঢাকাগামী সাধারণ যানবাহনসমূহ উক্ত রাস্তা এড়িয়ে কাঁচপুর/যাত্রাবাড়ী সড়কে চলাচল করতে পারবে, ইজতেমায় গমনেচ্ছুক মুসল্লি, উত্তরাবাসি, বিমানযাত্রী ও ক্রু বাহী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ও এ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সকল প্রকার যানবাহন বিমানবন্দর সড়ক পরিহার করে বিকল্প পথে মহাখালী-বিজয় সরণী হয়ে মিরপুর গাবতলী সড়ক ব্যবহার করবেন, ঢাকা মহানগর থেকে যে সকল মুসল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে যাবেন তাদেরকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গোলচত্ত্বর-আজমপুর-আব্দুল্লাহপুর হয়ে টঙ্গী ব্রিজ পরিহার করে তুরাগ নদীর উপরে নির্মিত বেইলী ব্রিজ অথবা কামারপাড়া ব্রিজ দিয়ে ইজতেমা স্থলে যাতায়াত করতে পারবে।
বিদেশী মুসল্লিদের প্রতি সতর্কতা : গত বারের চেয়ে এবারের ইজতেমায় আরো বেশী বিদেশী মুসল্লি অংশ গ্রহন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হবে। এছাড়াও আর্ন্তজাতিক নিবাসে মেহমানদের রান্না-বান্নায় বিশেষ নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে তাদের ফুড পয়জনিং না হয়।
বিদেশী মুসল্লিদের প্রতি সতর্কতা : গত বারের চেয়ে এবারের ইজতেমায় আরো বেশী বিদেশী মুসল্লি অংশ গ্রহন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হবে। এছাড়াও আর্ন্তজাতিক নিবাসে মেহমানদের রান্না-বান্নায় বিশেষ নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে তাদের ফুড পয়জনিং না হয়।
গাজীপুর সিভিল সার্জন ড. সৈয়দ মনজুরুল হক বলেন, ইজতেমায় মুসলিল্লদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ১টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, বিভিন্ন স্থানে ৪টি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প ও বিদেশী মেহমানদের জন্য ১টি জরুরী স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপনসহ শহীদ আহসান উল্লা মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের সকল বিভাগে চিকিৎসা সেবা চলমান রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রনে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স, ১টি হৃদরোগ ইউনিট, ১টি বক্ষব্যাধি ও এ্যাজমা ইউনিট, ১টি ট্রমা (অর্থোপেডিক) ইউনিট, ১টি বার্ণ ইউনিট, ১৮টি স্যানিটেশন টিম রাখা হয়েছে। এছাড়াও চক্ষু, বার্ণ, মেডিসিন ও সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞসহ ১০৮ জন চিকিৎসক তালিকা ও ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী ৩ শিফটে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। ১টি স্পেশাল টিম সকল কাজের মনিটরিং করছেন। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে শহীদ আহসান উল্লা মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ইজতেমা চলাকালীন সময় ছুটি বাতিল করেছেন। সার্বক্ষনিক যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য ৩৫টি নতুন টেলিফোন লাইন সংযোগ করা হয়েছে।
মিডিয়া সেন্টার : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের উত্তরপার্শ্বে নিউ মুন্নু ফাইন কটন মিলস মাঠে টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে একটি অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া বলেন, মিডিয়া সেন্টারে বিদ্যুৎ ও কম্পিউটারসহ সব ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ : টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাব, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ, ইবনে সিনা, টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, বেক্সিমকো, স্কয়ার কোম্পানী, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, র‌্যাব, ইমাম সমিতি, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেলে কলেজ ও হাসপাতাল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাফেজ্জী হুজুর (রা.) সেবাসংস্থা, আবেদা মেমোরিয়াল হাসপাতাল, গ্রামীণফোন, ইউনানী আর্য়ুবেদীকসহ ৪৫টি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজতেমায় ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এ কার্যক্রম প্রথম পর্ব থেকে শুরু করে দ্বিতীয় পর্বের আখেরী মোনাজাতের দিন পর্যন্ত চলবে।
ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা : বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে আইনশৃংখলা জোরদার করা হয়েছে। ৫সেক্টরে ভাগ করে ৬স্তুরের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি স্তর বা সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন ২জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। ১৮টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হচ্ছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরাগুলো। এছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, বাইনোকুলার, নাইটভিশন গগল্স, পুলিশ ও র‌্যাবের ষ্ট্রাইকিং ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, নৌ টহল, হেলিকপ্টার টহল, ১১টি চেক পোষ্ট, ৩টি পয়েন্টে হ্যালিপ্যাড ব্যবস্থা, খিত্তাওয়ারী মোটরসাইকেল টহল। প্রতিটি খিত্তায় ৬জন করে বিশেষ টুপি পরিহিত ও সাদা পোশাকধারী আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য অবস্থান করবেন। তারা কোন প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতার ইঙ্গিত পেলে বিশেষ সিগনালের মাধ্যমে সংশিশ্লষ্ট কর্মকর্তাদের তৎক্ষণিক অবহিত করবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং এর জন্য একটি প্রধান কন্ট্রোল রুম ও ৫টি সাব কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও তারা ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে প্রত্যক্ষ করার জন্য ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের স্ক্রিনে সার্বক্ষনিক নজর রাখবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে বসানো র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ১৫টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষনিক বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পর্যবেক্ষণ করবেন। এবার প্রথম পর্বে ৭ হাজার পুলিশসহ র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পুলিশ, সাদা পোশাকধারী, সিআইডি ক্রাইমসিন টিমসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েন ছাড়াও মাঠের ভিতর-বাইরের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশ পৃথক পৃথক ভাবে সিসি ও ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিং করছে। এছাড়া বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল¬াশী করা হচ্ছে। ইজতেমা ময়দানের সব প্রবেশ পথে শতাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি পর্যবেক্ষন টাওয়ার রয়েছে। ময়দানের আশপাশে কোন দোকানপাট, হকার ও ভিক্ষুকের আনাগোনা থাকবে না। অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইজতেমা ময়দানে বিদেশী নিবাসের তিনটি রাস্তায় একটি করে আর্চওয়ে নামের বিশেষ পরীক্ষণ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। যার ভেতর দিয়ে কেউ কোন ধরনের বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করলে বিশেষ সিগনাল প্রদান করবে।
টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. ফিরোজ তালুকদার জানান, ইজতেমায় চুরি, ছিনতাই রোধ, মাদক ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ, জাল টাকা কারবার রোধসহ এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেকোন প্রকার নাশকতা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোড়দার করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, জঙ্গিবাদের কথা মাথায় রেখে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকায় আইনশৃংলা নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক জানান, ইজতেমা শুরুর আগের দিন থেকে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও পঁচাবাসী খাবার সরবরাহ, বিভিন্ন অপরাধীদের নিয়ন্ত্রনসহ তাদের তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে প্রায় ৩০ টি ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করবে।
পরিদর্শণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে গাজীপুর পুলিশ সুপার মোঃ হারুন-অর-রশিদ জানান, ইজতেমা মাঠের নিরাপত্তার জন্য ৫ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেন র‌্যাবের এডিজি অপারেশন কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান। পরে তিনি ময়দানের উত্তর পাশে মন্নু টেক্সটাইল মিলের মাঠে স্থাপিত র‌্যাবের কন্ট্রোল রুমের পাশে সকাল ১১টায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগত দেশ-বিদেশী মুসল্লি¬দের নিরাপত্তা বিধানে র‌্যাবের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ময়দানের কোন ধরনের জঙ্গি হামলা বা নাশতকার কোন আশংকা নেই। তবে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় র‌্যাব সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। মুসল্লি¬দের নিরাপত্তায় হেলিকপ্টার টহল শুরু হয়েছে। এছাড়া বোম্ব ডিসপোজাল টিম, মোটর সাইকেল পেট্রোল, বাইনোকুলার, নাইটভিশন গগলস, স্টাইকিং ফোর্স, স্পিড বোট নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়াও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে র‌্যাবের ইন্টিলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা পুরো ময়দান পর্যবেক্ষণ করছেন।
ডিএমপি’র কর্নেল সারোয়ার হোসেন জানান, মুসল্লিদের চলাচল নির্বিঘœ করতে আব্দুল্লাপুর ও উত্তরাসহ ঢাকাতে অতিরিক্ত ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়ন থাকবে। মোনাজাতের দিন আরো অধিক ৫শ’ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। ৪ সেক্টরে ভাগ করে তাদের দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে।
এদিকে, ইজতেমাকে কেন্দ্র করে ময়দানের আশপাশের ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যদ্রব্য সামগ্রীর মূল্য দ্বি-গুন করে বাজারজাত করছে। এতে এলাকাবাসী ও ইজতেমায় আগত মুসল্লি¬দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, প্রতিবছর বিভিন্ন নকল ঔষধ বিকেতা চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে এক ঔষধে বহু রোগ বালাই ভালো হওয়ার দোহাই দিয়ে ইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের সরলতার সুযোগে প্রতারনা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইজতেমাস্থলের আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, জায়গা লিজ নেয়া মালিক পক্ষ তাদের কাছ থেকে প্রতি বর্গফুট জায়গার ভাড়া ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা, প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিল বাল্ব প্রতি ২ শত থেকে ৪ শত টাকা ও পানির বিল প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা নিচ্ছেন। যা রীতিমত জুলুমের সামিল। এসব কালোবাজারী, মুনাফালোভী ও জুলুমবাজদের নিয়ন্ত্রনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান বলেন, বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ও রোগজীবানু দূরীকরণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে বি¬চিং পাউডার ছিটানো, মশা মাছি তাড়াতে মশানাশক ঔষুধ ¯েপ্র করা, রাস্তার ধূলাবালি রোধে পানি ছিটানোসহ মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপগুলো যতাযথ ভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইজতেমার আয়োজক তাবলীগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও সংশ্লি¬¬ষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলো তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রথম পর্বে অংশ গ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লি¬রা ময়দানে স্ব-স্ব খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে নির্বিঘেœ ইজতেমা শেষ হবে।