কাল টঙ্গীতে শুরু হচ্ছে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব দলে দলে আসছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা

আপডেটঃ ২:৩৭ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১১, ২০১৮

মো. জাকির হোসেন,সি এন এ নিউজ, টঙ্গী :রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের তীরে কাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এদিকে ইজতেমাকে সামনে রেখে এখন লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে তুরাগ নদের পূর্বতীর। এ উপলক্ষে শিল্পনগরী টঙ্গী সেজেছে নতুন সাজে। এরই মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাবলিগ অনুসারি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইস্তেমায়ী সামানা নিয়ে ইজতেমা ময়দানে জড়ো হচ্ছেন। ১২ জানুয়ারি ইজতেমা শুরু হলেও গতকাল বুধবার থেকেই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিরা দলে দলে আসতে শুরু করেছেন।
শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি দুপুরে অর্থাৎ জোহরের নামাজের আগে যে কোনো এক সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। এরই মধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতিরকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদে ৭টি ভাসমান পন্টুন সেতু নিমার্ণ করেছেন। ১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেলের কাজ, খুঁটিতে নম্বর প্লেট, খিত্তা নম্বর, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, তাশকিল কামরা, মহিলাদের জন্য মাস্তুরাত কামরা, হালকা নম্বর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আগত মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক প্রায় দুই শতাধিক বিশেষ ছাতা মাইকসহ প্রায় ৪শ’ টি মাইক স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে বিশৃংখলা এড়াতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ময়দানে আসা-যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা আরোপ করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি রাখার নির্দেশ রয়েছে।
ময়দানে খিত্তাভিত্তিক মুসল্লিদের অবস্থান : এবছর প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যেসমস্ত খিত্তায় অবস্থান করবেন তা হলো- ঢাকা (খিত্তা (১-৮), ১৬, ১৮, ২০ ও ২১), পঞ্চগড় (খিত্তা-৯), নীলফামারী (খিত্তা-১০), শেরপুর (খিত্তা-১১), নারায়ণগঞ্জ ( ১২ ও ১৯), গাইবান্দা (খিত্তা-১৩), নাটোর (খিত্তা-১৪), মাদারীপুর (খিত্তা-১৫), নড়াইল (খিত্তা-১৭), লক্ষ্মীপুর (খিত্তা-২২ ও ২৩), ঝালকাঠী (খিত্তা-২৪), ভোলা (খিত্তা-২৫ ও ২৬), মাগুরা (খিত্তা-২৭) ও পটুয়াখালীর মুসল্লিরা ২৮নং খিত্তায় অবস্থান করে তাদের ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন।
ইজতেমা উপলক্ষে আইনশৃংখলা জোরদার : বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে আইনশৃংখলা জোরদার করা হয়েছে। পাচঁ সেক্টরে ভাগ করে ছয় স্তুরের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে প্রায় ৭ হাজার পুলিশসহ র‌্যাব, সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। তবে গত সোমবার থেকেই ময়দানের প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে র‌্যাবের কমিউনিকেশন উইং ও পুলিশের পক্ষ থেকে ১৮টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, নাইটভিশন গগল্স, বাইনোকুলার, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, হেলিকপ্টার-নৌ টহল ও স্টাইকিং ফোর্স। র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ ইজতেমা মাঠে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি রাখবেন। প্রতিটি খিত্তায় বিশেষ টুপি পরিহিত ও সাদা পোশাকধারী ৬ জন করে গোয়েন্দা সদস্য অবস্থান করবেন। তারা কোন প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতার ইঙ্গিত পেলে বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎক্ষণিক অবহিত করবেন। এছাড়াও তারা ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে প্রত্যক্ষ করার জন্য ল্যাপটপ কম্পিউটারের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখবেন। ১৪ টি গাড়িসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্কাবস্থায় রাখা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে বসানো র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ১৫টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পর্যবেক্ষণ করবেন।
যানবাহন চলাচল : ইজতেমার দুই পর্বে আখেরী মোনাজাতে অংশগ্রহণের জন্য লাখ লাখ মুসল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে যাতায়াত করবে বিধায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ, কালীগঞ্জ-টঙ্গী মহাসড়কের নিমতলি ব্রিজ হতে স্টেশনরোড ওভারব্রিজ পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মুন্নু টেক্সটাইল মিল গেট পর্যন্ত সড়কপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১০টা থেকে নিমতলী রেলক্রসিং থেকে ষ্টেশনরোড, কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মন্নু গেইট, ভোগড়া বাইপাস থেকে টঙ্গীবাজার ব্রিজ পর্যন্ত যানচলাচল বন্ধ থাকবে।
এছাড়া পন্টুন সেতু নির্মাণ, মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও চলাচলের সুবিধার্থে কামারপাড়া সেতু থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত তুরাগ নদীতে সকল প্রকার নৌযান চলাচল ও নোঙ্গর করা ৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নৌযানসমূহ টঙ্গী সেতুর পূর্ব পাশে এবং কামারপাড়া সেতুর উত্তর পাশে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে।
যানবাহন পার্কিং : ইজতেমা চলাকালীন সময়ে জয়দেবপুর চান্দনা চৌরস্তা হয়ে আগত মুসল্লিদের বহনকারী যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য টঙ্গীস্থ কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিল কম্পাউন্ড, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের পাশ, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী মাঠ প্রাঙ্গণ, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী মাঠের উত্তর পাশে টিআইসি মাঠ, জয়দেবপুর থানাধীন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, চান্দনা চৌরাস্তা হাইস্কুল মাঠ, জয়দেবপুর চৌরাস্তা ট্রাকস্ট্যান্ড এবং নরসিংদী কালীগঞ্জ হয়ে আগত মুসল্লিগণের বহনকারী যানবাহন টঙ্গীস্থ কেটু সিগারেট ফ্যাক্টরী সংলগ্ন খোলা জায়গায় গাড়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়াও ইজতেমায় আগত মুসল্লিগণের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য ১১ জানুয়ারি ভোর ৬টা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা-টঙ্গী-ডিএমপি এলাকায় প্রবেশের পরিবর্তে জয়দেবপুর চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী চন্দ্রা ত্রিমোড়, বাইপাইল, নবীনগর, আমিন বাজার হয়ে চলাচলের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১১-১৩ জানুয়ারি ও ১৮-২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাস্তুহারা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়ক, স্টেশনরোড ওভারব্রিজ থেকে রেলগেট ও মুন্নু টেক্সটাইল মিল হয়ে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে যানজট এড়ানোর জন্য মোটরযান ব্যতীত রিক্সা, ভ্যান ইত্যাদি চলাচল বন্ধ থাকবে।
ইজতেমায় ২৪টি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস : টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হালিমুজ্জামান বলেন, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের সুষ্ঠু যাতায়াতের জন্য ২৪টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১২ জানুয়ারি বাদ জুমা ঢাকা-টঙ্গী, টঙ্গী-ঢাকা এবং ১৩ জানুয়ারি লাকসাম-টঙ্গী বিশেষ ট্রেন চলবে। ১৪ জানুয়ারি প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন ভোর ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আপ মোনাজাত বিশেষ ৪ জোড়া এবং টঙ্গী-ময়মনসিংহ বিশেষ ২ জোড়া, ঢাকা-টঙ্গী ৪ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী সব ট্রেন প্রায় ৪মিনিট পর্যন্ত টঙ্গী ষ্টেশনের দাঁড়াবে। সাপ্তাহিক বন্ধের সকল ট্রেনও ওই সময়ে চলাচল করবে।
মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম : ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রথম পর্বে ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। গাজীপুর সিভিল সার্জন ডাঃ সৈয়দ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘গাজীপুর সিভিল সার্জন টঙ্গী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালকে ইজতেমার জন্য অস্থায়ীভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, বক্ষব্যাধি/ এ্যাজমা ইউনিট, হৃদরোগ ইউনিট, ট্রমা (অর্থোপেডিক) ইউনিট, বার্ণ ইউনিট, ডায়রিয়া ইউনিট, স্যানিটেশন টিম এবং ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও চক্ষু, মেডিসিন ও সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসক রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।
ইজতেমায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা : টঙ্গী বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম রব্বানী জানান, ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রিড ও টঙ্গী নিউ গ্রিডকে বরাবরের মতোই মোট ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে করে একটি গ্রিড অকেজো হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত না হয়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪ টি ১১ কেভি ফিডার লাইন ও ২১ টি বিতরণ কেন্দ্র করা হয়েছে। হঠাৎ কোন কারনে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লে সাথে সাথে যাতে বদল করা যায় তার জন্য স্ব স্ব স্থানে ৪টি সাব স্টেশন ও ৫ টি ট্রলি মাউন্টেন ট্রান্সফরমার রাখা হবে। অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসাবে ৪ টি জেনারেটর সব সময় প্রস্তুত থাকবে। এছাড়াও যে কোন সময় যেকোনো স্থানে দ্রুত অপারেশনের নিমিত্তে ইজতেমা ময়দানের
৭টি টুলসসহ লাইন ক্রু দল নিয়োজিত থাকবে।
পানি ও গ্যাস সরবরাহ : ইজতেমা আয়োজক তাবলিগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও ওয়াসা, তিতাসসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোও তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয় ওয়াসা ও তিতাস গ্যাস কোম্পানী সূত্রে জানা যায়, ইজতেমা ময়দানে ১৩ টি গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। ১৮.৫০কি.মি পাইপ লাইনের মাধ্যমে যা থেকে দৈনিক প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লক্ষ গ্যালন সুপেয় পানি মুসল্লিদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। এবারও নতুন করে ১ হাজার ২শ’ ৪০টিসহ প্রায় ৯ হাজার স্থায়ী টয়লেট, গোসল ও অজুখানা তৈরি ও মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া ওয়াসা কর্তৃপক্ষও তাদের গাড়ীর মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহ করবে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ইজতেমা ময়দানের বিদেশি মেহমানখানায় রান্না বান্নার প্রয়োজনীয় স্থানে ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তায় ধূলাবালি প্রতিরোধে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি ছিটানো হবে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ : ইজতেমা মাঠের উত্তরপার্শে নিউ মন্নু ফাইন কটন মিলস মাঠে টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি প্রতিবারের ন্যায় এবারও ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১২ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আসা অসুস্থ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিতরণ করবে। এছাড়াও টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাব, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ, ইবনে সিনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, র‌্যাব, ইমাম সমিতিসহ অর্ধশতাধিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরিকৃত স্টলে বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করবে। আজ (বৃহস্পতিবার) এসব স্টলগুলো উদ্বোধনকালে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশিদসহ রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
ইজতেমা কমিটি ও প্রশাসনের বক্তব্য : বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বি প্রকৌশলী মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম পর্বে অংশ গ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ময়দানে স্ব-স্ব খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩২ জেলার মুসল্লিা এবছর দুই দফায় ইজতেমায় অংশ নেবেন। প্রথম পর্বে ১৬ জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন। ইজতেমার আয়োজক তাবলীগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও ডেসকো, তিতাস, ওয়াসাসহ সরকারের সংশ্লি¬ষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোও তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ ফিরোজ তালুকদার জানান, টঙ্গীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতি বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই রোধসহ মাদক ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ এবং এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা বিধানে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণস্থানে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম জহুরুল আলম বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে ময়দানের আশপাশের অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া ভেজালমুক্ত খাদ্য পরিবেশন নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান বলেন, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সমন্বয়ে ১২টি কমিটি গঠনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা দুর্গন্ধ ও রোগজীবানুুমুক্ত রাখতে ১শ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। মশা মাছি তাড়াতে ২৬টি ফগার মেশিনে মশানাশক ওষুধ ¯েপ্র করা হচ্ছে এবং রাস্তার ধূলাবালি রোধ করার জন্য প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানি ছিটানো হবে। এছাড়াও ২১টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিনরাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চলবে।