রসিক নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি

আপডেটঃ ২:২৪ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

সি এন এ নিউজ,প্রতিবেদক : রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বৈষ্যম্যমূলক আচরণ করছে অভিযোগ করে সেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। অবাধ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েনের দাবি করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

‘রংপুর সিটি নির্বাচনে এখনও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ এখনও করতে পারেনি ইসি। নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে ভোটাররা এখনও ভয়ভীতির মধ্যেই রয়েছেন। এমন অবস্থায় রংপুর সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না-এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে’, বলেন তিনি।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ম্যাজিট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের ঊর্দ্ধতন ব্যক্তিদের মানসিকতা স্বাধীন না হলে কমিশনের আইনি স্বাধীনতা কোনো কাজে আসে না।’

‘ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩টিই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বারবার আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও ইসি তার বিরদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না’, অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা গোটা এলাকায় ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে বলে প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে শুরু থেকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে তাও নজিরবিহীন। নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই-ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পেছনের দরজা দিয়ে জেতানোর কোনো চেষ্টা করলে জনগণ সেটির উপযুক্ত জবাব দেবে।’

বেসিক ব্যাংক দুর্নীতিতে জড়িতদের এড়িয়ে যাচ্ছে দুদক
বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতিতে জড়িতরা ‘ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায়’ দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের আইনের আওতায় আনতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী।

‘বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির বিষয়টি জনসম্মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা জড়িত থাকায় দুদক বরাবরই সেটি এড়িয়ে গেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৭টি মামলা হলেও মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সর্বমহলে একটি কথা রটনা আছে-সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের লোকদের আত্মীয়স্বজনরা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত। শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, রাজকোষ কেলেঙ্কারিসহ সমস্ত আর্থিক খাতে যে লুটপাট হয়েছে এর পিছনে সরকারের রাঘব বোয়ালরা জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার ব্যাংক লুটপাটে জনগণের অর্থ আত্মসাতের কথা জাতির সামনে তুলে ধরলেও অত্যুগ্র ক্ষমতার প্রভাবে সরকার বরাবরই তাতে কর্ণপাত করেনি। যদিও উচ্চ আদালতের নির্দেশে এখন নতুন করে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে দুদক। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আমরা বারবার যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছিলাম তা ছিল তথ্যমূলক।’

ব্যাংক লুটের লাখ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে গেলেও দুদক এসব বিষয়ে নির্বিকার রয়েছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। লুটেরাদের একদিন জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।’

গুম আতঙ্ক থামছে না
সম্প্রতি সময়ে গুমের মতো ঘটনা বেড়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘এবার রাজধানী থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ভিয়েতনামে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এ ঘটনায় তার মেয়ে ধানমন্ডি থানায় ডায়েরি করলেও এখনও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা মারুফ জামানকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডি থানায় জিডি করেন। সারাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত নিখোঁজের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এটি।’

তিনি বলেন, ‘গুমের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, অনেকে ইচ্ছা করেই আত্মগোপনে গিয়ে সরকারকে বিব্রত করছেন। গুমকে বৈধতা দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্বীকারোক্তিমুলক। তার বক্তব্যেই প্রমাণিত হয়-এবারের আওয়ামী সরকারের আমলে সকল গুমের জন্য সরকারই দায়ী।’