তাবিথেই আস্থা রাখছে বিএনপি

আপডেটঃ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ১০, ২০১৮

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা হলেও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। তবে দুই বছর আগের এই নির্বাচনে লড়াইয়ে থাকা বিএনপির প্রার্থী সেই তাবিথ আউয়ালই পাচ্ছেন মেয়র নির্বাচনে বিএনপির টিকিট। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও দল ও জোটের মধ‌্যে জোর গুঞ্জন তিনিই হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের অভিন্ন এবং একক প্রার্থী।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, শনিবার ডিএনসিসির জন্য বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অভিন্ন প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও জোটের প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেওয়া বিষয়ে জোটের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে দ্রুত একটি সমাধানের কথা বলছেন জোট নেতারা।

ডিএনসিসি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। শনিবার রাতে জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। ওইদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এ ঘোষণা আসবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া নির্বাচনের সাতদিন আগে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে তা ডিএনসিসি নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে। নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধান করবো। নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী থাকবে।’

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। মঙ্গলবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ওই সিটিতে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। যদিও কারচুপির অভিযোগ তুলে মাঝপথে নির্বাচন থেকে সরে যায় বিএনপি।

প্রায় দুই বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালনের মধ্যেই গত বছর জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিসে আক্রান্ত আনিসুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ডিএনসিসিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চূড়ান্তকরণের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও দলের ভেতরের খবর পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রাক্তন সভাপতি আতিকুল ইসলামকে কাজ শুরু করতে বলেছেন দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাবিথ আউয়ালের নাম উচ্চারিত হলেও দলের নীতি নির্ধারণীয় পর্যায়ে এ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো আলোচনা হয়নি। মেয়র পদে তাবিথ ছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু এবং জোটের মিত্র আন্দালিব রহমান পার্থের নাম উঠে এসেছে।

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের ভাইস চেয়ারম‌্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল মেয়র পদের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। যদিও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। তবুও তরুণ, স্মার্ট আর সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে তাকে।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, তাবিথ আউয়াল মেয়র হলে আনিসুল হকের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন। সার্বিক দিক বিবেচনায় মেয়র পদে বিএনপির পতাকাবাহী হচ্ছেন তাবিথ আউয়ালই-এমনটাই বলছেন তারা। যদিও প্রার্থীতা চূড়ান্তকরণের  ক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তার ওপরই আস্থা রাখছেন দল ও জোটের নেতারা। তবে শেষ পর্যন্ত তাবিথের ওপরই যে আস্থা রাখতে চাইছে বিএনপি তার পক্ষেও বেশকিছু যুক্তি তুলে ধরেন তারা।

গত নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ওই সময়ে দলের কোনো পদে না থাকলেও এবার সর্বশেষ কাউন্সিলে তাকে নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।

এদিকে ডিএনসিসিতে মেয়র পদে তাবিথ ছাড়াও যে দু’জন আলোচনায় আছেন তার মধ্যে একজন আন্দালিব রহমান পার্থ। সোমবার রাতে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও পার্থকে মেয়র পদে চেয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতা কল‌্যান পার্টির চেয়ারম‌্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। যদিও পার্থ ওই সময়ে বলেছেন, নেত্রী (খালেদা জিয়া) যাকে মনোনয়ন দেবেন, সবাই তার হয়েই কাজ করবেন। যদিও জোটের ওই বৈঠকে খালেদা জিয়া এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে জোটের ভেতরের খবর, ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই তাবিথ আউয়ালকে জোটের প্রার্থী হিসেবে চাইছেন।

সোমবার রাতের ওই বৈঠকে জোটের শরিক দল জামায়াতের ইসলামী প্রার্থী দেওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেন অন্য শরিকরা। জোটের সঙ্গে আলোচনা না করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) প্রার্থী ঘোষণা দেওয়ায় ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের তোপের মুখে পড়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য আবদুল হালিম।  শেষ পর্যন্ত ডিএনসিসিতে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের বিষয়টি জোট প্রধান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর ছেড়ে দিয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করতে বলেছেন তারা।

সূত্র বলছে, মো. সেলিম উদ্দিনকে জামায়াতের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি এক জোট নেতা বৈঠকে তোলেন। পরে এ নিয়ে জোট নেতাদের প্রায় সবাই উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, জোটের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকের আগে কিভাবে জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করে। যেখানে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এ নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবদুল হালিম জোট নেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তিনি জোট নেতাদের আশ্বস্ত করেন, তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী দেয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা হলেও আলোচনা না করে কিছুই চূড়ান্ত করা হবে না। তবে এ নিয়ে বৈঠকে খালেদা জিয়া কোনো মন্তব্য করেননি।

২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জোট সূত্র। জোট নেতারা জানিয়েছেন, মেয়র পদে উপনির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দলীয় জোট। এই প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির জোটের শরিক ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ডিএনসিসিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জোটের বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০ দলীয় জোট একক ও অভিন্ন প্রার্থী দেবে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি জোটের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ব‌লেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে ২০ দলীয় জোট একক ও অভিন্ন প্রার্থী দেবে।

তিনি বলেন, ‘গুম খুনের আতঙ্কে জীবন থেকে জনগণ‌কে উদ্ধার করতে হবে। এজন্যই বিএন‌পি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০ দলীয় জোট একক ও অভিন্ন প্রার্থী নিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নেবে।’ নির্বাচন নি‌য়ে সরকার বিভ্রান্তি ছড়া‌চ্ছে এবং ষড়যন্ত্র কর‌ছে ব‌লেও অভি‌যোগ ক‌রেন তি‌নি।